অনলাইনে ইনকাম করার ৫০ টি উপায়

বর্তমান সময়ে প্রায় প্রত্যেকেই স্মার্টফোন ব্যবহার করে, তবে এটি ব্যবহারের পদ্ধতি বা প্রয়োজন প্রত্যেকের জন্য আলাদা ।উদাহরণস্বরূপ, কেউ গেম খেলতে, কেউ সিনেমা দেখতে, আবার কেউ ফটোগ্রাফির জন্য অথবা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার জন্য । আবার কিছু মানুষ আছে যারা অনলাইন থেকে টাকা আয়ের জন্য তাদের স্মার্টফোন ব্যবহার করে । আর আজকের এই লেখাটি বিশেষভাবে তাদের জন্য যারা অনলাইন থেকে ইনকাম করতে চায়। কারণ এই আর্টিকেলে আমরা অনলাইনে ইনকাম করার ৫০টি উপায় সম্পর্কে বলব। যার মাধ্যমে আপনি ঘরে বসে অনলাইনে আয় করতে পারবেন। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক অনলাইন ইনকামের সেরা ৫০ পদ্ধতি সম্পর্কে ।

অনলাইনে ইনকাম করার ৫০ টি উপায়

আপনারা যদি মনে করে থাকেন যে অনলাইনে অর্থ উপার্জন করা খুব সহজ তবে আপনি ভুল । কারণ এর জন্য আপনাকে অনেক পরিশ্রম করতে হবে এবং সেই সাথে ধৈর্য ধরতে হবে। এছাড়াও প্রচুর সময় ও শক্তি ব্যয় করতে হয়। তবেই আপনারা অনলাইন থেকে ভাল পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারবেন ।

তবে একবার উপার্জন শুরু হলে, আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকবেন তখনও আপনার অর্থ উপার্জন হতে থাকবে। তবে সেই সময় পর্যন্ত আপনাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। আজকের এই আর্টিকেলে, আমরা এমন 50টি উপার্জনের উৎস সম্পর্কে আলোচনা করব। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে ঘরে বসে অনলাইনে টাকা উপার্জন করবেন।

অনলাইন ইনকামের 50 টি পদ্ধতি

অনলাইন ইনকাম করার 50টি পদ্ধতি নিচে দেওয়া হল –

01. ব্লগিং

অনলাইন উপার্জন করার জন্য ব্লগিং হল সেরা অপশন গুলোর মধ্যে একটি ।  ব্লগিং এর সাহায্যে আপনি প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনাকে আর্টিকেল বা কন্টেন্ট লিখতে জানতে হবে। আপনি যদি লেখালেখি তে পারদর্শী হন এবং আপনি যদি নিয়মিত আর্টিকেল লিখতে পারেন, তাহলে ব্লগিং আপনার জন্য সেরা অপশন।

ব্লগিং থেকে টাকা উপার্জন করতে হলে, আপনার একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট থাকতে হবে। এর জন্য প্রথমে আপনাকে একটি হোস্টিং প্ল্যান এবং একটি ডোমেইন নেম কিনতে হবে । এবং আপনার নিজের ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে । আপনার যদি বাজেট না থাকে তবে আপনি প্রথম অবস্থায় ফ্রি হোস্টিং দিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন। তবে অবশ্যই একটি TLD অর্থাৎ টপ লেভেল ডোমেইন নেম কিনুন। কারণ এই টপ লেভেল ডোমেইনের অনেক উপকারিতা রয়েছে।

ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরি করার পরে, নিয়মিত আর্টিকেল লিখুন এবং আপনার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করুন। সেই সাথে আপনার ব্লগে ঠিক ভাবে এসইও করুন । ব্লগে যখন পর্যাপ্ত কন্টেন্ট (প্রায় 25-30টি আর্টিকেল) হয়ে যাবে, তখন গুগল অ্যাডসেন্সের জন্য আবেদন করবেন । এবং আপনি অ্যাডসেন্স অনুমোদন পাওয়ার পরে আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন এড করুন এবং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন শুরু করুন। যদিও মোট আয়ের মাত্র 20 থেকে 30% আসে অ্যাডসেন্স থেকে। আর বাকি 70-80% ইনকাম আসে স্পনসরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, মার্চেন্ডাইজ, স্থানীয় বিজ্ঞাপন ইত্যাদি থেকে। এজন্য ব্লগের রেপুটেশন এবং কনটেন্টের কোয়ালিটি অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ। তাই আপনার ব্লগের কন্টেন্ট এবং ব্লগের রেপুটেশন যদি ভাল থাকে তাহলে গুগল এডসেন্সের পাশাপাশি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, মার্চেন্ডাইজ, স্থানীয় বিজ্ঞাপন ইত্যাদির মাধ্যমেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

02. ইউটিউব

ইউটিউব একটি দুর্দান্ত অপশন, যার মাধ্যমে আপনি ঘরে বসে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তবে ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য আপনার কিছু জিনিসের প্রয়োজন হবে। যেমন ক্যামেরা, মাইক, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ, ট্রাইপড, লাইটস, এডিটিং সফটওয়্যার ইত্যাদি। কিন্তু এগুলোর পাশাপাশি ভিডিও মেকিং এবং এডিটিং সম্পর্কেও আপনার ভাল জ্ঞান থাকতে হবে। তবেই আপনি ভালো ভিডিও বানাতে পারবেন এবং সেগুলো ইউটিউবে পাবলিশ করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়াও , Youtube কমিউনিটি গাইডলাইন এবং কপিরাইট এর মত বিষয়গুলি সম্পর্কে ভাল ধারনা থাকতে হবে ।

ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে হলে প্রথমে আপনাকে একটি ইউটিউব চ্যানেল ক্রিয়েট করতে হবে । এবং সেই চ্যানেল টিকে সুন্দর করে কাস্টোমাইজ করতে হবে। অর্থাৎ চ্যানেলের যথাযথ সেটিংস করতে হবে। এরপর চ্যানেলে নিয়মিত কোয়ালিটিফুল ভিডিও আপলোড করুন। এবং প্রতিটি ভিডিওর সঠিক SEO করুন। কারণ এই প্রতিযোগিতার যুগে আপনার Youtube চ্যানেলের ভিডিওর SEO করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । সেজন্য আপনার ভিডিওর এসইও এবং মার্কেটিং এর দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিন।

এরপর যখন আপনার চ্যানেলে 1000 সাবস্ক্রাইবার এবং 4000 ঘন্টা ওয়াচটাইম সম্পূর্ণ হবে তখন আপনি গুগল এডসেন্সের জন্য এপ্লাই করবেন । এরপর গুগল আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি পর্যালোচনা করবে এবং আপনার বিষয়বস্তুর উপর ভিত্তি করে এটি অনুমোদন দেবে বা প্রত্যাখ্যান করে। এডসেন্স অনুমোদন পেলে আপনি আপনার চ্যানেলের ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

ব্লগিং এর মত, আপনি এডসেন্স ছাড়াও অনেক উপায়ে Youtube চ্যানেল থেকে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। অর্থাৎ গুগল অ্যাডসেন্সই ইউটিউব থেকে টাকা ইনকাম করার একমাত্র অপশন নয়। আপনি স্পনসরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এবং লোকাল বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেও ইউটিউব থেকে ইনকাম করতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা অনেক বেশী হতে হবে।

03. রিসেলিং

রিসেলিং এর সাহায্যেও আপনি ঘরে বসেই অনলাইনে টাকা আয় করতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনার অডিয়েন্স থাকতে হবে । অর্থাৎ আপনার কিছু ব্লগ, ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট (ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি) থাকা প্রয়োজন। আপনি যদি Facebook, Twitter, Instagram, WhatsApp ইত্যাদিতে নিয়মিত এক্টিভ থাকেন এবং আপনার এসব একাউন্টে যদি বেশী পরিমাণে ফলোয়ার থাকে তাহলে আপনি রিসেলিং করে ভাল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

রিসেলিং থেকে টাকা উপার্জন করতে, আপনাকে একজন রিসেলার হতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে ভালো কোন রিসেলার কোম্পানির সদস্য হতে হবে। রিসেলার হওয়ার পর, আপনার অনলাইন শপে পণ্য এড করুন। সেই সাথে পণ্যের মূল্য এড করুন, আপনার কমিশন যোগ করুন এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে সেই পন্যগুলোর লিঙ্ক শেয়ার করুন । এখন আপনার লিঙ্ক থেকে যে পণ্য বিক্রি হবে, আপনি সেইখান থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কমিশন হিসেবে পাবেন।

উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি ৩০০ টাকার একটি শার্টে ১00 টাকা কমিশন চান । তাহলে আপনাকে সেই শার্টের দাম পরিবর্তন করে ৪00 টাকা করতে হবে। আর এরপর সেই লিংক আপনার সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টে শেয়ার করতে হবে। এর পরে, আপনার লিংক থেকে সেই শার্টের যতগুলো ইউনিট বিক্রি হবে, আপনি প্রতিটি ইউনিটের জন্য ১00 টাকা কমিশন পাবেন। যদি ৫টি শার্ট বিক্রি হয় তাহলে ৫×১00 = ৫00 টাকা কমিশন হিসেবে পাবেন। এভাবে আপনি যে পরিমাণ পণ্য বিক্রি করতে পারবেন সেই অনুযায়ী আপনি কমিশন পাবেন।

04. ফ্রিল্যান্সিং

ফ্রিল্যান্সিং এর অর্থ হল স্বাধীনভাবে কাজ করা। অর্থাৎ কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের আন্ডারে কাজ না করে নিজের পর্যায়ে কাজ করা। এবং আপনার মেধার উপর ভিত্তি করে অর্থ উপার্জন করা । এটি আসলে একটি সন্তোষজনক কাজ যেখানে ভাল অর্থ উপার্জন করার পাশাপাশি কাজের সন্তুষ্টিও পাওয়া যায়। অর্থাৎ একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে আপনি আপনার পছন্দের কাজের মাধ্যমে ভাল অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং থেকে অর্থ উপার্জন করার জন্য প্রথমে একটি ভাল ফ্রিল্যান্সার প্ল্যাটফর্মে (যেমন – ফ্রিল্যান্সার, আপওয়ার্ক, ফাইভার ইত্যাদি) যোগ দিন । এবং আপনার সেই প্ল্যাটফর্মে আপনার প্রোফাইল তৈরি করুন। অর্থাৎ, এখানে আপনার কাজের দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং কাজ সম্পর্কে বলুন। এবং আপনার সেরা কাজের স্যাম্পল আপলোড করুন। যাতে বায়াররা আপনার কাজ দেখে আপনার দক্ষতা সম্পর্কে বুঝতে পারে।যেমন ধরুন আপনি যদি লোগো ডিজাইন করেন তাহলে আপনি আপনার সেরা লোগো আপলোড করুন।  প্রোফাইল কমপ্লিট করার পরে গিগ তৈরি করুন। এরপর শান্তভাবে বসে থাকুন এবং অপেক্ষা করতে থাকুন।

এখন যখনই কেউ লোগো ডিজাইনার লিখে সার্চ করবে, তারা সেই প্ল্যাটফর্মে আপনার প্রোফাইল দেখতে পাবে। যদি আপনার প্রোফাইল তার পছন্দ হয় তাহলে তিনি আপনার সাথে যোগাযোগ করবেন। এবং তখন আপনি তার সাথে কনভারসেশন করবেন। এরপর আপনার সাথে কথা বলে যদি তার মনে হয় যে আপনি তার কাজটি সঠিক ভাবে করতে পারবেন তাহলে তিনি আপনাকে কাজের অর্ডার দেবেন । এরপর আপনি তার কাজ কমপ্লিট করে দিলে তিনি আপনার টাকা আপনাকে বুঝিয়ে দেবেন। তবে এর জন্য আপনাকে কঠোর পরিশ্রম এবং সততার সাথে কাজ করতে হবে। 

05. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাহায্যে আপনি বিভিন্ন ধরনের পণ্যের প্রচার করে ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনার নিজের একটা প্লাটফর্ম থাকা দরকার। অর্থাৎ পণ্যের প্রচার করার জন্য আপনার নিজস্ব ব্লগ, ওয়েবসাইট বা একটি ইউটিউব চ্যানেল থাকা প্রয়োজন। এছাড়াও আপনার যদি একটি বেশী ফলোয়ার সহ ফেসবুক পেজ থাকে তাহলেও আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। 

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সাহায্যে টাকা ইনকাম করার জন্য প্রথমে যেকোনো ইকমার্স কোম্পানির অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামে যোগ দিন । এর পরে আপনার অ্যাকাউন্টে আপনি যে পন্য গুলো নিয়ে মার্কেটিং করতে চান সেই পণ্য যোগ করুন। পন্য যোগ করার পরে সেই পণ্যগুলির লিংক আপনার ব্লগ, ওয়েবসাইট বা FB পেজে শেয়ার করুন। এখন যখনই কেউ আপনার লিঙ্কে ক্লিক করে সেই ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কিনবে তখনই আপনি সেই পণ্যের মূল্যের একটি নির্দিষ্ট অংশ কমিশন হিসেবে পাবেন। অর্থাৎ পণ্যের কমিশন রেট অনুযায়ী আপনি টাকা পাবেন। এইভাবে আপনি যত বেশী সংখ্যক পণ্যের প্রচার করবেন। তত বেশী পরিমাণ টাকা আয় করতে পারবেন।

তবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে ভালো টাকা ইনকাম করতে হলে আপনাকে দুটি কাজ করতে হবে। এক, আপনার কন্টেন্টের সাথে সম্পর্কিত পণ্যগুলি নিয়ে মার্কেটিং করতে হবে। এবং দ্বিতীয়ত, যে পন্য গুলোতে ভাল কমিশন রেট আছে সেই পণ্যগুলিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। অর্থাৎ এমন পণ্যগুলো প্রচার করতে হবে, যেগুলোর কমিশন রেট ভালো ।

06. ডিজিটাল মার্কেটিং

ডিজিটাল মার্কেটিং হল অনলাইন ইনকামের এমনই একটি অপশন, যার মাধ্যমে আপনি সারাজীবন টাকা উপার্জন করতে পারবেন। কারণ আমাদের এই বিশ্ব ক্রমশ ডিজিটাল হচ্ছে। আর সেই সাথে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে।এমন পরিস্থিতিতে আপনারা নিশ্চই বুঝতে পারছেন যে আগামী সময়ে এর চাহিদা কতটা বাড়বে?  যারা জানেন না যে ডিজিটাল মার্কেটিং কি? তাদের জন্য, আমি বলতে চাই যে ডিজিটাল মার্কেটিং হল অনলাইন প্রচারের একটি টেকনিক যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মার্কেটিং করা হয়।

ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য আপনার অনলাইনে উপস্থিত থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার অনলাইন উপস্থিতি,  অর্থাৎ আপনার একটি ওয়েবসাইট তৈরি করুন এবং সেখানে আপনার কাজ সম্পর্কে লিখুন। সেই সাথে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপনার অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করুন। এবং সেগুলোতে নিয়মিত আপডেট শেয়ার করুন। নতুন আপডেট এবং লেটেস্ট ট্রেন্ড বুঝতে ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সিগুলি ফলো করুন ৷ এবং তাদের কাজ গুলোর উপর নজর রাখুন।এর ফলে আপনি বুঝতে পারবেন যে, কিভাবে তারা কাজ করে?

মানুষ যখন আপনাকে আপনার কাজের মাধ্যমে চিনতে শুরু করবে তখন আপনি কাজ পেতে শুরু করবেন। এবং সেই সাথে আপনি ভাল টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন। ডিজিটাল মার্কেটিং হল এমন একটি কাজ যেখানে আপনাকে নিয়মিত আপ-টু-ডেট থাকতে হবে। অর্থাৎ নতুন নতুন আপডেট এবং ট্রেন্ড ফলো করতে হবে। এবং সেই অনুযায়ী আপনাকে আপনার মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি পরিবর্তন করতে হবে ।

07. ইবুক পাবলিশিং

আপনারা প্রায় সবাই জানেন যে, বর্তমানে ই-বুক পড়ার প্রবণতা বেশী। অর্থাৎ মানুষ এখন কাগজের বইয় পড়ার পরিবর্তে ইবুক পড়তেই বেশী পছন্দ করে । কারণ ইবুকগুলি আমরা খুব সহজেই আমাদের ফোন/ল্যাপটপে রাখতে পারি, যার ফলে আমরা যখন, যেখানে খুশি পড়তে পারি। এ কারণেই বর্তমানে কাগজের বইও ইবুক হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। যাতে করে মানুষ সেগুলো ডিজিটালভাবেও পড়তে পারে। এই ইবুক প্রকাশ করে, আপনিও ঘরে বসে ভাল পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারেন।

ইবুক এর মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে হলে, আপনাকে জানতে হবে কিভাবে আকর্ষণীয় এবং বিনোদনমূলক গল্প লিখতে হয়।এরপর, আপনার গল্প ইবুক আকারে প্রকাশ করতে হবে। আপনি কাল্পনিক গল্প থেকে শুরু করে উপন্যাস, জীবনী যে কোন বিষয়ে লিখতে পারেন। তবে আমি যতদূর জানি তাতে আমার মনে হয় সাসপেন্স, ড্রামা আর থ্রিলার গল্প গুলো বেশী বিক্রি হয়।  ইবুক লেখা সম্পূর্ণ হওয়ার পরে, এটি প্রকাশ করতে হবে। এই ইবুক প্রকাশ করার জন্য ইন্টারনেটে অনেক প্ল্যাটফর্ম আছে ।

যেমন KDP (Kindle Direct Publishing), Google Play Books, Goodreads, Readsy, Smashwords, kobo ইত্যাদি।এগুলি ইবুক পাবলিশ করার জন্য সেরা প্ল্যাটফর্ম । এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে, আপনি আপনার ইবুক প্রকাশ করতে পারবেন এবং টাকা ইনকাম করতে পারেন। আপনার ইবুক প্রকাশ হওয়ার পর, কেউ যদি আপনার ইবুক কেনে তাহলে আপনি রয়্যালটি পাবেন । এবং আপনার ইবুকের যত বেশি কপি বিক্রি হবে, আপনি তত বেশি রয়্যালটি পাবেন। এইভাবে আপনি ইবুক প্রকাশ করার মাধ্যমে ঘরে বসে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

08. অনলাইন কোর্স

বর্তমানে মানুষ ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই নতুন নতুন জিনিস শিখে থাকে। আর এটি সাধারণত তারা অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন কোর্সের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যার ফলে অনলাইন কোর্স নির্মাতারা ভালো টাকা আয় করছেন।

অনলাইন কোর্স থেকে টাকা ইনকাম করার জন্য আপনার অবশ্যই যে কোন বিষয়ের উপর ভাল দক্ষতা থাকতে হবে। সেই সাথে আপনাকে অবশ্যই কথা বলতে এবং লিখতে দক্ষ হতে হবে। আবার ভিডিও বানানো সম্পর্কেও ধারনা থাকতে হবে। কারণ যে কোন অনলাইন কোর্সে ছবি, ভিডিও, গ্রাফিক্স ইত্যাদি ব্যবহার করতে হয়। এছাড়াও PPT ফাইল, ডক্স এবং শীটও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সেই কারণে অনলাইন কোর্স তৈরি করতে হলে এই সব বিষয় সম্পর্কে ভাল ধারনা থাকতে হবে।

আপনি যদি কোন বিষয় খুব সহজ, আকর্ষণীয় এবং কার্যকর উপায়ে ব্যাখ্যা করতে পারেন! তাহলে আপনি একটি অনলাইন কোর্স তৈরি করতে পারেন। এবং আপনি এর সাহায্যে অনলাইন থেকে ভাল টাকা উপার্জন করতে পারেন। প্রথমে অনলাইন কোর্সের জন্য আপনি এমন একটি বিষয় বেছে নিন, যাতে মানুষের বর্তমানে আগ্রহ আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। এবং যে বিষয় গুলো অনেক মানুষের প্রয়োজন, যেমন স্কুল পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় (যেমন- গণিত, বিজ্ঞান ইত্যাদি), মোবাইল মেরামত, এসইও, ডিজিটাল মার্কেটিং, প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ , ওয়েব ডিজাইনিং, হ্যাকিং ইত্যাদি।

সুন্দর ভাবে কোর্সটি তৈরি করার পরে, কোর্সটি অনলাইনের বিভিন্ন প্লাটফরমের মাধ্যমে বিক্রি করুন এবং অর্থ উপার্জন করুন।এই কোর্স বিক্রি করার জন্য আপনি আপনার ব্লগ, ওয়েবসাইট বা অ্যাপের সাহায্য নিতে পারেন। আবার আপনার যদি কোন ব্লগ, ওয়েবসাইট বা অ্যাপ না থাকে তাহলে আপনি Udemy, Skillshare এবং Thinkfic এর মত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও আপনার কোর্স বিক্রি করতে পারেন। এছাড়াও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও আপনি আপনি তৈরি করা অনলাইন কোর্স বিক্রি করে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

09. ক্রিপ্টো ট্রেডিং

আপনি ক্রিপ্টোকারেন্সিতে ট্রেড করে কম সময়ে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারেন । তবে এর জন্য প্রথমে আপনাকে ইনভেস্ট করতে হবে অর্থাৎ আপনার টাকা থাকতে হবে। সেইসাথে সেই টাকা ঝুঁকি নেওয়ার সাহস থাকতে হবে। কারণ ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। অর্থাৎ কখনও এর দাম আকাশ ছোঁয়া হয়ে যায় আবার কখনও একদম কমে যায়। তাই এটির মাধ্যমে আপনি হঠাৎ অনেক বেশী লাভবান হয়ে পারেন আবার অনেক সময় ভয়ানক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পারেন। সেই কারণে ক্রিপ্টো ট্রেডিং শুরু করার আগে ক্রিপ্টো মার্কেট সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

ক্রিপ্টোট্রেডিং করার জন্য প্রথমে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেট বা ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ সাইট বেছে নিন । যেমন- Wazir X , CoinSwitch বা CoinDCX-এর মতো ট্রাস্টেড প্ল্যাটফর্ম গুলোর যে কোন একটিতে আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। এবং KYC ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করুন। এর পরে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা ডিপোজিট করুন । এবং তারপরে আপনি ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে ট্রেডিং করতে চান সেটি কিনুন (যেমন বিটকয়েন , এক্সআরপি, ইথেরিয়াম, ডোজকয়েন ইত্যাদি)।

অবশ্যই পড়ুন: ক্রিপ্টোকারেন্সি কি? এটা কিভাবে কাজ করে?

যে কোন ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনার পর আপনি এর দামের দিকে নজর রাখুন। আর যখনই দাম বাড়বে সাথে সাথে বিক্রি করে দিন।আবার যখন দাম কম হলে কিনুন। এভাবে কম দামে ক্রয় করুন, এবং যখন দাম বেশি হবে তখন বিক্রি করতে থাকুন । এইভাবে ক্রমাগত টাকা উপার্জন করতে থাকুন। তবে একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, যে কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনার আগে সেটি সম্পর্কে খুব ভালভাবে জেনে নিন।

10. শেয়ার মার্কেট

এটি করতে হলে আপনাকে অবশ্যই শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে খুব ভালো ধারনা থাকতে হবে। এটি আসলে ক্রিপ্টোকারেন্সির মতোই টাকা ইনকামের একটি দুর্দান্ত অপশন। যার সাহায্যে আপনি কম সময়ে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।কিন্তু এর জন্য আপনার শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকতে হবে যেমন- শেয়ার মার্কেট কি? এটি কিভাবে কাজ করে? এছাড়াও কোন স্টক কখন ভাল কাজ করবে? ইত্যাদি বিষয়ে সঠিক ধারণা থাকতে হবে । তাহলেই আপনি শেয়ার মার্কেট থেকে ভাল পরিমাণ আয় করতে পারবেন। অন্যথায় আপনার ইনভেস্ট করা টাকা নষ্ট হতে পারে।

শেয়ার বাজার থেকে টাকা উপার্জন করতে আপনার প্রথমে ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট এবং ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। তাই সবার প্রথমে একটি ডিপি (ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্ট) নির্বাচন করুন। এবং সেখানে নিবন্ধন করুন। অর্থাৎ, আপনার ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট এবং ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট ওপেন করুন । এরপর আপনার ডিপির ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপে প্রবেশ করে লগইন করুন। এবং সেই একাউন্টে টাকা ডিপোজিট করুন। এর পরে, আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী যে কোন কোম্পানির শেয়ার কিনতে পারেন।

আপনার কেনা শেয়ার গুলো আপনার ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এবং আপনি যতক্ষণ না সেগুলো বিক্রি করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত সেগুলি আপনার ডিম্যাট অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত থাকবে।  শেয়ার কেনার পর সেটির দাম বাড়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।আর দাম বাড়ার সাথে সাথে সেই শেয়ার বিক্রি করতে হবে। অর্থাৎ কম দামে শেয়ার কিনে এবং বেশি দামে বিক্রি করতে হবে। এই ভাবে স্টক ক্রয় এবং বিক্রয় চালিয়ে যান এবং সেই সাথে টাকা রোজগার করতে থাকুন ।

11. লাইভ স্ট্রিম

লাইভ স্ট্রিম করার জন্য ইউটিউব সবচেয়ে ভালো অপশন। কারণ ইউটিউবে সব ধরনের ভিজিটর বা দর্শক রয়েছে। এই কারণেই বেশিরভাগ ক্রিয়েটররা শুধুমাত্র ইউটিউবেই লাইভ স্ট্রিম করেন। আর ইউটিউবও লাইভ স্ট্রিমারদের অনেক ধরনের সুবিধা দিয়েছে । কারণ ইউটিউবেরও এতে প্রফিট রয়েছে। আসলে, YouTube প্রতিটি সুপারচ্যাটের আয় থেকে 30% নিজের কাছে রাখে এবং বাকি 70% নির্মাতাদের দেয়। অর্থাৎ, যদি একজন ক্রিয়েটর সুপারচ্যাট থেকে 10,000 টাকা ইনকাম করেন। তাহলে ইউটিউব 3,000 টাকা নিজের কাছে রাখবে এবং 7,000 টাকা নির্মাতাকে দেবে।

লাইভ স্ট্রিম করে টাকা উপার্জনের 2টি উপায় রয়েছে। একটি হল মনেটাইজেশন  এবং অন্যটি হল সুপারচ্যাট । যদি আমরা মনেটাইজেশন সম্পর্কে কথা বলি, তাহলে এটি টাকা উপার্জনের সবচেয়ে মৌলিক এবং প্রাথমিক ফিচার। এর মাধ্যমে আপনি আপনার লাইভ স্ট্রিম মনেটাইজেশন করতে পারেন। এবং আপনি এতে বিজ্ঞাপন শো করিয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। আর সুপারচ্যাট হল একটি প্রিমিয়াম ফিচার, যার মাধ্যমে আপনি আপনার ভিজিটরদের সাথে চ্যাট করবেন এবং এর পরিবর্তে টাকা ইনকাম করবেন। 

স্ট্রীম শেষ হওয়ার পরে , YouTube সুপারচ্যাট থেকে উপার্জনের 30% রেখে বাকি 70% শেয়ার আপনাকে দিয়ে দেবে । এইভাবে আপনি নিয়মিত লাইভ স্ট্রিম থেকে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারেন। আজকাল আপনারা খেয়াল করলেই দেখবেন যে বড় বড় ইউটিউবাররা প্রতিদিন লাইভ স্ট্রিম করে। তারা তাদের চ্যানেলে খুব কম ভিডিও আপলোড করেন। কিন্তু প্রতিদিন লাইভ স্ট্রিম করে। তার কারণ এতে টাকা বেশি আয় হয়।

12. মোবাইল অ্যাপস

আপনি গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে যেকোনো কিছু লিখে সার্চ করুন, আপনি অবশ্যই কোনো না কোনো অ্যাপ পেয়ে যাবেন। ট্রিমার থেকে শুরু করে চিরুনি, ছুরি থেকে টয়লেট পেপার পর্যন্ত সবকিছুর জন্য অ্যাপ রয়েছে। কিন্তু আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন যে এই অ্যাপগুলোর অনেকগুলোই পেইড। অর্থাৎ এই অ্যাপগুলো ব্যবহার করতে হলে আপনাকে টাকা দিয়ে অ্যাপসটি কিনতে হবে। তাই আপনিও চাইলে ঘরে বসেই এইভাবে অ্যাপ সেল করে টাকা আয় করতে পারবেন 

এটি করার জন্য প্রথমে আপনাকে অ্যাপ তৈরি করা জানতে হবে । তারপর আপনাকে যে কোন ধরনের একটি প্রবলেম খুঁজে বের করতে হবে। এর অর্থ হল আপনাকে আপনার অ্যাপের জন্য একটি কঠিন কারণ বা ভিত্তি খুঁজে বের করতে হবে, যা আমাদের দৈনন্দিন কাজের সাথে জড়িত এবং এর কারণে অনেককেই ঝামেলায় পড়তে হয়। উদাহরণস্বরূপ , ইউটিউব থেকে সরাসরি ভিডিও ডাউনলোড করতে না পারা একটি কমন সমস্যা । এজন্য অ্যাপ ডেভেলপাররা ইউটিউব থেকে ভিডিও ডাউনলোডের জন্য অ্যাপ তৈরি করেছে। আপনি অনুরূপ যে কোন একটি সমস্যা খুঁজে বের করুন এবং সেই সমস্যার সমাধান দিয়ে একটি অ্যাপ তৈরি করুন ।

অ্যাপ তৈরি করার পর সেটিকে প্লে স্টোরে প্রকাশ করুন। প্লে স্টোরে পাবলিশ করার জন্য আপনাকে প্লে স্টোরে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে এবং 25$ ফি দিতে হবে। এই ২৫ ডলার ফি শুধুমাত্র একবারই দিতে হবে। এর পরে আপনি যত খুশি অ্যাপস এবং গেমস আপনার একাউন্টে প্রকাশ করতে পারবেন। এবং আপনি সেই অ্যাপ গুলো গুগল এডমোবে মোনেটাইজেশন করে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন । এছাড়াও, আপনি পেইড অ্যাপস এবং পেইড গেমস তৈরি করেও টাকা ইনকাম করতে পারেন।

13. কন্টেন্ট রাইটিং

কন্টেন্ট রাইটিং এমনই একটি কাজ, যার চাহিদা বর্তমানে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। অর্থাৎ কন্টেন্টের প্রয়োজন কখনো শেষ হবে না। ব্লগ, ওয়েবসাইট, বিভিন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র, বিপণন ইত্যাদির জন্য কন্টেন্ট ক্রমাগত প্রয়োজন। এজন্য আপনি Content Writing এর মাধ্যমে নিয়মিত টাকা ইনকাম করতে পারবেন। আপনাকে শুধু বিভিন্ন বিষয়ে লিখতে জানতে হবে । আর আপনি আপনার এই লেখার দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

প্রথমত , Linkedin, Fiver এবং Upwork-এর মতো প্ল্যাটফর্মে আপনার অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করুন। এবং আপনার প্রোফাইল খুব সুন্দরভাবে সম্পূর্ণ করুন। আপনার প্রোফাইলে আপনার কাজ এবং অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বলুন। এছাড়াও আপনার কাজের একটি নমুনা সেখানে আপলোড করুন. যাতে মানুষ আপনার কাজ দেখে আপনার সম্পর্কে ধারনা করতে পারে। তারা আপনার এই প্রোফাইল সিদ্ধান্ত নিবে যে, আপনি তাদের কাজের জন্য উপযুক্ত কি না? অর্থাৎ আপনার লেখা কন্টেন্ট তাদের প্রজেক্টের জন্য ঠিক আছে কি না? 

প্রোফাইল ক্রিয়েট করার পর গিগ তৈরি করুন। এরপর অপেক্ষা করতে থাকুন। যদি আপনার গিগ বায়ারের পছন্দ হয় তাহলে তিনি আপনার সাথে যোগাযোগ করবেন। এবং তখন আপনি তার সাথে কনভারসেশন করে জেনে নেবেন যে আপনার কি ধরনের কন্টেন্ট লিখতে হবে। এরপর আপনার সাথে কথা বলে যদি তার মনে হয় যে আপনি তার কাজটি সঠিক ভাবে করতে পারবেন তাহলে তিনি আপনাকে কাজের অর্ডার দেবেন । এরপর আপনি তার কাজ কমপ্লিট করে দিলে তিনি আপনার টাকা আপনাকে বুঝিয়ে দেবেন । এভাবে আপনি কন্টেন্ট রাইটিং এর সাহায্যে অনেক আয় করতে পারবেন । এছাড়াও আপনি আপনার নিজের একটি ব্লগ সাইট তৈরি করে সেখানে বিভিন্ন ধরনের কন্টেন্ট লিখতে পারেন। এবং সেই ব্লগ সাইট গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে মনেটাইজ করে টাকা ইনকাম করতে পারেন।

14. ওয়েব ডিজাইনিং

প্রথমেই আপনাদের বলে রাখি যে, ওয়েব ডিজাইনিং এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট দুটি আলাদা বিষয়। ওয়েব ডিজাইনিং হল যা আপনি আপনার স্ক্রিনে দেখতে পাচ্ছেন। আর ওয়েব ডেভেলপমেন্টে হল পর্দার পেছনের জিনিস আর মাধ্যমে ওয়েবসাইট চলছে।অর্থাৎ, আপনি ওয়েব ডিজাইনিং কে ওয়েবসাইটের ওয়্যারিং বলতে পারেন। 

ওয়েব ডিজাইনিং মূলত একটি সৃজনশীল কাজ। এজন্য আপনাকে ক্রিয়েটিভ এবং ইউনিক ডিজাইন তৈরি করতে হবে ।একটি ওয়েবসাইট ডিজাইনের মধ্যে রয়েছে ওয়েবসাইটের ব্যাকগ্রাউন্ডের রঙ, টেক্সট ও লিঙ্কের রঙ, বিভিন্ন উপাদান এবং তাদের অবস্থান, দৈর্ঘ্য-প্রস্থ, সাইডবার, মেনু ইত্যাদি। সুতরাং আপনি পর্দায় যা কিছু দেখছেন তার একটি নকশা ।

আপনি যদি ওয়েব ডিজাইনিং থেকে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে চান তবে প্রথমে আপনার নিজের একটি পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করুন। এবং সেখানে আপনার সেরা ডিজাইন শো করুন । এরপর আপনি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটের মাধ্যেমে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এছাড়াও বাংলাদেশী বিভিন্ন কোম্পানির ওয়েবসাইট ডিজাইন করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

15. গ্রাফিক্স ডিজাইন

ওয়েবসাইট ডিজাইনের মত গ্রাফিক ডিজাইনও একটি সৃজনশীল ক্ষেত্র । যেখানে আপনি আপনার সৃজনশীলতা দেখানোর পাশাপাশি অনলাইন আর্নিংও করতে পারবেন। অর্থাৎ ঘরে বসেই অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তবে এর জন্য আপনাকে গ্রাফিক ডিজাইনিং বিষয়ে খুব ভাল জ্ঞান থাকতে হবে। বর্তমান সময়ে গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রচুর পরিমাণে চাহিদা রয়েছে। আর এই চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। এমন পরিস্থিতিতে, আপনি যদি একজন দক্ষ গ্রাফিক ডিজাইনার হন, তবে আপনি এই কাজ করে ভাল পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

গ্রাফিক্স ডিজাইন করে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে হলে প্রথমে বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্লাটফর্ম যেমন- ফাইবার, আপওয়ার্ক ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মে প্রোফাইল ক্রিয়েট করে, পরে গিগ তৈরি করুন। গিগে অবশ্যই আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কোন কোন বিষয়ে কাজ করেন সেগুলো উল্লেখ করুন । এরপর বায়ারের সাথে কনভারসেশন করে তাকে কনভেন্স করে বায়ারের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী কাজ করে টাকা ইনকাম করুন ।

16. পোশাক ডিজাইনিং

বর্তমানে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি খুব দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। আর তাই প্রতিনিয়ত বাড়ছে পোশাক ডিজাইনারের চাহিদা। সেজন্য আপনি চাইলে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ডিজাইন করে ভালো পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারেন। বর্তমানে ফ্যাশন ডিজাইনিং এর উপর অনেক ধরনের কোর্স আছে। যেখানে পোশাক ডিজাইন করার পাশাপাশি আরও অনেক কিছু শেখানো হয়। কিন্তু এই সেকশনে আমরা শুধু পোশাক ডিজাইনের কথা বলছি । আপনি যদি ফ্যাশন ডিজাইনিং এর কোর্স করে থাকেন তাহলে আপনি আপনার নিজের ব্র্যান্ডও চালু করতে পারেন।

ক্লথ ডিজাইনিং থেকে কিভাবে অনলাইনে আয় করবেন?

প্রথমে কিছু ইউনিক ড্রেস ডিজাইন করুন। এবং যে কোন একজন ভাল মডেল নিয়োগ করে আপনার পোশাক প্রচার করুন। অর্থাৎ আপনার ডিজাইন করা পোশাক পরিয়ে সেই মডেলের ফটোশুট করিয়ে নিন। এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেগুলো প্রচার করুন।  স্থানীয় ফ্যাশন শো এবং ইভেন্ট গুলোতে অংশগ্রহণ করুন। যাতে আপনার করা ডিজাইন সর্বোচ্চ এক্সপোজার পায়। 

এছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করুন এবং আপনার ডিজাইন করা পোশাক বিক্রি করুন। যখন মানুষ আপনাকে আপনার কাজের মাধ্যমে চিনতে শুরু করবে, তখন আপনার ব্র্যান্ডের নাম দিয়ে আপনার ডিজাইন করা পোশাক অনলাইনে বিক্রি শুরু করুন । আবার আপনি যদি নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করতে না চান তাহলেও কোন সমস্যা নেই! আপনি অন্যান্য বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং কোম্পানির জন্য ঘরে বসে অনলাইনেই কাজ করতে পারেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ ফ্রিল্যান্সিং সাইট গুলোর মাধ্যমে পোশাক ডিজাইন করিয়ে নেয়। তাই আপনি যদি ফ্যাশন ডিজাইন নিয়ে আগ্রহী হন তাহলে বিভিন্ন ধরনের পোশাক ডিজাইন করে ঘরে বসেই অনলাইনে আয় করতে পারবেন।

17. টি-শার্ট প্রিন্টিং

আজকাল প্রিন্টেড টিশার্টের চাহিদা অনেক বেশী। প্রায় সব বয়সের মানুষ প্রিন্টেড টিশার্ট পরতে পছন্দ করে। বিশেষ করে, তরুণদের মধ্যে এই প্রবণতা অনেক বেশী। এমন পরিস্থিতিতে, টি-শার্ট প্রিন্টিং, অনলাইনে অর্থ উপার্জন করার একটি দুর্দান্ত অপশন। আপনি যদি টিশার্ট প্রিন্টিংয়ে আগ্রহী হন তাহলে আপনি ঘরে বসে অনলাইনে আয় করতে পারবেন। তবে এটি করার জন্য আপনার কিছু যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হবে। যেমন প্রিন্টিং মেশিন, হিট প্রেস মেশিন, স্ক্রিন, ড্রায়ার, কালার ইঙ্ক ইত্যাদি।

টিশার্ট প্রিন্টিং থেকে কিভাবে অনলাইনে আয় করবেন?

এর জন্য আপনার কাছে কয়েকটি অপশন রয়েছে। প্রথমত আপনি ডিজাইন তৈরি করে সেই ডিজাইন প্রিন্টিং কোম্পানির কাছে বিক্রি করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, নিজে প্রিন্ট করে সেই টিশার্ট অনলাইনে বিক্রি করতে পারেন। আবার আপনি যদি ট শার্ট ডিজাইনার হিসেবে কাজ করতে চান তাহলে এর জন্য অনেক ধরনের প্লাটফর্ম রয়েছে। যেমন Spreadshirt, Designhill, Printful, My Dream Store, The Souled Store ইত্যাদি। প্রথমে এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে আপনার অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করুন।এরপর আপনার ডিজাইন করা টিশার্ট আপলোড করুন এবং বিক্রি করুন।

আপনি যদি নিজে Tshirt প্রিন্ট করে অনলাইনে বিক্রি করতে চান, তাহলে সবার প্রথমে নিজের একটি অনলাইন শপিং ওয়েবসাইট তৈরি করুন। ডোমেইন নেম ও হোস্টিং কেনার টাকা যদি না থাকে তাহলে আপনি Shopify এর মত বিনামূল্যের প্ল্যাটফর্ম দিয়েও প্রাথমিক অবস্থায় শুরু করতে পারেন । ওয়েবসাইট প্রস্তুত হওয়ার পরে, আপনার ডিজাইন করা পণ্যগুলি (টিশার্ট) তালিকাভুক্ত করুন এবং সেগুলি অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করুন৷

18. অনলাইন পরামর্শ

একজন কনসালটেন্টের প্রধান কাজ হল তার ক্লায়েন্টকে সঠিক পরামর্শ দেওয়া এবং সেই সাথে তার বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করা।এর জন্য বিভিন্ন ধরনের ক্ষেত্র রয়েছে যেমন, ক্যারিয়ার, স্বাস্থ্য, পরিবার, আর্থিক, এইচআর, মার্কেটিং, পিআর, আইটি ইত্যাদি।আপনি এই ফিল্ডগুলোর যেকোনো একটিকে বেছে নিতে পারেন। আপনার শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রের উপর ভাল জ্ঞান থাকতে হবে এবং সেই সাথে একজন গ্রাহকের সাথে কথা বলে তার সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

অনলাইন কনসালটেশন কীভাবে অনলাইনে আয় করবেন

প্রথমে আপনি যে কোন একটি ফিল্ড নির্বাচন করুন এবং এটি নিয়ে বিস্তারিত অধ্যয়ন এবং গবেষণা করুন। অর্থাৎ আপনি সেই কাজের উপর দক্ষতা অর্জন করুন। এর পরে সেই বিষয়ের উপর আপনার অনলাইন পোর্টাল এবং মোবাইল অ্যাপ চালু করুন। এবং এর পরে আপনার অনলাইন পরামর্শের কাজ স্টার্ট করুন। এখন যে কোন ক্লায়েন্ট যখন আপনার থেকে পরামর্শ নেবে তখন তাকে ফি দিতে হবে। 

19. লোগো ডিজাইন

লোগো ডিজাইন হল এমন একটি কাজ, যেটির চাহিদা সবসময় থাকবে। কারণ বিশ্বে প্রতিদিন নতুন নতুন স্টার্টআপ শুরু হয় অর্থাৎ নতুন কোম্পানি, নতুন পেজ, নতুন ওয়েবসাইট, নতুন ইউটিউব চ্যানেল ইত্যাদি। এসব নতুন প্রতিষ্ঠান, ওয়েবসাইট বা চ্যানেল, যাই বলুন না কেন । এই সব কিছুর জন্যই লোগোর প্রয়োজন হয়। এজন্য আপনি বিভিন্ন ধরনের লোগো ডিজাইন করে অনলাইন থেকে ভালো অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। তবে, এই জন্য আপনার লোগো ডিজাইন করতে জানতে হবে এবং সেই সাথে আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে।

লোগো ডিজাইনিং এর মাধ্যমে কীভাবে অনলাইনে টাকা ইনকাম করবেন

প্রথমে আপনি কোন ভাল প্রতিষ্ঠান থেকে লোগো ডিজাইনের উপর কোর্স করুন । এরপর কিছু কোম্পানির নাম কল্পনা করে তাদের সাথে সম্পর্কিত কিছু সুন্দর, ইউনিক এবং ট্রেন্ডি লোগো ডিজাইন করুন। তারপরে Fiverr, Upwork, Freelancer এবং DesignCrowd- এর মতো যেকোনো ফ্রিলান্সিং প্ল্যাটফর্মে আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। এবং আপনার নিজের তৈরি করা লোগো দিয়ে গিগ তৈরি করুন ।  এখন বায়ারের যদি আপনার লোগো ডিজাইন পছন্দ হয় তবে তারা নিজেরাই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে। এবং আপনাকে দি ধরনের লোগো ডিজাইন করতে হবে সেটি বুঝিয়ে দিয়ে কাজের অর্ডার দেবে । এভাবে লোগো ডিজাইন এর মাধ্যমে, ঘরে বসেই অনলাইন আর্নিং করতে পারবেন ।

20. ছবি বিক্রি

আপনি যদি গুগলে কোন ফটো অনুসন্ধান করেন তবে আপনি অবশ্যই সাটারস্টকের নাম দেখতে পাবেন। কারণ সাটারস্টক হল একটি ফটো সেলিং ওয়েবসাইট, যা অনলাইনে ছবি বিক্রি করে। তবে অনলাইনে ছবি বিক্রি করার জন্য এমন আরও অনেক ওয়েবসাইট আছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, এই ফটোগুলি এই ওয়েবসাইট গুলোতে আসে কোথা থেকে? তাই তারা আসলে মূলত বিভিন্ন ধরনের ছবি কিনে থাকে।

ফটো সাধারণত দুই ধরনের হয় । একটি হল বাস্তব ছবি অর্থাৎ যে ছবি ক্যামেরা দিয়ে তোলা হয় । আরেকটি হল কাল্পনিক ছবি, যা ফটো এডিটিং টুলের মাধ্যমে তৈরি করা হয় । যাইহোক, আপনি অনলাইনে এই উভয় ধরনের ছবি বিক্রি করেই টাকা উপার্জন করতে পারেন। কিন্তু কাল্পনিক ফটোগুলি তৈরি করার জন্য অনেক প্রচেষ্টা এবং সময়ের প্রয়োজন হয়। কারণ এটির নির্দিষ্ট কোন Subject নেই । বরং এই ধরনের ছবি গুলো মন থেকে তৈরি করতে হয় । যে কারণে এই ধরনের ছবি গুলো অনেক বেশী দামে বিক্রি হয় । কারণ সবাই এমন ধরনের ছবি তৈরি করতে পারে না। তাই আপনি চাইলে ক্যামেরাতেও ছবি তুলে অনলাইনে বিক্রি করে টাকা ইনকাম করতে পারেন ।

আমরা যদি অনলাইনে ছবি বিক্রি করা টাকা উপার্জন সম্পর্কে কথা বলি , তাহলে এর জন্য অনেকগুলি অপশন রয়েছে। যেমন SutterStock, 500px, 123RF, iStock, Foap, Alamy, Fotolia, GettyImages, Adobe Stock, CreStock, Stocksy ইত্যাদি।আপনি এই ওয়েবসাইটগুলিতে গিয়ে আপনার ক্যাপচার করা বা তৈরি করা ছবি বিক্রি করতে পারেন। আর ঘরে বসেই অনলাইনে টাকা আয় করতে পারবেন। কিন্তু আপনার ছবি অবশ্যই ইউনিক হতে হবে এবং আপনার সেটি নিজের তৈরি করা বা নিচের ক্যাপচার করা হতে হবে । অর্থাৎ, এই সমস্ত প্ল্যাটফর্মে আপনি অন্য কারো ছবি বিক্রি করতে পারবেন না। 

21. পোস্টার ডিজাইনিং

পোস্টার ডিজাইনিং হল এমনই একটি কাজ, যার চাহিদা সবসময় থাকবে । আপনার শহরের যে কোনো দেয়ালে বা রাস্তায় তাকালেই সেখানে আপনারা পোস্টার দেখতে পাবেন । কারণ অফলাইন বিজ্ঞাপনের সবথেকে বেশী জনপ্রিয় মাধ্যম হল পোস্টার।এবং বর্তমানে বেশিরভাগ কোম্পানির অফলাইন বিজ্ঞাপন পোস্টার এবং ব্যানার মাধ্যমেই করা হয় । যে কারণে পোস্টার বা ব্যানারের চাহিদা সবসময়ই থাকবে। আবার বর্তমানে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেয়ার জন্য ব্যানার ডিজাইন করা হয়।

পোস্টার বা ব্যানার অনেক ধরনের আছে, যেমন তথ্যমূলক পোস্টার, ক্যাম্পেইন পোস্টার, রাজনৈতিক পোস্টার, মুভি পোস্টার ইত্যাদি। মূলত আকার, গুণমান এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের পোস্টার রয়েছে । সেজন্য পোস্টার ডিজাইনের মাধ্যমে অনলাইনে ইনকাম করতে হলে আপনার সব ধরনের পোস্টার ডিজাইনিং সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকতে হবে।

প্রথমে আপনি Fiverr, Upwork, Freelancer ইত্যাদি প্ল্যাটফর্ম গুলোতে একাউন্ট তৈরি করে গিগ তৈরি করুন এবং সেই সাথে আপনার ডিজাইন করা পোস্টার আপলোড করুন । এর পরে আপনি পোস্টার ডিজাইনিং সম্পর্কিত অনলাইন চাকরির জন্য অফার পেতে শুরু করবেন । আর আপনি ঘরে বসে কাজ করে পোস্টার ডিজাইন করে অনলাইনে আয় করতে পারবেন।

22. স্লোগান লেখা

আপনি নিশ্চয়ই অনেক সময় নির্বাচনী সমাবেশে, মিছিলে এবং পিকেটিং বিক্ষোভে স্লোগান দিতে শুনেছেন । কিন্তু আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে এই স্লোগানগুলো কোথা থেকে এসেছে? আসলে এই স্লোগানগুলো মূলত লেখে স্লোগান লেখকরা । আর এই স্লোগান লেখার বিনিময়ে তারা পায় মোটা অংকের টাকা । আর বর্তমানে এই স্লোগান রাইটিং কে আপনি পেশা হিসেবে নিতে পারেন এবং এর মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই অনলাইন আর্নিং করতে পারবেন।

স্লোগান লেখার মাধ্যমে টাকা উপার্জন করতে হলে আপনাকে বাংলা ইংলিশ ভাষায় স্লোগান লেখা সম্পর্কে জানতে হবে এবং বিভিন্ন ধরনের স্লোগান লিখতে হবে । এখন আসি অর্থ উপার্জনের বিষয়ে, অনলাইন বিভিন্ন ফ্লিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মের ( যেমন Fiverr, Upwork, Indeed এবং Freelancer ) আপনি স্লোগান লেখার অনেক কাজ পেয়ে যাবেন । এইভাবে আমি বিভিন্ন বায়ারের প্রয়োজন অনুযায়ী স্লোগান লিখে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

23. URL সংক্ষিপ্তকরণ

অনেক সময় দেখা যায় কিছু URL এত লম্বা যে সেগুলি যে কোন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্মে, যেখানে মাত্র ১৪০ টি অক্ষরের মধ্যে মতামত প্রকাশ করতে হয়। এমন অবস্থায় সেখানে বড় ধরনের URL বা লিংক শেয়ার করা অনেক বেশী কঠিন হয়ে পরে। এছাড়া লম্বা লিংক গুলো দেখতেও অনেক বাজে দেখায় ।সেজন্য আপনারা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে URL ছোট করে এই সমস্ত প্লাটফর্মে শেয়ার করতে পারবেন, এই প্রসেস কে URL শর্টনিং বলা হয়ে থাকে ।

এই লিংক শর্ট করার জন্য অনেক ওয়েবসাইট আছে । যেমন ধরুন Adfly, MiniURL, Shortest, Bitly, TinnyURL ইত্যাদি।আপনি এই প্ল্যাটফর্ম বা ওয়েবসাইটগুলোর যেকোনো একটি ব্যবহার করতে পারেন । যেমন ধরুন আপনি এডিফ্লাই পছন্দ করেছেন এবং আপনি এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অনলাইন আরনিং করতে চান । তাহলে প্রথমে আপনি  Adfly এর ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্টার করুন । এবং আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেটআপ করুন। এছাড়াও আপনি কোন মাধ্যমে টাকা উইথড্র করতে চান সেটি আপনার অ্যাকাউন্টে যোগ করুন।

এর পরে বর্তমানে ট্রেন্ডে থাকা আকর্ষণীয় এবং দরকারী বিভিন্ন কন্টেন্ট খুঁজুন। যেমন ধরুন নিউজ আর্টিকেল, ব্লগ পোস্ট, ইউটিউব ভিডিও ইত্যাদি খুঁজুন। এবং সেগুলোর URL গুলি কপি করে এবং আপনার Adfly অ্যাকাউন্টের সাহায্যে শর্ট করুন৷ এর পরে আপনার ব্লগ, ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শর্ট URL গুলো শেয়ার করুন। এবং সেই শর্ট লিংকে বেশী বেশী সংখ্যক ক্লিক সংগ্রহ করার চেষ্টা করুন । কারণ আপনার লিংকে যত বেশি সংখ্যক ক্লিক পড়বে, আপনি তত বেশি পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন । এইভাবে, আপনি ইউআরএল শর্ট করে শেয়ার করে প্রচুর টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

24. এসইও সেবা

আপনার যদি এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান) সম্পর্কে ভাল জ্ঞান থাকে তবে আপনি অনলাইনে টাকা উপার্জন করতে পারবেন । কারণ এসইও হচ্ছে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে চাহিদাপূর্ণ অনলাইনর ইনকামের মাধ্যম । ব্লগার থেকে শুরু করে ইউটিউবার, সোশ্যাল মিডিয়া, ব্যবসা, বিজ্ঞাপনদাতা এবং বিপণনকারীদের সবার জন্যই SEO (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশান) প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে, আপনি SEO পরিষেবা প্রদান করে অনলাইনে টাকা আয় করতে পারবেন ।

এসইও সার্ভিস থেকে অর্থ উপার্জন করার জন্য আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করতে পারেন।  আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ শুরু করেন তাহলে প্রথমে Fiverr, Upwork, Naukri, Indeed এবং Freelancer-এর মতো প্ল্যাটফর্মে গিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি করে আপনি SEO এর কোন কোন বিষয়ে সেবা দিতে চান সেটি লিখে গিগ তৈরি করুন । এরপর আপনি বায়ারকে কনভেন্স করে তার কাজ সম্পন্ন করে টাকা ইনকাম করুন ।

25. ইমেল তালিকা বিক্রয়

ইমেইল মার্কেটিং এর নাম আপনারা অবশ্যই শুনে থাকবেন। ইমেইল মার্কেটিং হল এক ধরনের ডিজিটাল মার্কেটিং, যেখানে ইমেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিসের প্রচার চালানো হয়। অর্থাৎ পণ্য, সেবা এবং অফার সম্পর্কে ইমেইলের মাধ্যমে গ্রাহকদের তথ্য দেওয়া হয় । তবে ইমেইল মার্কেটিং কিন্তু সহজ বিষয় না । কারণ সাধারণত কেউ এই সমস্ত প্রচারমূলক ইমেল দেখে না । বেশীরভাগ মানুষ এটি দেখতে পেলেও এটি না পড়ে ডিলিট করে দেয় । এমতাবস্থায়, ইমেইলে ক্লিক পেতে অনেক ঝামেলা হয়।

ইমেল তালিকার মাধ্যমে অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করার অনেক উপায় আছে। যেমন মনিটাইজেশন, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, পেইড প্রমোশন, পেইড নিউজলেটার, সাবস্ক্রিপশন, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি প্রমোট করুন। এছাড়াও আপনার কাছে যদি বড় মাপের ইমেইলের তালিকা থাকে তাহলে আপনি তা বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে বিক্রি করেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

26. সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার

আপনি খেয়াল করে দেখবেন যে, বড় বড় সেলিব্রিটিরা, যেমন চলচ্চিত্র অভিনেতা, ক্রিকেটার, রাজনীতিবিদ, ফুটবলার এবং ব্যবসায়ীরা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি নিয়মিত আপডেট করেন। এবং প্রত্যেকদিন কয়েকবার করে আপডেট করে। কিন্তু তারা তো সারাদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় বসে সময় কাটায় না । আসলে এই নিয়মিত আপডেটের কাজটি তাদের সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজাররা করে থাকেন। অর্থাৎ, এটি করার জন্য বিভিন্ন লোক নিয়োগ দেয়া রয়েছে, যারা তাদের সব ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো পরিচালনা করে।

এটি করার জন্য সব ধরনের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে ভাল জ্ঞ্যান থাকতে হবে। অর্থাৎ, Facebook, Twitter, ইন্সটাগ্রাম, LinkedIn এবং Pinterest এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলি কীভাবে কাজ করে এবং কোন প্লাটফর্মে কোন ধরনের কন্টেন্টগুলো শেয়ার করা হয়? এসমস্ত বিষয় গুলোতে সম্পূর্ণ জ্ঞান থাকতে হবে। এছাড়াও, প্রতিদিন একাধিক অ্যাকাউন্ট আপডেট করার জন্য প্রয়োজনীয় Software থাকতে হবে ।

আপনি যদি এই কাজটি করার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হন তবে এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার জন্য আপনার কাছে 3টি অপশন রয়েছে । প্রথমত, আপনি যে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এজেন্সিতে কাজ শুরু করতে পারেন । দ্বিতীয়ত, আপনি নিজের একটি মার্কেটিং এজেন্সি শুরু করতে পারেন। এবং তৃতীয়ত, আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে Upwork, Indeed, Fiverr এবং Freelancer এর মত কয়েক ডজন প্ল্যাটফর্মে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতে পারেন। এই সব প্লাটফর্মের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে ঘরে বসেই অনলাইনে ইনকাম করতে পারবেন ।

27. ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিং

ইনফ্লুয়েন্সার মার্কেটিংয়ের আজকাল প্রচুর চাহিদা রয়েছে । অর্থাৎ, বড় বড় কোম্পানি এবং ব্র্যান্ডগুলি তাদের মার্কেটিং, বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে সম্পন্ন করে । এতে ইনফ্লুন্সেয়ারদের পাশাপাশি কোম্পানিগুলোও লাভবান হয়। কারণ ইনফ্লুয়েন্সারদের অনেক লিসেনার বা ভক্ত থাকে, যারা তাদের প্রতি অনুগত। এই কারণে কোন ইনফ্লুয়েন্সার যখন কোনো পণ্য বা কোম্পানির প্রচার করে তখন তাদের ভক্তরা সেই পণ্যটি বিপুল সংখ্যায় কেনেন। আর এর ফলে কোম্পানির প্রোডাক্টের বিক্রি বৃদ্ধি পায়।

প্রথমে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনার অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করুন। এবং সেগুলোতে নিয়মিত আপডেট করতে করুন। অর্থাৎ যতক্ষণ না আপনি অনেক বেশী সংখ্যক ফলোয়ার পান, ততক্ষণ পর্যন্ত একটানা নিয়মিত প্রয়োজনীও কন্টেন্ট আপলোড করতে থাকুন। আর আপনার একাউন্টের ফলোয়ার বাড়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকুন। একটি বিষয় মনে রাখবেন, টাকা দিয়ে কখনও ফেক ফলোয়ার কিনবেন না । কারণ ভুয়া ফলোয়ারদের থেকে আপনার কোন লাভ হবে না। তাই অর্গানিক ফলোয়ারদের উপর বেশী করে ফোকাস করুন ।

এরপর আপনার যখন অনেক বেশী সংখ্যক ফলোয়ার হয়ে যাবে, তখন আপনি সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এজেন্সির সাথে যোগাযোগ করা শুরু করুন। কারণ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এজেন্সিগুলি (SMMAs) আপনার এবং ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে সমন্বয়কারী হিসাবে কাজ করবে৷ এমতাবস্থায় আপনি অধিকাংশ কাজই এসব এজেন্সির মাধ্যমে পেয়ে যাবেন। এরপর আপনার ভাল পরিচিতি হয়ে গেলে ব্র্যান্ডগুলি সরাসরি আপনার সাথে যোগাযোগ করা শুরু করবে এবং আপনি তাদের প্রোডাক্ট মার্কেটিং করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

28. অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট হল এমন একটি পেশা, যার চাহিদা এই মুহূর্তে অনেক বেশি । কারণ আজকাল বেশীরভাগ মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করে এবং তারা তাদের প্রতিটি কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করে থাকে। এই কারনে বড় বড় কোম্পানি থেকে শুরু করে ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই বিভিন্ন ধরনের মোবাইল অ্যাপ তৈরি করে থাকে । আর এর জন্য তারা অ্যাপ ডেভেলপারদের নিয়োগ দেয় । তাই আপনি যদি অ্যাপস তৈরী করতে জানেন তাহলে ঘরে বসেই অনলাইনে ভালো টাকা আয় করতে পারবেন ।

আপনারা জানেন যে Android এবং iOS হল বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মোবাইল ওএস বা অপারেটিং সিস্টেম । আর এখনকার বেশিরভাগ স্মার্টফোনই চলছে এই দুটি ওএস প্ল্যাটফর্মে । তাই আপনি চাইলে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করে অনেক টাকা অনলাইনে আয় করতে পারবেন । সুতরাং আপনার এই উভয় প্ল্যাটফর্মের জন্য অ্যাপ তৈরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে । এছাড়াও ওয়েব অ্যাপস এবং ডেস্কটপ অ্যাপস সম্পর্কেও ভাল জ্ঞান থাকতে হবে । কারণ অনেক সময় কিছু কিছু কোম্পানি একসাথে একাধিক প্ল্যাটফর্মের জন্য অ্যাপ তৈরি করে ।

অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করে কীভাবে অনলাইন ইনকাম করবেন ?

 অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করে টাকা ইনকাম করতে চাইলে আপনারা দুটি জিনিস করতে পারেন । প্রথমে, আপনি আপনার নিজস্ব অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস (কোম্পানি) স্টার্ট করতে পারেন এবং সঠিকভাবে ব্যবসা করে ভাল পরিমাণ টাকা উপার্জন করতে পারেন । আর দ্বিতীয় উপায়টি হল আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করে অনলাইনের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করতে পারেন । আর এটি করার জন্য আপনি Freelancer, Upwork এর মত প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নিতে পারেন এবং কাস্টোমারের প্রয়োজনমত অ্যাপ তৈরি করে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারেন ।

29. প্রতিলিপি

আপনি যদি প্রথমবার ট্রান্সক্রিপশন বা প্রতিলিপি শব্দটি শুনে থাকেন তাহলে আমি আপনাকে বলব যে, এটি এক ধরনের পেশা । যেখানে অডিও এবং ভিডিও ফাইলগুলিতে বলা কথা নথিতে রূপান্তরিত করা হয় । অর্থাৎ কোন ভিডিও বা অডিও রেকর্ডিং শুনে তা টেক্সট আকারে লেখা হয় । এটা আসলে অনেক একাগ্রতা এবং ধৈর্যের কাজ। কারণ এতে আপনাকে একই কথা অনেকবার শুনতে হয় । তাই এমন পরিস্থিতিতে অনেক ধৈর্যের প্রয়োজন হয় । এই ট্রান্সক্রিপশনের কাজ করে আপনি ঘরে বসেই অনলাইন আরনিং করতে পারবেন।

ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে কীভাবে ঘরে বসেই অনলাইন আরনিং করবেন ?

যে ব্যক্তি প্রতিলিপি লেখার কাজ করেন তাকে ট্রান্সক্রিপশনবিদ বলা হয় । এবং প্রতিলিপিবিদ একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি। অডিও এবং ভিডিও শোনার পাশাপাশি তিনি ঠোঁট পড়তে এবং অঙ্গভঙ্গি দেখে শব্দ অনুমান করতেও জানেন। কারণ অনেক সময় অডিও বা ভিডিওতে বলা কথাগুলো ঠিকমতো শোনা যায় না। অথবা অন্য কোন কণ্ঠের সাথে মিশ্রিত। অথবা যদি অডিও বিরক্ত হয়, তাহলে এই অভিজ্ঞতাটি এমন পরিস্থিতিতে কাজে আসে।

ট্রান্সক্রিপশনের কাজের জন্য বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে । যেমন প্রযুক্তিগত, ব্যবসা, বিপণন, চিকিৎসা, আর্থিক, আইনি ইত্যাদি । তাই সবার প্রথমে আপনার পছন্দের ক্যাটাগরি বেছে নিন এবং তারপর TranscribeMe, Transcription Hub, CastingWords, SpeakWrite, Rev ইত্যাদি এর মত প্ল্যাটফর্মে গিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। এবং একাউন্টে অনুমোদন পাওয়ার পরে, আপনার পছন্দের প্রকল্পগুলিতে কাজ শুরু করুন এবং ঘরে বসেই অনলাইনে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করুন ।

30. অনুবাদ

অন্যান্য ভাষায় লেখা বিখ্যাত বই এবং গ্রন্থের অনুবাদ নতুন কোন বিষয় নয় । এই কাজ বহু বছর ধরে চলে আসছে এবং আজও হচ্ছে । এমনকি বই থেকে কার্টুন, টিভি প্রোগ্রাম, সিনেমা এবং বিজ্ঞাপনও অনুবাদ করা হয় । তাই যে কোনো বিষয়কে সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ভাবে উপস্থাপন করতে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হয় ।

তবে এতই করার জন্য আপনার দুই বা ততোধিক ভাষার উপর খুব ভাল জ্ঞান থাকতে হবে এবং সেগুলো লিখতে ও পড়তে জানতে হবে । এছাড়াও, একটি সম্পূর্ণ বইকে কীভাবে এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় অনুবাদ করতে হয় তা সম্পর্কেও জানতে হবে । সেই জন্যই প্রয়োজন ভাষাগত দক্ষতার । কারণ অনুবাদ মানে শুধুমাত্র শব্দ ও বাক্য অনুবাদ করা নয়। বরং এর ভেতরের রস ও ভবকেও অনুবাদ করতে হবে। আর এটাই হল এই কাজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ।

অনুবাদের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার জন্য, আপনি দুটি জিনিস করতে পারেন । প্রথমত, আপনি যেকোনো প্রকাশনা হাউজে যোগ দিয়ে সেখানে বিভিন্ন ভাষার বই অনুবাদ করে টাকা ইনকাম করতে পারেন । অথবা আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে এই অনুবাদের কাজ করে টাকা ইনকাম করতে পারেন। আপনি যদি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে চান তাহলে Fiverr, আপওআর্কের মত প্ল্যাটফর্মে গিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন এবং বায়ারের প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয় অনুবাদ করে টাকা উপার্জন করুন।

31. পডকাস্টিং

পডকাস্টিং মূলত একটি রেডিও প্রোগ্রাম বা ভিডিওর একটি ডিজিটাল রেকর্ডিং যা ইন্টারনেট থেকে Download করা যায় । যারা দেখতে পারেন না অর্থাৎ যারা অন্ধ তাদের জন্য এটি একটি অপরিহার্য মাধ্যম। এছাড়াও যারা পড়তে পারেন না, বা যাদের হাতে পড়ার টাইম নেই, তাদের জন্যও এটি একটি সহায়ক অপশন । কারণ বর্তমানে অনেক ব্যস্ত মানুষ প্রায়শই তাদের গাড়িতে বসে পডকাস্ট শোনেন, যা তাদের সময় বাঁচায় ।

প্রথমে একটি পডকাস্ট হোস্টিং প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করুন এবং সেখানে আপনার একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন । এরপর রেকর্ডের পরে, আপনার পডকাস্টগুলি এডিট করুন এবং আপলোড করুন ৷ এর জন্য, আপনি ফ্রি এবং অর্থ প্রদানের উভয় প্ল্যাটফর্ম পাবেন । এর মধ্যে বর্তমানে কিছু জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হল Podbean, Spreaker, Buzzsprout, Anchor এবং Acast ইত্যাদি! যেখানে আপনি পডকাস্টিংয়ের মাধ্যমে অনলাইন আরনিং করতে পারবেন ।

32. অনলাইন রিভিউ

অনলাইন রিভিউ অনেক ধরনের হয়ে থাকে যেমন, ফোন রিভিউ, বুক রিভিউ, অ্যাপ রিভিউ, মুভি রিভিউ, প্রোডাক্ট রিভিউ, সার্ভিস রিভিউ ইত্যাদি । আপনি এই অপশনগুলোর যে কোনোটি বেছে নিতে পারেন । আপনাকে শুধু সেই বিষয়টি সম্পর্কে ভাল ধারনা থাকতে হবে । উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি স্মার্টফোনের রিভিউ করে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে চান, তাহলে আপনার স্মার্টফোন সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য এবং জ্ঞান থাকতে হবে। 

অনলাইন রিভিউ এর মাধ্যমে কীভাবে অনলাইন ইনকাম করবেন ?

অনলাইন রিভিউ করার জন্য ৩ টি ফর্ম্যাট রয়েছে । প্রথমটি অডিও, দ্বিতীয় ভিডিও এবং তৃতীয়টি হল টেক্সট । অডিও সাধারনত রেডিওর জন্য ব্যবহৃত হয় । তবে ভিডিও এবং টেক্সটের জন্য অনেক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে । বর্তমানে টেক্সট এবং ভিডিও ফরম্যাট অনেক বেশি জনপ্রিয় । তাই আপনি যদি টেক্সট বা ভিডিও ফরম্যাট নির্বাচন করেন তবে এটি আপনার জন্য বেশী ভাল হবে ।

ফরম্যাট সিলেক্ট করার পরে, উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম নির্বাচন করুন । অর্থাৎ, টেক্সট ফরম্যাটের জন্য ওয়েবসাইট এবং ভিডিও ফরম্যাটের জন্য ভিডিও প্ল্যাটফর্ম বেছে নিন । উদাহরণ স্বরূপ , মুভি পর্যালোচনার জন্য টেষ্ট অফ সিনেমা, স্ক্রিনরান্ট এবং বুস্টলের মত প্ল্যাটফর্ম রয়েছে । একইভাবে, অন্যান্য বিভাগের জন্যও অনেক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। আপনি Google এ সার্চ করে আপনি যে বিভাগ নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন সেটি সম্পর্কিত প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পাবেন । এছাড়াও, আপনি নিউজপেপারের জন্যও রিভিউ লিখে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

33. নিজস্ব পণ্য বিক্রয়

আপনি যদি একজন ইউটিউবার, ব্লগার বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হন এবং আপনার যদি ভালো ফ্যান ফলোয়িং থাকে তাহলে আপনি আপনার নিজস্ব পণ্য অর্থাৎ আপনার ডিজাইন করা পন্য অনলাইনে বিক্রি করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন । কারণ আজকাল বেশিরভাগ কনটেন্ট ক্রিয়েটররাই এইভাবে নিজেদের পণ্য বিক্রি করে অনলাইন আরনিং করছে ।

প্রথমে আপনি কি ধরনের পন্য নিয়ে কাজ করতে সেটি সিলেক্ট করুন যেমন কফি মগ, টিশার্ট, বোতল, মোবাইল কভার ইত্যাদি।এর পর এগুলোতে মুদ্রণের জন্য বর্তমানে ট্রেন্ডিং এ আছে এমন কিছু শব্দ, চিহ্ন এবং সংলাপ সিলেক্ট করুন। এর পরে সেগুলি আপনার পন্যে মুদ্রিত করে আপনার ইউটিউব চ্যানেল, ব্লগ বা সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফরমের মাধ্যমে বিক্রি করে টাকা ইনকাম করুন ।

34. পেইড প্রমোশন

পেইড প্রমোশন মানে হল টাকা নিয়ে পণ্য বা সেবার প্রচার করা । এটি আসলে অনলাইনে আয় করার অন্যতম সেরা উপায় ।কারণ এতে পরিশ্রম কম করতে হয় কিন্তু টাকা বেশি পাওয়া যায় । তবে এর জন্য আপনার ২টি জিনিস অবশ্যই থাকতে হবে।একটি, একটি ভাল ফলোয়ার, এবং অন্যটি হল মানসম্পন্ন কন্টেন্ট ৷ আপনার যদি এই ২ টি জিনিস থাকে তবে আপনি পেইড প্রমোশন করে অনলাইনের মাধ্যমে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

পেইড প্রমোশন করে কীভাবে অনলাইনে টাকা ইনকাম করবেন ?

সবার আগে আপনার ফলোয়ার তৈরি করুন । অর্থাৎ, ব্লগ, ইউটিউব চ্যানেল বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আপনার একটি পরিচিতি তৈরি করুন । এবং প্রচুর ফলোয়ার বা সাবস্ক্রাইবার অর্জন করুন । আর আপনি যদি ইতিমধ্যেই একজন বিখ্যাত ব্লগার, ইউটিউবার বা সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হন তাহলে আপনাকে এগুলোর কিছুই করতে হবে না । তার কারণ আপনার ইতিমধ্যেই অনেক ফলোয়ার বা সাবস্ক্রাইবার রয়েছে ।

ফলোয়ারের পর আপনার বিষয়বস্তু বা কন্টেন্টের দিকে মনোযোগ দিন । কারণ ব্র্যান্ড এবং কোম্পানিগুলি শুধুমাত্র সেই সব নির্মাতাদের কাছে যায় যাদের কন্টেন্ট তাদের পন্যের সাথে রিলেটেড । অর্থাৎ, পণ্য অনুসারে প্রাসঙ্গিক কনটেন্ট তৈরি করুন । যখন ব্র্যান্ডগুলি মনে করবে যে আপনার কন্টেন্ট তাদের জন্য উপযুক্ত, তখন তারা নিজেরাই আপনার সাথে যোগাযোগ করবে এবং আপনি তখন সেই সব কোম্পানির পন্য পেইড প্রমোশন করে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

35. বিজ্ঞাপন ডিজাইনিং

বিজ্ঞাপনের বাজার প্রতিনিয়ত বাড়ছে । কারণ প্রতিদিন শত শত নতুন নতুন কোম্পানি বাজারে আসছে এবং সেই সাথে লক্ষ লক্ষ নতুন পণ্য চালু হচ্ছে । এমন অবস্থায় প্রতিনিয়ত বাড়ছে বিজ্ঞাপনের চাহিদা এবং সেই সাথে বিজ্ঞাপন শিল্প দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে । আর এর কারনে বাড়ছে অ্যাড ডিজাইনারদের চাহিদা । কারণ অ্যাড ডিজাইনাররা প্রতিনিয়ত কাজ পাচ্ছেন এবং সেই সাথে পাচ্ছেন ভালো টাকা । এছাড়াও এটি একটি ফিউচার প্রুফ জব কারণ ভবিষ্যতে এই বিজ্ঞাপন শিল্প আরও বৃদ্ধি পাবে ।

তবে বিজ্ঞাপন ডিজাইন করা কোন সহজ কাজ নয় । এর জন্য দরকার হয় অনেক পরিশ্রম এবং ধৈর্য । কখনও কখনও মাত্র 10 ​​সেকেন্ডের একটি বিজ্ঞাপন তৈরি করতে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্তও সময় লাগে । কারণ বিজ্ঞাপন তৈরি করতে গ্রাউন্ড রিয়েলিটি এবং মার্কেটিং রিসার্চ প্রয়োজন হয় । এছাড়াও আপনাকে গ্রাহকের মনস্তত্ত্বও বুঝতে হবে । কারণ যে কোন গ্রাহককে আকৃষ্ট করতে তাদের মনের অবস্থা বোঝা অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ । সেজন্য একজন অ্যাড ডিজাইনার হিসেবে আপনার গ্রাহকের মনোবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

আপনি দুই ভাবে অ্যাড ডিজাইন করে টাকা ইনকাম করতে পারেন । প্রথমত, আপনি যে কোন বিজ্ঞাপন সংস্থায় কাজ করতে পারেন । অন্যথায়, আপনি একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে অনলাইনের বিভিন্ন প্লাটফর্ম যেমন  ফ্রিল্যান্সার, আপওয়ার্ক এবং ফাইভারের মতো প্ল্যাটফর্মে কাজ করে অনলাইনে ইনকাম করতে পারেন । 

36. অনলাইন গেম খেলুন

আপনি যদি নিয়মিত অনলাইন গেম খেলে থাকেন তাহলে এই সেকশনটি আপনার জন্য । কারণ এটির সাহায্যে আপনি আপনার শখ পূরণ করার পাশাপাশি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন । অর্থাৎ, আপনি গেমটি উপভোগ করার সাথে সাথে টাকাও উপার্জন করতে পারবেন । হ্যাঁ, আপনি এটা একেবারে সঠিক শুনেছেন, ঘরে বসে অনলাইন গেম খেলেও আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

অনলাইন গেম খেলে কীভাবে অনলাইন আরনিং করবেন

এটি করার জন্য অনেক ধরনের গেম আছে যেমন Dream11, RummyCircle, Ace2Three, Qureka, Pokerbaazi, My11Cricle, WinZo, Ludo Supreme, QuizWin, 8 বল পুল, Loco, Ludo Circle এবং MPL এর মতো ডজন ডজন গেম রয়েছে । আপনি এই ধরনের অনলাইন গেম খেলে ঘরে বসেই টাকা আয় করতে পারবেন । আপনাকে যা করতে হবে তা হল প্রথমে প্লে স্টোরে গিয়ে আপনার পছন্দের গেমটি ডাউনলোড করুন এবং এটি খেলে টাকা ইনকাম করুন। এছাড়াও আপনি এইসমস্ত গেমের লাইভ স্ট্রিম করে এবং ভিডিও আপলোড করেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

37. অনলাইন বিজ্ঞাপন

আজকের দিনে খুব কম কোম্পানি আছে, যারা তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয় না । কারণ বর্তমান সময়ে বিজ্ঞাপন ছাড়া পণ্য বিক্রি করা খুবই কঠিন । এ কারণে বেশীরভাগ কোম্পানি তাদের বাজেটের একটি বড় অংশ বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যয় করে । আর এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে অনলাইন বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে । অর্থাৎ এখন সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করা হয় অনলাইন বিজ্ঞাপনে।

অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করার জন্য আপনার কাছে 2টি অপশন রয়েছে। আপনার যদি নিজস্ব ব্লগ, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা ইউটিউব চ্যানেল থাকে তাহলে আপনি একজন প্রকাশক হয়ে টাকা ইনকাম করতে পারেন । এর জন্য আপনাকে অ্যাডসেন্স, পপএডস, অ্যাডক্যাশ এবং ইনফলিঙ্কসের মতো অ্যাড নেটওয়ার্কগুলিতে একাউন্ট ওপেন করতে হবে  এবং আপনাকে আপনার ব্লগ, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ বা ইউটিউব চ্যানেলের সেই সব ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে । ভিজিটররা যখন এই বিজ্ঞাপনগুলি দেখবে বা বিজ্ঞাপনগুলোতে ক্লিক করবে, তখন আপনি টাকা পাবেন ।

আরেকটি উপায় হল মধ্যস্থতাকারী হয়ে টাকা ইনকাম করা। অর্থাৎ বিজ্ঞাপনদাতা  প্রকাশকদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে টাকা ইনকাম করা । অর্থাৎ বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে বিজ্ঞাপন নিয়ে সেগুলো প্রকাশকদের দেওয়া এবং এইভাবে আপনি উভয়ের থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।  এতে প্রচুর অর্থ আছে, তবে পরিশ্রমও অনেক বেশী হবে । কারণ এই ক্ষেত্রে পুরো ব্যবসাটি আপনাকেই সামলাতে হবে । সেক্ষেত্রে আপনার জন্য অনেক কঠিন হয়ে উঠতে পারে ।

38. কুপন ওয়েবসাইট

কুপন ওয়েবসাইটের সাহায্যে, আপনি ঘরে বসে অনলাইনে প্রচুর আয় করতে পারবেন । কারণ বর্তমান যুগ হল অনলাইন কেনাকাটার যুগ । এখন বেশিরভাগ মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করে । আর তাই অনেকেই ডিসকাউন্ট অফার এবং কুপন অনুসন্ধান করে । কারণ সবাই তাদের টাকা বাঁচাতে চায় । এই কারণেই অনেকেই কুপনের সন্ধানে বিভিন্ন কুপন ওয়েবসাইটগুলি ভিজিট করে৷ এবং যার ফলে কুপন ওয়েবসাইটগুলি থেকে ভাল টাকা আয় করা যায় ।

এটি করার জন্য আপনার একটি ওয়েবসাইট থাকা দরকার । প্রথমে একটি ভালো ডোমেইন নেম ও হোস্টিং প্ল্যান কিনুন এবং আপনার ওয়েবসাইট ক্রিয়েট করুন । আপনি যদি নিজে ওয়েবসাইট তৈরি করতে না জানেন তাহলে আপনি একজন ওয়েব ডেভেলপারের সাহায্যে এটি তৈরি করিয়ে নিন ।

ওয়েবসাইট ক্রিয়েট করার পর প্রয়োজনীয় পেজ এবং ক্যাটাগরি তৈরি করুন । অর্থাৎ, পোশাক, কসমেটিকস পণ্য, ইলেকট্রনিক্স, বই, মুদি, শিশুর খাদ্য, হোম ও কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স, রিচার্জ এবং বিল পেমেন্ট, ডোমেন এবং ওয়েব হোস্টিংয়ের মতো কুপন বিভাগ ক্রিয়েট করুন । এর পর কিছু জনপ্রিয় অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক ওয়েবসাইটে জয়েন করুন এবং কুপনের তথ্য কালেক্ট করে আপনার ওয়েবসাইটে পোস্ট করুন ।

এখন কোন গ্রাহক যখন আপনার লিঙ্কে ক্লিক করে কিছু কিনবে তখন আপনি কমিশন পাবেন । অর্থাৎ, যখনই একজন গ্রাহক আপনার কুপন কোড ব্যবহার করে অর্থপ্রদান করবে তখনই আপনি নির্ধারিত রেট অনুযায়ী কমিশন পাবেন । এইভাবে, আপনি প্রতিটি বিক্রিত পণ্যের উপর কমিশন পেতে থাকবেন এবং আপনার উপার্জন হতেই থাকবে । তবে একটি কুপন ওয়েবসাইট তৈরি করা অনেক সহজ, কিন্তু এটি পরিচালনা করা কিছুটা কঠিন । কারণ প্রতিদিন নতুন নতুন কুপন কোড আপনার ওয়েবসাইটে যোগ করতে হবে এবং সেই সাথে মেয়াদ উত্তীর্ণ কুপন গুলো মুছে ফেলতে হবে ।

39. অনলাইন টিউশন

কোভিড-১৯-এর সময় থেকে অনলাইন শিক্ষার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। কারণ ঐ সময়ে প্রায় সব স্কুল ও কোচিং ইনস্টিটিউট বন্ধ ছিল । আর বাচ্চাদের লেখাপড়ার অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছিল । তাই অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের মোবাইল অ্যাপস এবং ভিডিও কলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষাদান কার্যক্রম শুরু করে । আর এজন্য অনলাইন শিক্ষা একটি বিকল্প অপশন হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে ।

যদিও আগেও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চলত, তবে তা খুবই ছোট পরিসরে । তবে বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত অনলাইনে করা হচ্ছে । আর অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একে বিকল্প অপশন হিসেবে গ্রহণ করছে । বর্তমানে অনেক টিউশন পড়ানোর শিক্ষকরাও ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে ক্লাস নিচ্ছেন ।

অনলাইনের মাধ্যমে টিউশন করার জন্য অনেক ধরনের প্ল্যাটফর্ম আছে. যেমন Google Meet, Microsoft Team, Zoom, স্কাইপি ইত্যাদি । এই সব ফ্রি সফটওয়্যারের সাহায্যে আপনি ঘরে বসে অনলাইনে টিউশন করাতে পারবেন । এছাড়াও, আপনি আপনার নিজস্ব মোবাইল অ্যাপসও চালু করতে পারেন । এভাবে আপনি ঘরে বসে অনলাইন টিউটরিং করিয়ে টাকা ইনকাম করতে পারেন ।

40. ডোমেইন রিসেলিং

ডোমেইন রিসেলিং মানে হল ডোমেইন নাম কেনা এবং পরে তা বিক্রি করা । অর্থাৎ কম দামে ডোমেইন কিনে সেটাকে বেশি দামে বিক্রি করা । এটি আসলে অনলাইন উপার্জনের জন্য সবচেয়ে সহজ অপশন গুলির মধ্যে একটি । কারণ এতে খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয় না । শুধু আপনাকে কিছু টাকা বিনিয়োগ করতে হবে । অর্থাৎ শুরুতে ডোমেইন নেম কিনতে টাকা খরচ করতে হবে ।

ডোমেইন রিসেলিং করে টাকা ইনকাম করার জন্য প্রথমে একটি ভালো ডোমেইন রেজিস্ট্রারের ওয়েবসাইটে যান (GoDaddy, BigRock, Namecheap ইত্যাদি) এবং সেখানে আপনার অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করুন । এর পর ভালো TLDs (টপ লেভেল ডোমেন) কিনুন এবং পরে এটির ক্রয় মূল্যের সাথে আপনার কমিশন যোগ করে সেগুলিকে বিক্রি করে দিন । এইভাবে আপনি একটি ডোমেইন কিনে রিসেল করে ঘরে বসেই অনলাইনে আয় করতে পারবেন ।

এছাড়াও আপনার যদি এমন কোনো ডোমেইন নাম থাকে, যা কোনো কোম্পানি বা ব্যবসার নামে থাকে । তাহলে আপনি এর জন্য অতিরিক্ত দামও পেতে পারেন । অর্থাৎ, 600 টাকায় কেনা একটি ডোমেইন নাম আপনি 6,00,000 টাকায়ও বিক্রি করতে পারবেন । উদাহরণস্বরূপ, যদি আমার ওয়েবসাইটের ডোমেইন নাম ( bdtechtuner.com ) এর মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং আপনি এটি কিনে নেন । তাহলে আমি যে কোন উপায়ে এটি ফিরিয়ে নিতে চাইব । আর এর জন্য যদি আমাকে 5,00,00 টাকাও দিতে হয়, তাহলেও আমি তা আনন্দের সাথে দিয়ে দেব ।

41. হোস্টিং রিসেলিং

হোস্টিং রিসেলিং মানে হল ওয়েব হোস্টিং কেনা বেচা করা । অর্থাৎ ওয়েব হোস্টিং ক্রয় বিক্রয় করে টাকা ইনকাম করা । এটি এমন একটি কাজ, যার সাহায্যে আপনি ঘরে বসে টাকা উপার্জন করতে পারবেন । তবে এর জন্য আপনাকে ওয়েব হোস্টিং এবং সার্ভার ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে খুব ভাল জ্ঞান থাকতে হবে । কারণ এটি একটি প্রযুক্তিগত বা টেকনিক্যাল বিষয় । আর এই কারনে ওয়েব হোস্টিং এবং সার্ভার সম্পর্কে প্রযুক্তিগত জ্ঞান থাকা প্রয়োজন ।

প্রথমে একটি ভালো হোস্টিং কোম্পানি নির্বাচন করুন (যেমন Hostgator, Blue Host, Hostinger ইত্যাদি) এবং সেখান থেকে একটি ওয়েব হোস্টিং প্যাকেজ কিনুন । এর পর আপনার হোস্টিং প্যাকেজটিকে রি-ব্র্যান্ড করুন । অর্থাৎ আপনার নিজের নামে বা আপনার কোম্পানির নামে রি-ব্র্যান্ড করুন। এবং তারপরে আপনার গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী প্যাকেজ তৈরি করে বেশী দামে হোস্টিং বিক্রি করুন এবং সেখান থেকে অর্থ উপার্জন করুন ।

আরও সহজ ভাবে বলতে গেলে এটি হল, একটি সম্পূর্ণ বিল্ডিং কেনার পর বিভিন্ন লোকের কাছে সেই বিল্ডিং এর অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করার মতো । অর্থাৎ বড়ফ প্যাকেজ কিনে সেটিকে ছোট ছোট প্যাকেজে ভাগ করে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করা । রিসেলার হোস্টিং একটি লাভজনক বিজনেস । এর সাহায্যে আপনি প্রচুর পরিমাণে টাকা আয় করতে পারবেন ।

42. একজন কপিরাইটার হন

আপনি একজন কপিরাইটার হয়ে ভাল টাকা ইনকাম করতে পারবেন । আর এর জন্য আপনাকে শুধু আপনার লেখার দক্ষতা দিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করতে জানতে হবে । আপনি টিভি বা ইন্টারনেটে অনেক ধরনের বিজ্ঞাপন দেখেছেন যেমন উচ্চতা বাড়ানো, ওজন কমানো, চুল বাড়ানো এবং গায়ের রং ফর্সা করার পন্য ইত্যাদি । প্রকৃতপক্ষে, এই ধরনের সমস্ত বিজ্ঞাপন কপিরাইটিং বিভাগের আন্ডারে পড়ে । আর এই সমস্ত ধরনের বিজ্ঞাপন কপিরাইটার দ্বারা লিখিত হয় ।

একজন কপিরাইটার হলেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি পণ্যের বিজ্ঞাপন এবং প্রচারমূলক বিভিন্ন কন্টেন্ট লেখেন । অর্থাৎ, প্রচারের জন্য টেক্সট ভিত্তিক কেন্টেন্ট লেখেন । যেমন ব্লগ পোস্ট, বিজ্ঞাপন, ইমেইল, ব্রোশিওর, ভিডিও স্ক্রিপ্ট, উপস্থাপনা ইত্যাদি । তাই একজন কপিরাইটার হিসেবে আপনার এই সব বিষয়ে ভাল জ্ঞান থাকা উচিত । সেই সাথে মার্কেটিং সম্পর্কেও ভাল ধারণা থাকতে হবে।

আপনি যদি একজন কপিরাইটার হয়ে টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে আপনার কাছে ৩ টি অপশন রয়েছে । প্রথমত, যে কোন কোম্পানির একটি অংশ হিসেবে কাজ করতে পারেন । দ্বিতীয়ত, কোন বিপণন সংস্থার সাথে কাজ করা । এবং তৃতীয়ত, একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করা । ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার জন্য Fiverr, Upwork, Freelancer এবং Indeed-এর মতো প্ল্যাটফর্মে গিয়ে আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন । এর পর আপনার পূর্বের করা কাজের এক্সাম্পল সহ গিগ তৈরি করুন । আর বায়ারের চাহিদা অনুযায়ী কাজ করে ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে টাকা আয় করুন ।

43. ফটো এডিটিং

আপনি যদি ফটো এডিটিং কাজে বিশেষজ্ঞ হন এবং ফটোশপ সম্পর্কে ভাল জ্ঞান রাখেন তাহলে আপনি এই দক্ষতার মাধ্যমে ঘরে বসে ভাল পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন । কারণ বর্তমান সময় হল ডিজিটাল ফটোগ্রাফির যুগ । আজকের যুগে মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি শেয়ার করতে অনেক বেশী পছন্দ করে । বিশেষ করে, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ইত্যাদিতে । এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, মডেল এবং সেলিব্রেটিদের ছবি, বিয়ের অনুষ্ঠান ও অনুষ্ঠানের ছবি ইত্যাদি এডিট করার জন্যও একজন ফটো এডিটরের প্রয়োজন হয় ।

ফটো এডিটিং করে কীভাবে অনলাইনে ইনকাম করবেন

ফটো এডিটিং করে টাকা ইনকাম করার জন্য কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যেখানে আপনি ফটো এডিট করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন । যেমন Mendr এবং FixThePhoto বর্তমান সময়ে বেশ জনপ্রিয় ফটো এডিটিং প্ল্যাটফর্ম । এছাড়াও, আপনি Upwork, Fiverr, Freelancer, Indeed-এর মতো প্ল্যাটফর্মে ফটো এডিটরের কাজ করে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

আবার আপনি চাইলে অন্যকে ফটো এডিটিং শিখিয়েও টাকা উপার্জন করতে পারেন । এটি করার জন্য আপনি আপনার নিজের ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারেন । এবং ফটো এডিটিং সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের টিপস এবং টিউটোরিয়াল সেখানে শেয়ার করতে পারেন । আর আপনি যদি প্রাতিষ্ঠানিক চাকরি করতে চান, তাহলে আপনি আপনার আশেপাশে থাকা যেকোনো ভাল ফটো স্টুডিওতেও কাজ করতে পারেন । 

44. ভিডিও এডিটিং

ভিডিও এডিটিং হল অন্যতম একটি চাহিদাপূর্ণ কাজ । কারণ প্রতিদিন নতুন নতুন প্লাটফর্ম এবং ভিডিও ফরম্যাট আসছে । এমন অবস্থায় হঠাৎ করেই ভিডিও এডিটরের চাহিদা বেড়ে গেছে । আজকাল শর্ট ফিল্ম থেকে ওয়েব সিরিজ এবং অনলাইন এডুকেশন পোর্টাল থেকে ইউটিউব ভিডিও ক্রিয়েটর, সবারই ভিডিও এডিটর প্রয়োজন হয় । এমতাবস্থায় ভিডিও এডিটিং করে ভালো পরিমাণ টাকা আয় করা সম্ভব ।

প্রথমে প্রোডাকশনহাব , ভিএডিট, মফিল্ম, ইউস্ক্রিন, আপওয়ার্ক এবং ম্যান্ডির মতো প্ল্যাটফর্মে আপনার একাউন্ট ক্রিয়েট করুন ।এবং আপনার অ্যাকাউন্ট খুব ভালভাবে সেটআপ করুন অর্থাৎ আপনার প্রোফাইল সম্পূর্ণ করুন । এবং সেখানে পেমেন্ট সিস্টেম যোগ করুন । এর পরে আপনি বিভিন্ন ধরনের ভিডিও এডিটিং কাজের অফার পেতে শুরু করবেন। এরপরে আপনি আপনার পছন্দের অফারটি গ্রহণ করুন এবং ভিডিও এডিট করে ঘরে বসে অনলাইন আর্নিং করুন ।

45. ওয়েবসাইট বিক্রি

আপনি যদি একজন ওয়েব সাইট ডেভেলপার হন তাহলে আপনি বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি এবং বিক্রি করে ঘরে বসেই আয় করতে পারবেন । বর্তমানে অনেকেই তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান । কিন্তু তাদের মধ্যে বেশীরভাগ ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে না । সেজন্য তারা ওয়েবসাইট ডেভেলপারদের থেকে তৈরি ওয়েবসাইট কিনে নেয় । আপনি আপনার আগে থেকে ডিজাইন এবং ডেভেলপ করা ওয়েবসাইটটি এই ধরনের মানুষদের কাছে বিক্রি করে টাকা ইনকাম করতে পারেন ।

এটি করার জন্য আপনার একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকা দরকার , যেখানে আপনি আপনার পূর্ব-পরিকল্পিত ওয়েবসাইটের লিঙ্ক এবং স্ক্রিনশট শেয়ার করতে পারবেন । এছাড়াও Fiverr, Freelancer এবং Upwork এর মত প্ল্যাটফর্মে আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি করে গিগ তৈরি করুন এবং আপনার ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট আপলোড করুন । এছাড়াও আপনার ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করুন. যাতে বায়াররা আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করে আপনার ডিজাইন করা ওয়েবসাইট দেখতে পারে । 

যাইহোক, বেশিরভাগ মানুষ তাদের পছন্দ এবং চাহিদা অনুযায়ী অর্ডার দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করে । কিন্তু আপনি চাইলে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী আপনার প্রি-ডিজাইন করা ওয়েবসাইটগুলোতে পরিবর্তন করে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পুনরায় ডিজাইন করতে পারেন । এইভাবে, আপনি আপনার তৈরি করা ওয়েবসাইট বিক্রি করে ঘরে বসে অনলাইন উপার্জন করতে পারেন ।

46. ​​বইয়ের কভার ডিজাইন

যে কোন বইয়ের কভার ডিজাইন করা একটি সৃজনশীল কাজ । যার মাধ্যমে আনন্দ এবং অর্থ উভয়ই পাওয়া যায় । আপনি যদি একজন সৃজনশীল ব্যক্তি হন তবে আপনি বিভিন্ন ধরনের বইয়ের কভার ডিজাইন করে ভাল পরিমান অর্থ উপার্জন করতে পারেন । তবে এর জন্য আপনাকে ভাল এবং ইউনিক কভার ডিজাইন সম্পর্কে জানতে হবে । বইয়ের কভার ডিজাইন করার পাশাপাশি আপনি সোফা, বিছানার চাদর, বালিশ এবং পর্দা ইত্যাদি ডিজাইন করতে পারেন । এর ফলে আপনার আয় আরও বাড়বে।

প্রথমে আপনি কিছু ভালো এবং ইউনিক বইয়ের কভার ডিজাইন করুন ।এরপর TheBookCoverDesigner , TheBookCoverShop , Fiverr, Upwork, Freelance এবং DesignCrowd-এর মতো প্ল্যাটফর্মে আপনার অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করুন । তারপরে সেখানে আপনি আপনার ডিজাইন করা কভারগুলো আপলোড করুন এবং বিক্রি করে টাকা ইনকাম করুন। আপনি চাইলে আপনার নিজের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও বিক্রি করতে পারেন।

47. স্টক ফটোগ্রাফি

অনলাইন অর্থ উপার্জনের জন্য স্টক ফটোগ্রাফি অনেক সহজ একটি অপশন । এর সাহায্যে আপনি বিভিন্ন ধরনের ছবি বিক্রি করে প্রচুর টাকা আয় করতে পারেন। তবে এর জন্য আপনার ফটোগ্রাফির বিষয়ে খুব ভাল জ্ঞান থাকতে হবে । আপনি যদি মনে করেন যে, আপনি মোবাইল থেকে কোন রকমে ছবি তুলে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন, তাহলে আপনার ধারনা ভুল । কারণ ফটোগ্রাফি একটি শিল্প, এবং এটি শিখতে কঠোর পরিশ্রম এবং অনুশীলন লাগে। এটা একজন ফটোগ্রাফারই বুঝতে পারবেন।

প্রথমত, iStock, ShutterStock , Fotolia, Adobe Stock, 500px, GettyImages, Stocksy, Alamy, 123RF, CreStock এবং Foap-এর মতো প্ল্যাটফর্মে আপনার অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করে আপনার প্রোফাইল সম্পূর্ণ করুন । এর পরে পেমেন্ট সিস্টেমে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এড করুন এবং সেই সাথে আপনার ক্যাপচার করা ছবি আপলোড করুন । এর পরে আপনার ছবি বিক্রি করে টাকা ইনকাম করুন।

এছাড়াও মাঝে মাঝে এই প্লাটফর্মগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ফটো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় । আপনি চাইলে এই সব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নগদ পুরস্কার জিততে পারেন । ডিএসএলআর ক্যামেরা না থাকলে স্মার্টফোন দিয়েও অনেক ভাল ফটোগ্রাফি করা যায় । তাই আপনি যদি ভাল ফটো তুলতে জানেন তাহলে আপনি আপনার স্মার্টফোনের মাধ্যেম ছবি তুলেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

48. সঙ্গীত এবং ভিডিও বিক্রি করুন

স্টক ফটোর মতো, স্টক মিউজিক এবং স্টক ভিডিওগুলিও প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার করা হয় । বিশেষ করে শর্ট মুভি, ডকুমেন্টারি এবং ইউটিউব ভিডিওতে এগুলো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে । কিন্তু এটি করার জন্য আপনার জানতে হবে কিভাবে মিউজিক কম্পোজ করতে হয় এবং ভিডিও বানাতে হয় । আপনি যদি জানেন কিভাবে মিউজিক কম্পোজ বা ভিডিও তৈরি করতে হয় তাহলে আপনি স্টক মিউজিক এবং ভিডিও বিক্রি করে অনলাইনে প্রচুর টাকা আয় করতে পারবেন ।

আপনি যদি একজন মিউজিক কম্পোজার হন, তাহলে প্রথমেই আপনার সাউন্ড ট্র্যাক এবং SFX (Sound Effects) প্রস্তুত করুন । এবং তারপর Adobe, Pond5, Roqstar, iStockStudio, Envato, Dreamstime, AirBit এবং Sellfy এর মত প্ল্যাটফর্মে আপনার অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করে আপনার সাউন্ড ট্র্যাক এবং সাউন্ড ইফেক্ট আপলোড করুন । আর সেগুলো বিক্রি করে ঘরে বসে টাকা আয় করুন ।

আবার, আপনি যদি একজন ভিডিও ক্রিয়েটর হন, তাহলে সবার আগে আপনার নিশ অনুযায়ী ভিডিও ক্রিয়েট করুন। এবং তারপর Unscreen, Vimeo, RocketStock, 123RF, iTunes, iStock, Videozy, MotionElements এবং Videvo এর মত প্ল্যাটফর্মে আপনার অ্যাকাউন্ট ক্রিয়েট করে আপনার ভিডিও আপলোড করুন এবং বিক্রি করে টাকা ইনকাম করুন।

49. অনলাইন জার্নাল

আপনি যদি একজন সাংবাদিক বা লেখক হন তাহলে আপনি নিজের জন্য অনলাইন পত্রিকা তৈরি করতে পারেন । আর এই অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে ঘরে বসেই ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। কারণ বর্তমান ডিজিটাল যুগে বেশিভাগ মানুষ অনলাইনেই পত্রিকা পড়ে থাকেন । আর তাই সব ধরনের পত্রিকা ও ম্যাগাজিনগুলোও ডিজিটালভাবে প্রকাশিত হতে শুরু করেছে । এমন অবস্থায়, আপনি ঘরে বসেই আপনার নিজের অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে টাকা উপার্জন করতে পারবেন।

তবে এটি করার জন্য আপনার এমন কিছু লেখক দরকার যারা বিভিন্ন ধরনের বিষয় সম্পর্কে লিখতে পারদর্শী । এবং তারা আপনার পত্রিকার জন্য নিয়মিত কলাম এবং নিবন্ধ লিখতে পারবে । কারণ আপনি একা একটি পুরো পত্রিকায় বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে লিখতে পারবেন না। এর জন্য আপনার একটি দল দরকার। এজন্য আপনার পত্রিকার সাথে সম্পর্কিত লেখকদের নিয়োগ করুন। এরপরে আপনার একটি অনলাইন ম্যাগাজিন ডিজাইন করুন এবং সেই ওয়েবসাইট কে গুগল এডসেন্স এর মাধ্যমে মনেটাইজ করে টাকা ইনকাম করুন । পরবর্তীতে আপনার ম্যাগাজিন যখন অনেক বেশী পপুলার হয়ে যাবে তখন আপনি বিভিন্ন লোকাল কোম্পানির বিজ্ঞাপন আপনার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন ।

এর পরে আপনার ম্যাগাজিন ডিজাইন করুন। এবং একটি চূড়ান্ত অনুলিপি প্রস্তুত করুন। অর্থাৎ, একটি অনুলিপি প্রিন্ট করুন (যাতে কমপক্ষে 10টি নিবন্ধ রয়েছে ) এবং অনুমতি এবং লাইসেন্সের জন্য এটি ISSN (আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড সিরিয়াল নম্বর) এ পাঠান। আপনি যখন প্রকাশনার লাইসেন্স পাবেন , তখন আপনার পত্রিকা চালু করুন। এবং তারপর ক্রমাগত প্রকাশ. এবং অর্থ উপার্জন করুন।

50. ই-কমার্স ওয়েবসাইট

বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষই অনলাইনে কেনাকাটা করে থাকে। এবং এর জন্য তারা দারাজ, রকমারি, চালডালের মতো ই-কমার্স ওয়েবসাইট ব্যবহার করে । যদিও দারাজে বিক্রি হওয়া বেশীরভাগ পণ্যগুলি তাদের নিজস্ব নয় । বরং তা বিভিন্ন মার্চেন্টের । এই ধরনের ওয়েবসাইটগুলি নিজেদের পন্য বিক্রির পাশাপাশি, মার্চেন্টদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। আর এর বিনিময়ে তারা বিক্রিত পণ্যের একটা কমিশন কেটে নেয় । এইভাবে এই ওয়েবসাইটগুলি প্রচুর পরিমাণ টাকা ইনকাম করে।

প্রথমে আপনার এড়িয়ার ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করুন এবং তাদেরকে আপনার এই ইকমার্স ওয়েবসাইটের ধারণা সম্পর্কে বলুন । এবং তাদের পণ্য আপনার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করতে রাজি করান । এর পর আপনি একটি ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করুন এবং ব্যবসায়ীদের সাথে তাদের পণ্যের তালিকা তৈরি করে আপনার ওয়েবসাইটে আপলোড করুন।এছাড়া আপনি নিজের কিছু প্রোডাক্টও আপনার ওয়েবসাইটে রাখতে পারেন। এরপর সেই প্রোডাক্ট গুলো বিক্রি করে টাকা ইনকাম করুন । সেই সাথে আপনি আপনার ইকমার্স ওয়েবসাইটে বিভিন্ন এড লাগিয়েও এক্সট্রা ইনকাম করতে পারবেন ।

অনলাইনে আয় করার উপায়

এই ছিল অনলাইন ইনকামের 50টি স্ট্রং পদ্ধতি, যেগুলোর সাহায্যে আপনি ঘরে বসেই অনলাইনের মাধ্যমে ভাল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। আপনি একজন ছাত্র, গৃহিণী বা বেকার যেটাই হোন না কেন, আপনার যদি কোন বিষয়ের উপর ভাল দক্ষতা থাকে এবং সেই সাথে আপনি যদি কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন তবে আপনি ঘরে বসে অনলাইনে আরনিং করতে পারবেন । আপনার যদি বিনিয়োগ করার মতো টাকা না থাকে, তাহলেও আপনি অনলাইনে টাকা আয় করতে পারেন । অর্থাৎ আপনি কোনো টাকা খরচ না করেই বিনামূল্যেই আপনার দক্ষতার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা সব ধরনের উপার্জনের পদ্ধতি সম্পর্কে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি । অর্থাৎ বিনা পয়সায় কিভাবে আয় করা যায়? টাকা ছাড়া কিভাবে ইনকাম করা যায়? কিভাবে মোবাইলের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করবেন? কিভাবে ঘরে বসে টাকা ইনকাম করবেন? অনলাইনে কাজ করে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়? কিভাবে ব্লগিং এর মাধ্যমে টাকা আয় করা যায়? কীভাবে ইউটিউবিং করে টাকা ইনকাম করবেন? কিভাবে রিসেলিং করে অর্থ উপার্জন করতে হয়? কিভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে টাকা আয় করবেন? কিভাবে অ্যাপস এর মাধ্যমে টাকা আয় করবেন? অনলাইনে টাকা ইনকাম করার অ্যাপ কি কি? ইত্যাদি ইত্যাদি

শেষ কথা

আপনি যদি অনলাইনের মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ উপার্জন করতে চান তাহলে আপনি এমন একটি পদ্ধতি বেছে নিন যা আপনার পছন্দের এবং সেই সাথে আপনার সেই বিষয়ে দক্ষতা আছে । অন্য কাজের দিকে তাকাবেন না, আপনার পছন্দের একটি কাজ বেছে নিন এবং কঠোর পরিশ্রম করতে শুরু করুন এবং আপনি সফল না হওয়া পর্যন্ত কাজটি করতে থাকুন।

আজকের এই আর্টিকেলে, আপনি অনলাইনে উপার্জনের 50টি জনপ্রিয় উপায় সম্পর্কে জেনেছেন । আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান । ধন্যবাদ

অনলাইন উপার্জন FAQs

প্রশ্ন ১. কিভাবে ঘরে বসে অনলাইনে টাকা আয় করবেন?

উত্তরঃ অনলাইনে টাকা আয় করার জন্য অনেক ধরনের উপায় আছে। আজকের আর্টিকেলে আমরা অনলাইনে অর্থ উপার্জনের 50টি উপায় সম্পর্কে আপনাদের বলেছি । এগুলোর যে কোন একটির সাহায্যে আপনি ঘরে বসে নিয়মিত অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

প্রশ্ন ২। কিভাবে মোবাইল থেকে টাকা আয় করবেন?

উত্তরঃ মোবাইলের মাধ্যমে টাকা আয় করার অনেক উপায় আছে । যেমন বিভিন্ন অনলাইন আর্নিং অ্যাপস , গেমস, রিসেলিং বিজনেস , স্মার্টফোন ফটোগ্রাফি, অনলাইন সার্ভে ইত্যাদি।

প্রশ্ন-৩। অনলাইন ইনকামের সেরা উপায় কোনটি?

উত্তরঃ ব্লগিং এবং ইউটিউবিং হল অনলাইনে ইনকাম করার সেরা উপায়। এগুলোর সাহায্যে আপনি মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। এছাড়াও, ক্রিপ্টোকারেন্সি, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং রিসেলিংও অনলাইন আরনিং এর খুব ভাল অপশন।

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment