কিভাবে অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড চেক এবং ডাউনলোড করবেন

বর্তমান সময়ে NID কার্ড বা ভোটার আইডি কার্ড আমাদের প্রত্যেকের জন্যই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি জিনিস। মোবাইলের সিম কার্ড কেনা থেকে শুরু করে, অনেক সময় ফেইসবুক আইডি ভেরিফাই করার জন্যও ভোটার আইডি কার্ডের প্রয়োজন পরে। তাই আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আপনাদের দেখাবো, ঘরে বসে কিভাবে অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড চেক এবং ডাউনলোড করবেন।

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার পদ্ধতি

আজকের এই পোস্টে আমরা আপনাদের সাথে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার পদ্ধতি সহজ ভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করছি। আজকের দেখানো পদ্ধতিতে আপনারা আপনাদের ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি চেক এবং ডাউনলোড করতে পারবেন। আপনারা দুই ভাবে ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন –

  • ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর ব্যবহার করে
  • এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে

আপনার ভোটার তথ্য হালনাগাদ করার সময় আপনার পূরণ করা ফরমের একটি অংশ বা নিবন্ধন স্লিপ আপনাকে দিয়ে দেওয়া হবে। এই স্লিপের মধ্যে একটি ফরম নম্বর থাকবে তা আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে।

আর যদি আপনার আগে থেকেই ভোটার আইডি কার্ড থেকে থাকে এবং আপনি ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে চাচ্ছেন তাহলে আপনার শুধু এনআইডি কার্ডের নম্বরটি থাকলেই হবে।

আপনারা জাতীয় পরিচয়পত্রের অনলাইন কপি বা NID soft copy ব্যবহার করে প্রায় সব ধরনের কাজ যেমন বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা, সিম রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদি করতে পারবেন।

ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর ব্যবহার করে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার পদ্ধতি

ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর ব্যবহার করে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার জন্য নিচের ধাপ গুলো অনুসরন করুন-

  • ভোটার আইডি কার্ড চেক করার জন্য প্রথমে এই লিংকে ক্লিক করুন।
  • এরপর ফর্ম নম্বর এর বাম পাশে রেডিও বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর এন.আই.ডি অথবা ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর লিখা ঘরে আপনার ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর টি দিন। (নিচের ছবি দেখুন)
ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর
  • জন্ম তারিখ এর ঘরে, ভোটার তথ্য হালনাগাদের সময় যে জন্ম তারিখ দিয়েছেন সেটি লিখে, নিচের ফাঁকা ঘরে ক্যাপচা টাইপ করে ভোটার তথ্য দেখুন বাটনে ক্লিক করুন।
  • সবকিছু ঠিক থাকলে আপনার ভোটার তথ্য গুলো নিচের ছবির মত দেখাবে।
আরও পড়ুনঃ জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড

এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার পদ্ধতি

এনআইডি নম্বর ব্যবহার করে ভোটার আইডি কার্ড চেক করার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরুন করুন-

  • ভোটার আইডি কার্ড চেক করার জন্য প্রথমে এই লিংকে ক্লিক করুন।
  • এরপর এন.আই.ডি নম্বর এর বাম পাশে রেডিও বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর এন.আই.ডি অথবা ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর লিখা ঘরে আপনার এন.আই.ডি কার্ডের নম্বর টি লিখুন। জন্ম তারিখ এর ঘরে, ভোটার তথ্য হালনাগাদের সময় যে জন্ম তারিখ দিয়েছেন সেটি লিখে, নিচের ফাঁকা ঘরে ক্যাপচা টাইপ করে ভোটার তথ্য দেখুন বাটনে ক্লিক করুন।
  • সবকিছু ঠিক থাকলে আপনার ভোটার তথ্য গুলো নিচের ছবির মত দেখাবে।

কিভাবে ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করবেন

ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করা বলতে ভোটার আইডি কার্ডের স্ক্যান কপি ডাউনলোড করাকে বোঝায়।বর্তমানে আমাদের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কাজের জন্য ভোটার আইডি কার্ডের প্রয়োজন পরে। কিন্তু ভোটার আইডি কার্ডের হার্ড কপি সব সময় আমাদের সাথে নাও থাকতে পারে।

তাই যদি আপনার মোবাইল ফোনে ভোটার আইডি কার্ডের সফটকপি ডাউনলোড করে রাখেন তাহলে বিশেষ প্রয়োজনে আপনি সেটি ব্যবহার করে আপনার কাজ চালিয়ে নিতে পারবেন। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ভোটার আইডি কার্ডের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করে রাখেন কিন্তু তাদের এনআইডি কার্ড আসতে অনেক দেরি হয়।

এমন অবস্থায় তারাও মোবাইলে এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করে তাদের যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারবেন। তাহলে চলুন দেখে নেয়া যাক কিভাবে ভোটার আইডির অনলাইন কপি ডাউনলোড করবেন।

ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করার জন্য নিচের ধাপ গুলো অনুসরন করুন-

  • ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপির রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য প্রথমে এই লিংকে প্রবেশ করুন।
  • এরপর নিচের ছবির মত দেখতে পাবেন। সেখান থেকে “রেজিষ্ট্রেশন ফরম পূরণ করতে চাই” বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর নিচের ছবির মত পেজ ওপেন হবে, সেখান থেকে রেজিস্টার করুন লেখায় ক্লিক করুন।
  • তারপরে নিচের ছবির মত একটি ফরম ওপেন হবে। এখানে জাতীয় পরিচয়পত্র / ফর্ম নম্বরের নিচের ফাঁকা ঘরে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র / ফর্ম নম্বর লিখুন। জন্ম তারিখ এর ঘরে জন্ম তারিখ লিখে ক্যাপচা টাইপ করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
  • পরের পেজে বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানার নিচে থাকা বিভাগ, জেলা এবং উপজেলার ড্রপ ডাউন মেনু থেকে আপনার বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা সিলেক্ট করে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।
  • পরের পেজে আপনার মোবাইল নাম্বার ভেরিফিকেশন করতে হবে। মোবাইল নম্বর এর নিচের ফাঁকা ঘরে মোবাইল নাম্বার টাইপ করে বার্তা পাঠান বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর আপনার মোবাইলে ছয় সংখ্যার একটি কোড পাঠানো হবে। যাচাইকরণ কোডটি দিন এর নিচের ঘরে কোডটি টাইপ করে বহাল বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর নিচের ছবির মত পেজ ওপেন হবে। ছবিতে দেওয়া ইন্সট্রাকশন ফলো করুন।
  • এরপর আপনার স্মার্টফোনে NID Wallet এপ্লিকেশনটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন।
  • ইন্সটল কমপ্লিট হওয়ার পর NID Wallet এপ্লিকেশনটি ওপেন করুন। এরপর Language সিলেক্ট করে Agree and Continue বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর ক্যামেরা চালু করুন বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর আপনার কম্পিউটার থেকে QR কোডটি স্ক্যান করুন
  • এরপর ফেস স্ক্যান শুরু করুন বাটনে ক্লিক করুন
  • স্ক্যান করার ধাপসমূহ অনুসরন করে ফেস স্ক্যান কমপ্লিট করুন।
  • ফেস স্ক্যান কমপ্লিট করার পর নিচের ছবির মত পেজ ওপেন হবে। এখান থেকে সেট পাসওয়ার্ড বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর ইউজারনেম এর ঘরে ইউজারনেম টাইপ করে পাসওয়ার্ড এর ঘরে পাসওয়ার্ড টাইপ করুন। এরপর পুনরায় পাসওয়ার্ড লিখুন এর ঘরে একই পাসওয়ার্ড পুনরায় টাইপ করে আপডেট বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপরের পেজে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের তথ্যসহ আপনি কয়েকটি মেনু দেখতে পাবেন। যেহেতু আপনারা ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করবেন, সেহেতু আপনারা ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করুন।
  • ডাউনলোড অপশনে ক্লিক করার সাথে সাথে আপনার কাঙ্ক্ষিত এনাআইডি কার্ড বা ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড স্টার্ট হবে। এনাআইডি কার্ড বা ভোটার আইডি কার্ডটি পিডিএফ ফরম্যাটে ডাউনলোড হবে।

স্মার্ট কার্ড চেক এবং স্মার্ট কার্ড ডাউনলোড

পূর্বের ভোটার আইডি কার্ডকে রূপান্তরিত করে স্মার্ট কার্ড বা স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ড করা হয়েছে। স্মার্ট কার্ড হলো এমন ধরনের কার্ড যার মধ্যে আপনার ফিঙ্গার প্রিন্ট থেকে শুরু করে চোখের রেটিনা পর্যন্ত সব ধরনের তথ্য থাকবে। এসব তথ্য একটি ছোট সিম কার্ডের মতো চিপ সেটে থাকে, যা আপনার স্মার্ট ভোটার আইডি কার্ডের সাথে সংযুক্ত থাকবে।

আর এই কারণে স্মার্ট কার্ডের কোন অনলাইন কপি বা সফটকপি হয় না, এর শুধু হার্ড কপিই রয়েছে। তাই স্মার্ট কার্ড অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা যাবে না।

তবে আপনি যদি এখনও আপনার স্মার্টকার্ড না পেয়ে থাকেন তাহলে আপনি অনলাইনের মাধ্যমে জেনে নিতে পারবেন যে, আপনার স্মার্টকার্ডটি কত দিনের পাবেন।

স্মার্ট কার্ড কবে পাবেন তা জানার জন্য এই লিংকে প্রবেশ করে জাতীয় পরিচয়পত্র / ফর্ম নম্বরের ডান পাশের ফাঁকা ঘরে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র / ফর্ম নম্বর লিখুন। জন্ম তারিখ এর ঘরে জন্ম তারিখ লিখে ক্যাপচা টাইপ করে কার্ড বিবরণ তথ্য দেখুন বাটনে ক্লিক করুন।

১৮ বছরের নিচে কিভাবে আইডি কার্ড এর অনলাইন কপি বের করবেন

বর্তমানে ভোটার হালনাগাদের নতুন নিয়ম অনুযায়ী ১৬/১৭ বছর থেকে শুরু করে সকলেই ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবে কিন্তু ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তারা কেউই তাদের ভোটার আইডি কার্ড পাবে না। তাই অনেকেই এই সময়ের মধ্যে এনআইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড করতে চায়। কিন্তু সমস্যা হল ১৮ বছরের নিচে ভোটার আইডি কার্ড ডাউনলোড করার পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। তার কারন হলো আপনার বয়স যদি ১৮ বছরের কম হয় তাহলে আপনি সাধারণ নিয়মে আপনার এনআইডি কার্ড বা ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে পারবেন না।

যদি আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ড চেক করতে না পারেন তাহলে আপনি আপনার এন.আই.ডি কার্ডের নম্বর পাবেন না।কিন্তু ভোটার আইডি ডাউনলোড করার জন্য এন.আই.ডি নম্বর অত্যন্ত জরুরি। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক ১৮ বছরের নিচে হলে কিভাবে এন.আই.ডি নম্বর কালেক্ট করবেন।

এস এম এস এর মাধ্যমে nid নাম্বার চেক করার জন্য নিচের ধাপ গুলো অনুসরন করুন-

  • প্রথমে আপনার ফোনের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন nid <form number> <Date of Birth> অর্থাৎ প্রথমে nid টাইপ করে তারপর স্পেস from নম্বর স্পেস দিয়ে জন্ম তারিখ লিখে ১০৫ নম্বরে সেন্ড করুন। (নিচের ফরম্যাট ফলো করুন)
nid 53662143 18-05-1991
  • তারপর ফিরতি মেসেজের মাধ্যমে আপনার এন.আই.ডি কার্ডের নম্বর পাঠানো হবে। (এস এম এস আসতে কিছুক্ষণ দেরি হতে পারে)। এরপর আপনি আগের দেখানো পদ্ধতিতে আপনার ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি চেক এবং ডাউনলোড করতে পারবেন ।

অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম

  • অনলাইনে ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর তথ্য পরিবর্তন করতে হলে সবার প্রথমে আপনাকে উপরের দেখানো পদ্ধতিতে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে।
  • রেজিষ্ট্রেশন কমপ্লিট হওয়ার পর এই লিংকে গিয়ে ইউজারনেম, পাসওয়ার্ড দিয়ে ক্যাপচা টাইপ করে লগইন বাটনে ক্লিক করুন।
  • লগিন এর পর নিচের ছবির মত একটি ওয়েবপেইজ দেখতে পাবেন। এখান থেকে প্রোফাইল অপশনে ক্লিক করুন।
  • প্রোফাইল পেজে আপনি আপনার ভোটার আইডি কার্ডের সকল তথ্য, যেমনঃ নাম, জন্মতারিখ, জন্মস্থান, মা-বাবার নাম ইত্যাদি দেখতে পাবেন। এরপর স্ক্রিনের উপরের ডানদিকে থাকা “এডিট” বাটনে ক্লিক করুন।
  • পরের ফিস/চার্জ পেজে ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য পরিবর্তন এর জন্য প্রযোজ্য ফি বা চার্জ এর তথ্য প্রদর্শিত হবে। এখান থেকে বহাল বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর এডিট প্রোফাইল পেজ ওপেন হবে। এই পেজে আপনারা আপনাদের ভোটার আইডি কার্ডের সকল তথ্য পুনরায় দেখতে পাবেন। আপনারা লক্ষ্য করলে দেখবেন যে, প্রতিটি তথ্যের পাশে একটি করে ফাঁকা বক্স রয়েছে। এই বক্স গুলোতে ক্লিক করলে বক্সের ভেতরে টিকমার্ক দেখতে পাবেন এবং টিকমার্কযুক্ত বক্সের তথ্যগুলো এডিট করা যাবে।
  • এই পেইজে আপনি আপনার এনআইডি কার্ডে থাকা নাম, জন্ম তারিখ, রক্তের গ্রুপ, জন্ম-নিবন্ধন নাম্বার, মা-বাবার নাম ইত্যাদি তথ্য পরিবর্তন করতে পারবেন। আপনি যে তথ্য গুলো পরিবর্তন করতে চান, সেগুলোর পাশে থাকা বক্সে টিক মার্ক দিয়ে তথ্য এডিট করুন। প্রয়োজনীয় ইনফরমেশন পরিবর্তন করা সম্পন্ন হলে উপরের ডানদিকে থাকা “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করুন।
  • পরবর্তী বাটনে ক্লিক করার পর পরিবর্তন ট্যাবে আপনি যেসব তথ্য চেঞ্জ করেছেন, সেগুলোর বর্তমান ও পরিবর্তন করার আগের অবস্থা দেখতে পাবেন। এরপর স্ক্রিনের উপরের ডানদিকে থাকা পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।
  • পরবর্তী বাটনে ক্লিক করার পর ট্রানজেকশন ট্যাব ওপেন হবে। এখানে আপনি আপনার আইডি কার্ডের যেসব তথ্য পরিবর্তন করেছেন, সেগুলোর জন্য কত টাকা ফি দিতে হবে, তা দেখাবে। ফি পরিশোধ না করা পর্যন্ত আপনি পরের ধাপে যেতে পারবেন না।

এই পর্যায়ে আপনাকে ফি পরিশোধ করতে হবে। কয়েকটি মাধ্যমে এই ফি প্রদান করতে পারবেন, সেগুলো হলোঃ

  • বিকাশ
  • ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এবং রকেট মোবাইল ব্যাংকিং
  • ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড এবং ওকে ওয়ালেট মোবাইল ব্যাংকিং
  • ট্রাষ্ট ব্যাংক লিমিটেড এবং টি-ক্যাশ মোবাইল ব্যাংকিং
  • মিউচুয়াল ট্রাষ্ট ব্যাংক লিমিটেড
  • বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড
  • ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড

বিকাশের মাধ্যমে NID সংশোধনের ফি দেয়ার নিয়ম

বিকাশের মাধ্যমে NID সংশোধনের ফি দেয়ার জন্য নিচের ধাপ গুলো অনুসরন করুন-

  • প্রথমে বিকাশ অ্যাপে লগইন করে পে বিল অপশনে ক্লিক করুন।
  • পে বিল পেজের নিচের দিকে NID Service অপশনে ক্লিক করুন। (নিচের ছবিতে দেখুন)
  • এরপর আবেদনের ধরনের নিচে থাকা ড্রপ ডাউন মেনু থেকে আবেদনের ধরন নির্বাচন করুন।
  • যেহেতু আমরা এনআইডি এর ইনফরমেশন ঠিক করার জন্য ফি পরিশোধ করব তাই NID info Correction নির্বাচন করে, এনআইডি নম্বর এর ঘরে সঠিক ভাবে এনআইডি নম্বর টাইপ করে, স্ক্রিনের নিচের ডান পাশে থাকা রাইট অ্যারো তে ক্লিক করুন।
  • এখানে আপনার কত টাকা ফি দিতে হবে সেটি শো করবে। এখান থেকে স্ক্রিনের নিচের ডান পাশে থাকা রাইট অ্যারো তে ক্লিক করুন।
  • এরপর আপনার বিকাশের পিন নাম্বার টাইপ করে রাইট অ্যারো তে ক্লিক করুন।
আরও পড়ুনঃ Foodpanda থেকে অনলাইনে খাবার অর্ডার করবেন কিভাবে

রকেটের মাধ্যমে NID সংশোধনের ফি দেয়ার নিয়ম

রকেটের মাধ্যমে NID সংশোধনের ফি দেয়ার জন্য নিচের ধাপ গুলো অনুসরন করুন-

  • প্রথমে রকেট অ্যাপে লগইন করে Bill Pay অপশনে ক্লিক করুন।
  • Bill Pay অপশনে প্রবেশ করার পর উপরের সার্চ বারে 1000 লিখে সার্চ করলে “EC Bangladesh” অপশনটি দেখতে পাবেন। অপশনটিতে ক্লিক করুন।
  • পরের পেজে NID Number এর ঘরে আপনার NID কার্ডের নাম্বার টাইপ করুন। আপনি এইখানে যে NID কার্ডের নাম্বার দেবেন টাকাটি সেই NID কার্ডের নাম্বারের জন্য ডিপোজিট হবে।
  • “Application Type” এর লেখাটিতে ক্লিক করলে কোন অপশনের জন্য কোন নাম্বার টাইপ করতে হবে তা দেখতে পাবেন। NID info Correction এর জন্য 1 টাইপ করতে হবে। নিচের ছবিতে দেখুন।
  • Application Type এর ঘরে 1 টাইপ করে, Pay For অপশনে নিজের জন্য ফি প্রদান করলে “Self” সিলেক্ট করুন এবং অন্যের জন্য হলে “Other” অপশনে ক্লিক করে Validate বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর আপনি Bill amount দেখতে পাবেন। এখান থেকে OK বাটনে ক্লিক করুন।
  • পরের পেজে আপনার রকেট একাউন্টের পিন নাম্বার টাইপ করে নিচের রকেট আইকনে প্রেস করে কিছুক্ষন ধরে রাখুন। সবকিছু ঠিক থাকলে আপনি বিল এর একটি রিসিট পাবেন।
  • এরপর আবার চলে আসুন ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য পরিবর্তন এর প্রক্রিয়াতে। “ট্রানজেকশন” পেজটিকে রিলোড দিন। পেজটি রিলোড করার পর আপনার পরিশোধকৃত অর্থ স্ক্রিনে দেখতে পাবেন। এরপর “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর আপনার সামনে কাগজপত্র ট্যাব ওপেন হবে। এখানে আপনি আপনার তথ্যসমুহের ভ্যালিডেশন হিসেবে Upload বাটনে ক্লিক করে আপনার এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট বা জন্মসনদ এর স্ক্যানকৃত ডকুমেন্ট সিলেক্ট করে “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করুন।
  • পরের পেজে সকল ইনফরমেশন ঠিকমত দেওয়া হয়েছে কিনা, তা ভালোভাবে চেক করুন। এরপর স্ক্রিনের উপরের ডান পাশে থাকা সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপর প্রোফাইল ট্যাবে ক্লিক করুন। এরপর স্ক্রিনের উপরের ডান দিকে থাকা “ডাউনলোড” বাটনে ক্লিক করলে একটি পিডিএফ ফাইল ডাউনলোড হবে।
  • পিডিএফ ফাইলটিতে প্রবেশ করলে অনেকটা নিচের ছবির মত দেখতে পাবেন।
  • এরপর পিডিএফ ফাইলটি প্রিন্ট করে রাখুন। এরপর আপনাকে আপনার ফোন নাম্বারে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে, কবে এবং কোথা থেকে আপনার নতুন ভোটার আইডি কার্ড পাবেন। এসএমএস এ উল্লেখ করা জায়গায় ডাউনলোড করা পিডিএফ ফাইলটির প্রিন্ট কপি নিয়ে গেলেই নতুন তথ্যযুক্ত ভোটার আইডি কার্ডটি পেয়ে যাবেন।

ভোটার আইডি কার্ড সম্পর্কিত কিছু কমন প্রশ্ন এবং উত্তর

প্রশ্ন:- একটি ভোটার আইডি কার্ড সর্বোচ্চ কতবার সংশোধন করা যাবে?

উত্তরঃ একটি ভোটার আইডি কার্ড সর্বোচ্চ ১ বার সংশোধন করতে পারবেন। আর সেটি করার জন্য যথেষ্ট পরিমানে যুক্তিযুক্ত কারন এবং ডকুমেন্টস থাকতে হবে।

প্রশ্ন:- বিয়ের পরবর্তী স্বামীর বা স্ত্রীর নাম সংযোজনের প্রক্রিয়া কি?

উত্তরঃ নিকাহনামা ও স্বামীর/ স্ত্রীর ভোটার আইডি কার্ড এর ফটোকপি সংযুক্ত করে NID Registration Wing/ সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হবে।

প্রশ্ন:- বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। স্বামীর / স্ত্রীর নাম কিভাবে বাদ দিতে হবে?

উত্তরঃ বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত সকল প্রকার কাগজপত্র (যেমনঃ- তালাকনামা) সংযুক্ত করে NID Registration Wing/সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ থানা/ জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হবে।

প্রশ্ন:- কিভাবে ভোটার আইডি কার্ডের ছবি পরিবর্তন করব?

উত্তরঃ এক্ষেত্রে নিজে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে জাতীয় পরিচয় পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে।

প্রশ্ন :- ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করলে তার কি কোন রেকর্ড রাখা হয়?

উত্তরঃ ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রের যে কোন ধরনের সংশোধন হলে তা সরকারের সেন্ট্রাল ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকে। 

প্রশ্ন :- ভোটার আইডি কার্ডের কোন তথ্য পরিবর্তন করতে হলে কি করতে হবে?

উত্তরঃ ভোটার আইডি কার্ডের কোন তথ্য সংশোধন করতে হলে আপনাকে ঐ তথ্য সংশোধনের পক্ষে উপযুক্ত প্রমান এবং ডকুমেন্টস জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে।

প্রশ্নঃ- ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে কিভাবে ফিরে পাব?

উত্তরঃ ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেলে আপনাকে প্রথমে আপনার নিকটস্থ থানায় জিডি করতে হবে এবং সেই জিডি এর মূল কপি সহকারে সংশ্লিষ্ট উপজেলার নির্বাচন অফিসার অথবা ঢাকার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে আবেদন করতে হবে। 

প্রশ্নঃ- ভোটার আইডি কার্ড হারিয়ে গেছে কিন্তু কোন ডকুমেন্টস নেই সেই ক্ষেত্রে কীভাবে হারানো ভোটার আইডি কার্ড ফিরে পাব

উত্তরঃ যদি আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র হারিয়ে যায় এবং আপনার কাছে কোন ডকুমেন্টস না থাকে তাহলে প্রথমে যেকোন ভাবে আপনার এন.আই.ডি কার্ডের নম্বরটা খুজে বের করুন। তারপরে আপনার কাছের থানায় জিডি করে নতুন ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করুন।

প্রশ্ন:- বিদেশ থেকে কিভাবে বাংলাদেশের ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করব?

উত্তরঃ আপনি যদি বিদেশ থেকে ভোটার আইডি কার্ডের জন্য আবেদন করতে চান তাহলে আপনাকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের ফটোকপি, নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম সনদ, এসএসসি সমমানের সার্টিফিকেট, ঠিকানার সমর্থনে ইউলিটি বিলের অনুলিপি, বাড়ি ভাড়া কিংবা হোল্ডিং ট্যাক্স এর রশিদের কপি সহ সংশ্লিষ্ট থানা কিংবা জেলা নির্বাচন অফিসে গিয়ে আবেদন করতে হবে। এবং সেখানে একটি ফরম দিবে, যা সম্পূর্ণ সঠিক ইনফরমেশন দিয়ে পূরণ করতে হবে।

প্রশ্নঃ- আমি বিদেশ থাকলে আমার ভোটার আইডি কার্ড কি অন্য কেউ সংগ্রহ করতে পারবে?

উত্তরঃ হ্যা। কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনার পাঠানো প্রতিনিধিকে authorise latter সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। তবেই সে আপনার আইডি কার্ড টি সংগ্রহ করতে পারবে।

প্রশ্নঃ- অনেকের ভোটার আইডি নম্বর ১৩ ডিজিটের আবার অনেকের ১৭ ডিজিটের কেন হয়?

উত্তরঃ যারা ২০০৮ সালের আগে ভোটার হয়েছেন বা ভোটার আইডি কার্ড পেয়েছেন তাদের এন.আই.ডি নম্বর ১৩ ডিজিটের হয়। আর ২০০৮ সালের পরে তা আপডেট করে ১৭ ডিজিটের করা হয়েছে। তাই ২০০৮ সালের পর যারা ভোটার হয়েছেন বা ভোটার আইডি কার্ড পেয়েছেন তাদের ভোটার আইডি নম্বর ১৭ ডিজিটের হয়ে থাকে।

প্রশ্নঃ- আমি কি ভোটার আইডি কার্ডে আমার বয়স কমিয়ে বা বাড়িয়ে দিতে পারব?

উত্তরঃ আমরা অনেকেই চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্য অথবা আরো অনেক কারণে ভোটার আইডি কার্ডে বয়স কমিয়ে দিতে চায়। কিন্তু এই কাজটি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আর এটি করার উপায়ও বর্তমানে প্রায় নেই বললেই চলে ।

আর এই কাজটি না করার জন্য নির্দেশনা রইল। কারণ এটি করতে গিয়ে যদি আপনি ধরা পরেন তাহলে আপনার শাস্তি হতে পারে। কারণ আইন অনুযায়ী এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

শেষ কথা 

ভোটার আইডি কার্ড বা এনআইডি কার্ড হচ্ছে একজন নাগরিকের অধিকার। ভোটার আইডি কার্ড শুধুমাত্র ভোট দেওয়ার জন্যই নয়, এটি হলো আপনার একটি পরিচয় পত্র বা জাতীয় পরিচয় পত্র ।

ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংশোধনের জন্য অনলাইন বর্তমানে সহজ একটি মাধ্যম৷ এই আর্টিকেলটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে থাকলে আশা করি ভোটার আইডি কার্ড চেক, ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি ডাউনলোড এবং এন আইডি কার্ডের তথ্য সংশোধন আপনারা নিজেরাই করতে পারবেন।

আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান।

ধন্যবাদ

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment