ফায়ারওয়াল কি ? ফায়ারওয়াল কিভাবে কাজ করে ?

বর্তমান সময়ে নিরাপত্তা সবাই চায়, আবার যখন এই নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের কম্পিউটার এবং মোবাইলের ক্ষেত্রে আসে, তখন এটি আরও বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে । কারণ, বর্তমানে হ্যাকাররা প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকারক প্রোগ্রাম, যেমন- ভাইরাস, ট্রোজান ইত্যাদি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিচ্ছে । যার কারণে আমাদের অনলাইন নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে । আমরা যদি এটির ক্ষেত্রে সামান্য ভুল করি, তাহলে হ্যাকাররা যে কোনও সময় আমাদের মোবাইল বা কম্পিউটার হ্যাক করতে পারে এবং সেটি সম্পর্কে আমরা জানতেও পারব না । তাই আপনি যদি অনলাইনে বা ইন্টারনেটে সুরক্ষিত থাকতে চান, তাহলে ফায়ারওয়াল কী সে সম্পর্কে জানা উচিত । কারণ Firewall একটি প্রাইভেট নেটওয়ার্ককে সেফ এবং সিকিউর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আপনাদের সাথে ফায়ারওয়াল কি, ফায়ারওয়াল কিভাবে কাজ করে, ফায়ারওয়ালের ইতিহাস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব ।

ফায়ারওয়াল কি – Firewall কি

কম্পিউটিংয়ে, ফায়ারওয়াল হল একটি নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা পূর্বনির্ধারিত সিকিউরিটি রুলসের উপর ভিত্তি করে, নেটওয়ার্কে আসা ইনকামিং এবং আউটগোয়িং ট্র্যাফিক পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে ।

আরও সহজ ভাষায় বললে, ফায়ারওয়াল হল একটি কম্পিউটার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা হ্যাকার, ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার থেকে সব ধরনের কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্ককে প্রোটেক্ট করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে ।

এর মেইন উদ্দেশ্য হল, আপনার ইন্টারনাল নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট থেকে আসা ট্রাফিকের মধ্যে একটি বাধা স্থাপন করা, যাতে ভাইরাস এবং হ্যাকারদের মতো খারাপ ট্র্যাফিক ডিটেক্ট এবং প্রোটেক্ট করা যায় ।

ফায়ারওয়ালের ইতিহাস

“Firewall” শব্দটি ১৯৮০ এর দশকের শেষের দিকে প্রথম নেটওয়ার্কিং টেকনোলোজিতে ইউজ করা হয়েছিল ।

এখন পর্যন্ত মোট তিনটি প্রজন্মের ফায়ারওয়াল রয়েছে—প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ।

প্রথম-প্রজন্মের ফায়ারওয়াল, প্যাকেট ফিল্টার ফায়ারওয়াল (Packet Filter Firewall) নামেও পরিচিত । এটি ১৯৮৮ সালে প্রথম চালু হয়েছিল । ডিজিটাল ইকুইপমেন্ট কর্পোরেশনের প্রকৌশলীরা এই ফায়ারওয়াল তৈরি করেছিলেন । বিল চেসউইক এবং স্টিভ বেলোভিন, এই ফায়ারওয়ালের মডেল তৈরি করেছিলেন । এটি ইন্টারনেটে, এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে স্থানান্তরিত হওয়া প্যাকেটগুলি চেক করে । যদি প্যাকেটটি, প্যাকেট ফিল্টারের নিয়মগুলি পূরণ না করে, তাহলে এটি প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং সেই সাথে এর প্রেরক একটি এরর মেসেজ পাবেন ৷

১৯৮৯ এবং ১৯৯০ সালের মধ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের ফায়ারওয়ালগুলি চালু করা হয়েছিল । প্রথমটি AT&T বেল ল্যাবরেটরিজের কর্মচারী জনার্দন শর্মা, ডেভ প্রেসেটো এবং ক্ষিতিজ নিগম তৈরি করেছিলেন । এটি “সার্কিট-লেভেল ফায়ারওয়াল” নামেও পরিচিত । এগুলি কম্পিউটার এবং নেটওয়ার্কিং টেকনোলজির অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলে ।

অবশেষে, তৃতীয় প্রজন্মের ফায়ারওয়াল, যা আমরা বর্তমানে ইউজ করি । ওয়েই জু, মার্কাস রানুম এবং পিটার চার্চইয়ার্ড ফায়ারওয়াল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেন, যা ফায়ারওয়াল টুলকিট (FWTK) নামে পরিচিত । ১৯৯৪ সালের জুন মাসে, ওয়েই জু আইপি ফিল্টার এবং সকেট যোগ করে FWTK কে আরও উন্নত করেন । পরবর্তীতে এটি Gauntlet firewall নামে বাজারে আসে । ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে Gauntlet firewall সেরা ফায়ারওয়ালগুলির মধ্যে একটি হয়ে ওঠে ।

এই ফায়ারওয়াল গুলো ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্ক ফোর্স (IETF) দ্বারা নির্ধারিত মান ফলো করে । এই ফায়ারওয়ালগুলো পূর্বের ফায়ারওয়ালগুলো থেকে ভিন্ন, এগুলো খুবই ইউজার ফ্রেন্ডলী । এই ধরনের ফায়ারওয়ালগুলো সেটাপ করার জন্য কোডিং জানার প্রয়োজন হয় না ।

আরও পড়ুনঃ ডার্ক ওয়েব কি ? ডার্ক ওয়েবে কী ঘটে ?

ফায়ারওয়াল কত প্রকার

ফায়ারওয়াল প্রধানত তিন প্রকার-

  • সফটওয়্যার ফায়ারওয়াল
  • হার্ডওয়্যার ফায়ারওয়াল
  • প্রক্সি ফায়ারওয়াল

সফটওয়্যার ফায়ারওয়াল – নতুন প্রজন্মের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম গুলোতে ( যেমন Windows 7 , 8, 10, 11, XP ইত্যাদি ) ফায়ারওয়াল বিল্ট ইন থাকে এবং এটি ডিফল্টরূপে “অন” করা থাকে, যাতে কম্পিউটার সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে । কম্পিউটারের সেটিংস দেখে, আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী এটি পরিবর্তন করতে পারবেন । এছাড়াও, অনেক অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের (যেমন Avast, Norton, McAfee ইত্যাদি) নিজস্ব ফায়ারওয়াল রয়েছে । সফটওয়্যার ফায়ারওয়ালগুলি হার্ডওয়্যার ফায়ারওয়ালের থেকে কম সুরক্ষিত, কারণ সফটওয়্যার ফায়ারগুলো হ্যাক হতে পারে ।

হার্ডওয়্যার ফায়ারওয়াল – হার্ডওয়্যার ফায়ারওয়াল হল একটি হার্ডওয়্যার ডিভাইস, যা নেটওয়ার্কের ইনকামিং এবং আউটগোয়িং ট্র্যাফিক অ্যানালাইসিস করে এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ ডিটেক্ট হলে সাথে সাথে সেই ট্রাফিক ব্লক করে । বর্তমানে প্রায় সমস্ত রাউটারে একটি হার্ডওয়্যার ফায়ারওয়াল থাকে । ফায়ারওয়াল, একই রাউটারের সাথে কানেক্টেড সমস্ত কম্পিউটারের সাথে কাজ করে । হার্ডওয়্যার ফায়ারওয়াল, সফটওয়্যার ফায়ারওয়ালের থেকে বেশি সিকিউর । এটি নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্টেড প্রতিটি ডিভাইসকে প্রোটেক্ট করে ।

প্রক্সি ফায়ারওয়াল – প্রক্সি ফায়ারওয়ালকে সবচেয়ে বেশী নিরাপদ ফায়ারওয়াল হিসেবে মনে করা হয় । এই ধরনের ফায়ারওয়াল, ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক প্রোটোকল থেকে আসা ট্র্যাফিকের উপর নজর রাখে । প্রক্সি ফায়ারওয়ালের নিজস্ব আইপি এড্রেস থাকে । যখন প্রক্সি ফায়ারওয়াল, কোন ইন্টারনেট রিসোর্সের জন্য রিকোয়েস্ট পায়, তখন এটি প্রথমে তার লোকাল ক্যাশে ডেটা প্যাকেটের সন্ধান করে, যদি এটি তার লোকাল ক্যাশে, প্যাকেটটি খুঁজে পায়, তবে এটি ইন্টারনেটে রিকোয়েস্ট না পাঠিয়ে সরাসরি ডেটা প্যাকেটটি তার লোকাল ক্যাশ থেকে সরবরাহ করে ।

নিম্নলিখিত আরও কিছু ধরনের ফায়ারওয়াল আছে:-

প্যাকেট ফিল্টার ফায়ারওয়াল:- এই ফায়ারওয়াল OSI মডেলের Network লেয়ারে কাজ করে । এই ফায়ারওয়াল ইনকামিং এবং আউটগোয়িং প্যাকেটগুলিকে এনালাইসিস করে এবং এটি শুধুমাত্র সেই প্যাকেটগুলিকে এর মধ্য দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়, যা ফায়ারওয়ালের রুলস অনুযায়ী সঠিক । এই ফায়ারওয়াল প্রতিটি প্যাকেট আলাদা আলাদা ভাবে চেক করে এবং তারপর সিদ্ধান্ত নেয়, সেই প্যাকেট ফরোয়ার্ড করবে কি না । 

২ ধরণের প্যাকেট ফিল্টার ফায়ারওয়াল রয়েছে যা নিচে দেওয়া হল –

  • স্টেটলেস প্যাকেট ফিল্টার: – এই ধরনের ফায়ারওয়ালে প্যাকেট সম্পর্কে কোন তথ্য থাকে না । এই ধরনের ফায়ারওয়ালকে স্ট্যাটিক ফায়ারওয়ালও বলা হয় । এই ফায়ারওয়ালগুলি খুব বেশী কার্যকর নয় ।
  • স্টেটফুল প্যাকেট ফিল্টার:- এই ধরনের ফায়ারওয়াল প্যাকেট সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে । এই ধরনের ফায়ারওয়ালকে ডাইনামিক ফায়ারওয়ালও বলা হয় । এই ফায়ারওয়ালগুলি স্ট্যাটিক ফায়ারওয়ালের তুলনায় বেশী নিরাপত্তা প্রদান করে ।

অ্যাপ্লিকেশন লেভেল গেটওয়ে ফায়ারওয়াল: – এটিকে অ্যাপ্লিকেশন প্রক্সিও বলা হয় । এই ধরনের ফায়ারওয়াল অ্যাপ্লিকেশনের তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্যাকেটকে পাস করে দেয় অথবা প্যাকেটকে আটকে দেয় । এই ধরনের ফায়ারওয়াল এক ধরনের প্রক্সি সার্ভার, যা অ্যাপ্লিকেশনকে প্রক্সি প্রোভাইড করে ।

সার্কিট-লেভেল গেটওয়ে ফায়ারওয়াল:- এই ধরনের ফায়ারওয়াল OSI মডেলের সেশন লেয়ারে কাজ করে । এই ফায়ারওয়াল টিসিপি (ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রোটোকল) বা ইউডিপি (ইউজার ডেটাগ্রাম প্রোটোকল) এর সিকিউরিটি প্রোভাইড করে । এই ফায়ারওয়াল টিসিপি বা ইউডিপি-তে প্রতিটি প্যাকেট এনালাইসিস করে এবং ফায়ারওয়াল এর রুলস অনুযায়ী প্যাকেটগুলি পাস করে অথবা আটকে দেয় ।

ফায়ারওয়াল কিভাবে কাজ করে

ফায়ারওয়াল হল এমন একটি প্রযুক্তি, যা কম্পিউটারকে প্রটেক্ট করতে ব্যবহৃত হয় । এটি সফটওয়্যার প্রোগ্রাম বা হার্ডওয়্যার ডিভাইস আকারে থাকে এবং আমাদের ইন্টারনাল নেটওয়ার্কে থাকা কম্পিউটারকে রক্ষা করে । ফায়ারওয়াল একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী বা প্রাচীর হিসাবে কাজ করে ।

নিরাপত্তা বেষ্টনী বা প্রাচীরের কাজ হল, ইউজারের অনুমতি ছাড়া কম্পিউটারের ভেতরে কোনো ডাটা প্রবেশ করতে পারে না । আবার কোন ডাটা বাইরেও যেতে পারে না ।

ধরুন একটি অফিস বা বাড়িতে কয়েকটি কম্পিউটার এবং অন্যান্য ডিভাইস (যেমন-মোবাইল, ট্যাব) রয়েছে । এবং সেগুলো ওয়াইফাই এর মত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একে অপরের সাথে কানেক্ট অবস্থায় আছে । এই ধরনের নেটওয়ার্ককে প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনাল নেটওয়ার্ক বলা হয় ৷ যখনই কোনও ইউজার, এই প্রাইভেট নেটওয়ার্কে থাকা যে কোন কম্পিউটার বা ডিভাইসের মাধ্যমে ইন্টারনেটের মতো কোনও পাবলিক নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্ট হয়, তখন সেই কম্পিউটার বা ডিভাইসের মাধ্যমে, ইন্টারনেটে থাকা ভাইরাস বা ম্যালাওয়ার প্রাইভেট নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারে ।

ফায়ারওয়াল, এই প্রাইভেট নেটওয়ার্ক এবং পাবলিক নেটওয়ার্কের মধ্যে একটি নিরাপত্তা প্রাচীর বা বেস্টনী হিসাবে কাজ করে । এটি মাঝখানে থেকে উভয় পক্ষের নেটওয়ার্ককে প্রোটেক্ট করে । অর্থাৎ ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে থাকা ভাইরাস ইন্টারনেটে যেতে দেয় না এবং ইন্টারনেট থেকে কোন ধরনের ম্যালিসিয়াস প্রোগ্রাম বা ভাইরাস ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে ঢুকতে বাধা দেয় ।

ফায়ারওয়াল দ্বিমুখী সুরক্ষা প্রদান করে । যখনই ইউজার, ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোন রিকোয়েস্ট পাঠায়, তখন সেই অনুরোধটি প্রথমে ফায়ারওয়াল ডিভাইস বা সফটওয়্যারে যায় ।

ফায়ারওয়াল, সেই রিকোয়েস্টের প্রেক্ষিতে ডেটা প্যাকেট এবং তার সাথে থাকা নেটওয়ার্ক আইডি মনে রাখে । যখন সেই রিকোয়েস্টের রেজাল্ট ইন্টারনেট থেকে পাবলিক নেটওয়ার্কে ফিরে আসে, তখন ফায়ারওয়াল তাকে মাঝখানে আটকে দেয় এবং ইন্টারনেট থেকে আসা ডেটা প্যাকেটগুলি পরীক্ষা করে এবং ব্যবহারকারীর পূর্বের নির্ধারিত রুলসের সাথে মিলিয়ে দেখে । এছাড়াও, থার্ড পার্টি অ্যাপস এবং ভাইরাস ইত্যাদি চেক করে দেখার পরে, সেটিকে ইন্টারনাল নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা অনুমতি দেয় । এইভাবে ফায়ারওয়াল আমাদের প্রাইভেট নেটওয়ার্ককে, ইন্টারনেটে থাকা ভাইরাস, ম্যালাওয়ার এবং হ্যাকারদের থেকে ।

অনেক সময় আমরা নিজেদের অজান্তেই এমন কিছু ওয়েবসাইটে প্রবেশ করি, যেখানে থেকে অটোমেটিকভাবে আমাদের কম্পিউটারে অবাঞ্ছিত ফাইল এবং সফটওয়্যার ডাউনলোড শুরু হয়ে যায় এবং এর মাধ্যমে কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে । ফায়ারওয়াল এই ফাইলগুলোকেও ডাউনলোড করতে বাধা দেয় ।

আরও পড়ুনঃ Ransomware কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে?

ফায়ারওয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরাসের মধ্যে পার্থক্য কী

অনেকের কাছেই ফায়ারওয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরাস কাছাকাছি মনে হয় । নিচে ফায়ারওয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরাসের মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হল –

গুণাবলী ফায়ারওয়াল অ্যান্টি-ভাইরাস
সংজ্ঞা ফায়ারওয়াল হল একটি বিশেষ ধরনের নেটওয়ার্ক বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা নেটওয়ার্কে, নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটর দ্বারা সেট করা নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ইনকামিং এবং আউটগোয়িং ট্র্যাফিক পর্যবেক্ষণ এবং ফিল্টার করে । অ্যান্টিভাইরাস হল এক ধরণের প্রোগ্রাম, যা সিস্টেমে থাকা ফাইলগুলিকে ক্রমাগত সার্চ করে এবং ভাইরাস ফাইলগুলিকে ডিটেক্ট এবং রিমুভ করে । 
গঠন ফায়ারওয়াল, হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার দুই ধরণেরই হতে পারে আর অন্যদিকে অ্যান্টিভাইরাস শুধুমাত্র সফটওয়্যার আকারে পাওয়া যায় ।
রুলস ফায়ারওয়াল ইউজ করার জন্য, ইউজারকে প্রথমে ফায়ারওয়ালে রুলস ক্রিয়েট করতে হয় । যদি রুলস ক্রিয়েট না করা হয় তাহলে ফায়ারওয়াল কোন কাজ করবে না । আর অ্যান্টিভাইরাসে কোনো ধরনের রুলস ক্রিয়েট করার প্রয়োজন নেই । 
দাম ফায়ারওয়ালের দাম অনেক বেশি । অ্যান্টিভাইরাসের দাম ফায়ারওয়ালের তুলনায় অনেক কম । 
ইন্সটলেশন ফায়ারওয়াল ইন্সটল করা খুবই কঠিন । অ্যান্টি-ভাইরাস ইন্সটল করা খুবই সহজ ।
দায়িত্ব বা উদ্দেশ্য একটি ফায়ারওয়াল একটি প্রাইভেট নেটওয়ার্কের সমস্ত ট্র্যাফিক পর্যবেক্ষণ এবং ফিল্টার করে । অন্যদিকে অ্যান্টি-ভাইরাস, একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটারের সমস্ত ভাইরাস ডিটেক্ট এবং ডিলিট করে ।
পেরিফেরাল ডিভাইস সুরক্ষা যদি কোন ভাইরাস ফাইল পেরিফেরাল ডিভাইসে থাকে, তাহলে ফায়ারওয়াল ডিভাইসটিকে রক্ষা করতে পারে না । অন্যদিকে, পেরিফেরাল ডিভাইসে যদি কোনও ভাইরাস থেকে যায়, তাহলে অ্যান্টি-ভাইরাস তা ডিটেক্ট এবং ডিলিট করতে পারে ।
হুমকি ফায়ারওয়াল প্রধানত কম্পিউটারকে নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত এট্যাক থেকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখে ।  অ্যান্টি-ভাইরাস প্রধানত ভাইরাস থেকে কম্পিউটারকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখে ।

ফায়ারওয়াল ব্যবহার করার সুবিধা

  • ফায়ারওয়াল যেকোনো কম্পিউটারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । এটি কম্পিউটারকে ক্ষতিকারক ভাইরাস, ম্যালাওয়্যার এবং বিভিন্ন ধরনের স্প্যামিং অ্যাটাক থেকে রক্ষা করে ব্যক্তিগত ডেটা সিকিউর রাখে ।
  • ফায়ারওয়াল, কম্পিউটারকে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত সকল কম্পিউটারকে সুরক্ষিত রাখে ।
  • কোন নতুন প্রোগ্রাম ইনস্টল করার আগে, ফায়ারওয়াল তার নিরাপত্তা পরীক্ষা করে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে এটি প্রোগ্রাম ইনস্টল করার অনুমতি প্রদান করে ।
  • ফায়ারওয়াল, নেটওয়ার্কে আসা ট্র্যাফিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে ।
  • ফায়ারওয়াল ‘ট্রোজান হর্স’ ভাইরাস ব্লক করতে সাহায্য করে । 
  • এছাড়াও, কম্পিউটারে উপস্থিত থাকা ফায়ারওয়াল, আপনার কম্পিউটারকে হ্যাকারদের হাত থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে ।
  • ফায়ারওয়াল, তথ্য ফাঁস হওয়া থেকে প্রোটেক্ট করে ।
  • হ্যাকারদের থেকে ডিভাইসগুলিকে প্রোটেক্ট করে এবং আপনার অনুমতি ব্যতিত কেউ দূর থেকে আপনার কম্পিউটারে অ্যাক্সেস করতে পারবে না ।
  • ফায়ারওয়াল, ডিভাইসকে ট্রোজান এবং কীলগার থেকেও প্রোটেক্ট করে
  • এটি গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা প্রদান করে

ফায়ারওয়ালের অসুবিধা

  • ফায়ারওয়াল রক্ষণাবেক্ষণ, কনফিগারেশন এবং মনিটরিংয়ের জন্য একজন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করার প্রয়োজন হতে পারে । কোন ছোট নেটওয়ার্ক বা কোম্পানির জন্য, ফায়ারওয়াল রক্ষণাবেক্ষণ করা খুব বেশী কঠিন কিছু নয় । কিন্তু বড় নেটওয়ার্ক বা বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে, ফায়ারওয়াল রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য একজন এক্সপার্ট নিয়োগ করতে হয় ।
  • ফায়ারওয়ালের কিছু হাই-টেক ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার আটকানোর ক্ষমতা নেই । এই ধরনের ভাইরাসগুলো দেখতে নিরাপদ মনে হয়, কিন্তু এগুলো আসলে কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর । তাই ফায়ারওয়াল ইউজ করার সাথে সাথে, আপনাকে অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার এবং অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হতে পারে ।
  • ফায়ারওয়াল ইনস্টল করার জন্য আপনাকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হতে পারে ।
  • ফায়ারওয়াল ব্যবহার করলে সামগ্রিক কর্মক্ষমতার উপর কিছুটা প্রভাব পড়ে, কারণ প্রতিটি প্যাকেট ইন্টারনাল নেটওয়ার্কে পাঠানোর আগে ফায়ারওয়াল দ্বারা চেক করা হয় । যার কারণে সিস্টেম কিছুটা স্লো কাজ করে ।

শেষ কথা

হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার যাই হোক না কেন, কম্পিউটারে ফায়ারওয়াল ইউজ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কারণ ইন্টারনেটে অনেক অনেক ক্ষতিকারক সাইট রয়েছে, যেগুলো আমাদের নিজেদের অজান্তেই আমাদের পার্সোনাল এবং ইম্পরট্যান্ট ডেটা চুরি করতে পারে । তাই সব সময় আপনার কম্পিউটারের ফায়ারওয়াল অন রাখুন । আজকের আর্টিকেলে আমরা আপনাদেরকে, ফায়ারওয়াল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি । আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান ।

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment