আঙ্গুল ফাটা সমস্যার ঘরোয়া প্রতিকার

নরম আঙ্গুলে পছন্দের নেইল পেইন্ট বা সুন্দর আংটি দিয়ে সাজাতে প্রায় সবাই পছন্দ করে। এমন অবস্থায় আঙুলের ত্বক সুস্থ রাখাও অত্যন্ত জরুরি। আঙুলের যত্ন না নিলে আঙুল ফাটা বা আঙ্গুলের চামড়া ফাটার সমস্যা হতে পারে। ফাটা আঙুল শুধু হাতের সৌন্দর্যই নষ্ট করে না, অনেক সময় ব্যথার কারণও হতে পারে। এমন অবস্থায়, সময়মতো আঙ্গুল ফেটে যাওয়ার কারণটির দিকে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তাই আজকের আর্টিকেলে আমরা আপনাদের সাথে এই সাধারণ কিন্তু গুরুতর সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এখানে আমরা আপনাদেরকে জানাবো আঙ্গুলের ফাটা নিরাময়ের ঘরোয়া কিছু উপায় সম্পর্কে। তাই আঙুল ফাটার ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে জানতে আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

আঙুলের চামড়া ফাটার কারণ

আঙ্গুল ফাটার প্রধান এবং মূল কারণ হচ্ছে ত্বকের শুষ্কতা অর্থাৎ ত্বকের অতিরিক্ত শুষ্কতার কারনেই মূলত আঙুলের মাথা ফেটে যায় ( তথ্যসুত্র )। আমরা আরও কিছু পয়েন্ট এর মাধ্যমে ত্বকের শুষ্কতার কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করছি ।

  • ঘন ঘন হাত ধোয়া
  • অতিরিক্ত রাসায়নিক যুক্ত সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা
  • অতিরিক্ত রোদে থাকার কারণে
  • শুষ্ক, গরম এবং ঠান্ডা আবহাওয়া
  • একজিমা এবং সোরিয়াসিস

আঙ্গুলের চামড়া ফাটার অন্যান্য আরও কিছু কারণ হতে পারে, যা নিম্নরূপ:

  • ভিটামিন- এঃ ভিটামিন-এ অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে ত্বকের খোসা উঠতে পারে। এমন অবস্থায় আঙ্গুল ফেটে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হতে পারে ( তথ্যসুত্র )।
  • কাওয়াসাকি রোগ – এই রোগটি একটি বিরল প্রজাতির রোগ যা রক্তনালীতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। ত্বকের খোসা ওঠা বা ফাটল এই রোগের অন্যতম লক্ষণ। ( তথ্যসুত্র )।
  • কেরাটোলাইসিস এক্সফোলিয়েটিভা – এটি একটি ত্বক সম্পর্কিত রোগ বা সমস্যা, যাতে হাতের ত্বক থেকে খোসা ছাড়তে শুরু করে । এই রোগের কারণ এখনও অজানা, তবে এটি মনে করা হয় যে এই সমস্যা ঘামের থেকে তৈরি হয়, বিশেষ করে গরমের সময়ে ( তথ্যসুত্র )। এমন পরিস্থিতিতে আঙ্গুল ফেটে যেতে পারে।
  • রিবোফ্লাভিনের অভাব – রাইবোফ্লাভিনের অভাবের কারণে (যা ভিটামিন বি 2 নামেও পরিচিত) ত্বকে ফাটল এবং শুষ্কতা তৈরি হতে পারে। শুধু তাই নয়, এটি ত্বকের চুলকানি এবং ডার্মাটাইটিসও হতে পারে । এগুলো আঙ্গুলের ফাটল ধরার কারণ হতে পারে।
  • বুড়ো আঙুল চোষা- অনেকেই মনে করেন যে, আঙুল মুখে নিয়ে চোষা বা দাঁত দিয়ে আঙুলের চামড়া কামড়ানোর অভ্যাসও আঙুল ফাটার অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে এই বিষয়ে সঠিক কোন প্রমান পাওয়া যায় না।

আঙ্গুল ফাটা সমস্যার ঘরোয়া প্রতিকার

আমরা প্রথমেই বলেছি যে আঙ্গুল ফাটার অন্যতম প্রধান কারণ হল শুষ্ক ত্বক। তাই ফাটা আঙ্গুলের জন্য এমন ধরনের উপাদানগুলি ব্যবহার করা প্রয়োজন যা ত্বককে ময়শ্চারাইজ করে বা করতে পারে। এই কথাটি মাথায় রেখে, আমরা এখানে ফাটা আঙুল সমস্যা সমাধান করার কিছু সহজ ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে নিচে আলোচনা করছি –

ভ্যাসলিন

জিনিসপত্র :

  • ভ্যাসলিন

কিভাবে ব্যবহার করে:

  • আপনার হাত ও হাতের আঙ্গুলে নিয়মিত ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন।
  • আপনি দিনে কয়েকবার আপনার হাত এবং হাতের আঙ্গুলে ভ্যাসলিন ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে যখন আপনার ত্বক শুষ্ক হতে শুরু করে।

কতটা উপকারী:

আঙুল ফাটা বা শুষ্ক ত্বক, উভয় ক্ষেত্রেই ভ্যাসলিনের ব্যবহার খুব উপকারী। ভ্যাসলিনকে পেট্রোলিয়াম জেলিও বলা হয়ে থাকে। NCBI (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ভ্যাসলিন শুষ্ক, ফাটা ত্বক প্রতিরোধের জন্য কার্যকর ভুমিকা পালন করতে পারে ( তথ্যসুত্র )। এমন অবস্থায়, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং আঙ্গুল ফাটা সমস্যা সমধান করার জন্য এটি একটি সহজ এবং কার্যকরী উপায়।

আরও পড়ুনঃ অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঘরোয়া উপায়

মধু

জিনিসপত্র :

  • ১ চামচ মধু
  • ১ চা চামচ নারকেল তেল
  • ১টি বাটি

কিভাবে ব্যবহার করে:

  • একটি পাত্রে মধু এবং নারকেল তেল একসাথে করে মিশিয়ে নিন।
  • এবার এই মিশ্রণটি আপনার হাতে এবং হাতের আঙ্গুলে ক্রিমের মতো করে লাগান।
  • এইভাবে কিছুক্ষণ রেখে দিন, তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
  • এই মিশ্রণটি সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করতে পারেন।

কতটা উপকারী:

আমরা আগেই বলেছি যে শুষ্ক ত্বক আঙ্গুল ফাটার অন্যতম প্রধান কারণ। গবেষণায় দেখা গেছে যে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে বছরের পর বছর ধরে মধু ব্যবহার হয়ে আসছে । মধু ত্বককে কোমল ও কোমল করতে সহায়ক ভুমিকা রাখে। একই সাথে, নারকেল তেল ত্বকের শুষ্কতা কমানোর সাথে সাথে সোরিয়াসিস, একজিমা এবং ত্বকের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে ( তথ্যসুত্র )।

মধু এবং নারকেল তেল উভয়েরই ময়শ্চারাইজিং করার ক্ষমতা রয়েছে, যা ত্বকের শুষ্কতায় কার্যকরী হতে পারে। এর ভিত্তিতে বলা যায়, নারকেল তেল এবং মধু, আঙুল ফাটা সমস্যা প্রতিরোধ বা উপশমে কার্যকরী।

শিলা লবণ বা Rock Salt

জিনিসপত্র :

  • ১/২ কাপ শিলা লবণ
  • পানি পরিমানমত
  • ১টি বড় বাটি

কিভাবে ব্যবহার করে:

  • একটি পাত্রে হালকা গরম পানি নিন।
  • এই পানিতে আধা চা চামচ রক সল্ট বা শিলা লবন ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • এরপর আপনার দুই হাত এই পানিতে 10 থেকে 15 মিনিট ভিজিয়ে রাখুন।
  • আপনি সপ্তাহে একবার বা দুইবার এই কাজটি করতে পারেন।

কতটা উপকারী:

রক সল্ট বা শিলা লবনের ব্যবহার ত্বকের জন্য খুবই উপকারী । গবেষণায় দেখা গেছে যে এটির ক্লিনজিং এবং ডিটক্সিফাইং প্রভাব রয়েছে, যা ত্বকের মৃত কোষগুলিকে এক্সফোলিয়েট করতে সাহায্য করে থাকে। শিলা লবন ত্বককে শুষ্ক করে না, তাই এটি হাত-পা স্ক্রাব করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর সাথে সাথে ত্বকের টিস্যুকে শক্তিশালী করে ত্বকে নতুনত্ব ও উজ্জ্বলতা আনতে সহায়তা করে।  এছাড়াও এটি ত্বকের সুরক্ষা প্রদান করতে সক্ষম । এর ফলে ত্বকের কোমলতা বজায় থাকে এবং আঙুল ফাটা সমস্যাও এড়ানো যায়।

নারকেল তেল

জিনিসপত্র :

১ চা চামচ নারকেল তেল

কিভাবে ব্যবহার করে:

  • নারকেল তেল এক হাতে নিয়ে অন্য হাত দিয়ে ম্যাসাজ করুন।
  • এবার এই তেলটি ত্বককে শুষে নিতে দিন।
  • প্রতিদিন গোসল করার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে এই তেল ব্যবহার করুন।

কতটা উপকারী:

আর্টিকেলের শুরুতেই আমরা বলেছি যে, শুষ্ক ত্বককে আঙুল ফাটার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হয়। সেই সঙ্গে আঙুল ফাটা সমস্যা রোধ করতে ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে,  নারকেল তেল উপকারী ভুমিকা পালন করতে পারে। NCBI ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, ময়শ্চারাইজার হিসাবে নারকেল তেলের ব্যবহার কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে ( তথ্যসুত্র )। তাই এটি বলা যেতে পারে যে, নারকেল তেল ত্বকের শুষ্কতা কমাতে এবং আঙ্গুল ফাটা সমস্যা প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে পারে।

চা গাছের তেল

জিনিসপত্র :

  • ২ থেকে ৩ ফোঁটা চা গাছের তেল
  • ১ বা ২ টেবিল চামচ নারকেল তেল
  • একটি পাত্র

কিভাবে ব্যবহার করে:

  • একটি পাত্রে চা গাছের তেল এবং নারকেল তেল একসাথে করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • এই মিশ্রণটি আপনার হাতে এবং আঙ্গুলে লাগিয়ে সারারাত রেখে দিন।
  • পরের দিন সকালে পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।
  • প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে হাতে এই মিশ্রণটি ব্যবহার করুন ।

কতটা উপকারী:

টি ট্রি অয়েলের ব্যবহার ত্বক সংক্রান্ত অনেক সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম । গবেষণা অনুসারে, এটি ত্বকের ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকজনিত সংক্রমণ যেমন একজিমা এবং সোরিয়াসিসের সমস্যায় ব্যবহার করা যেতে পারে ( তথ্যসুত্র )। একই সাথে, আমরা আর্টিকেলের প্রথমেই তথ্য দিয়েছি যে একজিমা এবং সোরিয়াসিসও আঙ্গুল ফাটার কারণ হতে পারে। টি ট্রি অয়েল দিয়ে ফাটা আঙুল সারানোর ঘরোয়া উপায়ে নারকেল তেলও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নারকেল তেল ত্বকের আর্দ্রতা প্রদানে সহায়তা করে । এমন অবস্থায় আঙুল ফাটা রোধে এই প্রতিকার কার্যকরী ভুমিকা পালন করতে সক্ষম।

ক্যাস্টর অয়েল

জিনিসপত্র :

  • ক্যাস্টর অয়েল (প্রয়োজনমত)

কিভাবে ব্যবহার করে:

  • কিছু পরিমাণ ক্যাস্টর অয়েল নিয়ে ফাটা আঙ্গুলে ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন।
  • এরপর এইভাবে 15-20 মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।
  • আপনি চাইলে এটি সারারাত রেখে দিতে পারেন।
  • প্রতিদিন কমপক্ষে একবার এটি ব্যবহার করুন।

কতটা উপকারী:

ক্যাস্টর অয়েল ত্বকের শুষ্কতার কারণে ফাটা আঙ্গুলের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে । গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাস্টর অয়েলে ফ্যাটি ইমোলিয়েন্ট রয়েছে। এই ইমোলিয়েন্টগুলি ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করতে পারে এবং শুষ্কতা প্রতিরোধ করতে পারে ( তথ্যসুত্র )। এছাড়াও ক্যাস্টর অয়েল বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য যেমন স্কিন কেয়ার ক্রিম, ময়েশ্চারাইজার, হ্যান্ড ক্রিমেও ব্যবহৃত হয় । ক্যাস্টর অয়েল আঙ্গুলের ত্বককে নরম ও কোমল রাখতে এবং আঙুলের ফাটা রোধ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ কিভাবে আপনার হলুদ দাঁত সাদা করবেন

অলিভ অয়েল

জিনিসপত্র :

  • ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল
  • 2 ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল
  • একটি পরিষ্কার কাপড়
  • একটি বাটি

কিভাবে ব্যবহার করে:

  • একটি পাত্রে অলিভ অয়েলের সঙ্গে ল্যাভেন্ডার তেল ভালমত মিশিয়ে নিন।
  • এবার এই মিশ্রণটি আঙুলের আক্রান্ত ত্বকে লাগান।
  • তেল বেশি হলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন।
  • এই তেলটি প্রতিদিনের ময়েশ্চারাইজার হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন।

কতটা উপকারী:

আঙুল ফাটার সমস্যায়ও অলিভ অয়েল অত্যন্ত কার্যকরী। গবেষণায় দেখা গেছে, অলিভ অয়েলে স্কোয়ালিন নামক একটি উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদানটির একটি ময়েশ্চারাইজিং প্রভাব রয়েছে, যা শুষ্ক ত্বককে ময়েশ্চারাইজি করতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়াও, গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জলপাই তেলের ব্যবহার ডার্মাটাইটিস এবং সোরিয়াসিসের সমস্যায় উপশম হিসাবে কাজ করতে পারে। অলিভ অয়েলও ত্বকের জন্য নিরাপদ বলে প্রমাণিত হয়েছে ( তথ্যসুত্র )।

একই সাথে, এখানে ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েলও ব্যবহার করা হয়েছে, যেটির অ্যান্টি সোরিয়াটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।  এটি সোরিয়াসিস, ডার্মাটাইটিস এবং একজিমা ( তথ্যসুত্র ) এর মতো ত্বকের সমস্যাগুলির উপশমের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে ।

সতর্কতা – অলিভ অয়েল পানিতে বা অন্য তেলে পাতলা করে তারপর ব্যবহার করুন।

তিসির তেল

জিনিসপত্র :

  • কয়েক ফোঁটা তিসির তেল

কিভাবে ব্যবহার করে:

  • আক্রান্ত স্থানে কয়েক ফোঁটা তিসির তেল লাগান।
  • এটি দিয়ে আপনার আঙ্গুল ম্যাসাজ করুন।
  • এই তেল দিনে একবার বা দুবার লাগান।

কতটা উপকারী:

ফ্ল্যাক্সসিডের তেল ত্বকের অনেক সমস্যায় উপকারী বলে বিবেচিত হয়েছে। তিসির বীজ ব্যবহার করে তৈরি এই তেল ত্বককে হাইড্রেট করার পাশাপাশি নরম ও কোমল করে তুলতে পারে। এটি আঁশযুক্ত ত্বকের সমস্যা থেকেও রক্ষা করতে পারে ( তথ্যসুত্র )।তাই বলা যেতে পারে যে তিসির তেল ফাটা আঙ্গুলের সমস্যা নিরাময়ে বা এটি প্রতিরোধে ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাদাম তেল

জিনিসপত্র :

  • ৪ চা চামচ বাদাম তেল
  • কয়েক ফোঁটা তিসির তেল
  • একটি বোতল বা শিশি

কিভাবে ব্যবহার করে:

  • প্রথমে বাদামের তেল এবং তিসির তেল একসাথে মিশিয়ে একটি বোতলে ভরে রাখুন।
  • এই মিশ্রণটি প্রতিদিন ঘুমানোর আগে হাতে বা আঙ্গুলে ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যবহার করুন।

কতটা উপকারী:

একজিমা এবং সোরিয়াসিস ছাড়াও ত্বকের শুষ্কতা সৃষ্টি হতে পারে এবং আঙ্গুল ফেটে যেতে পারে ( তথ্যসুত্র )। সেই সঙ্গে এই সমস্যায় বাদাম তেলকে উপকারী বলে মনে করা হয় । এছাড়াও বাদাম তেলের একটি ইমোলিয়েন্ট প্রভাব রয়েছে, যার কারণে এটি ত্বককে ময়শ্চারাইজ করতে সাহায্য করে। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে আঙুল ফাটা সমস্যা প্রতিরোধে ত্বকের জন্য বাদাম তেল ব্যবহার করা যেতে পারে ( তথ্যসুত্র )।

আরও পড়ুনঃ টনসিলের ব্যাথা দূর করার ঘরোয়া উপায়

অ্যালোভেরা জেল

জিনিসপত্র :

  • একটি অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী পাতা

কিভাবে ব্যবহার করে:

  • প্রথমে অ্যালোভেরার টুকরো বা পাতা থেকে জেল (থকথকে পদার্থ) বের করে নিন।
  • আপনি বাজারে পাওয়া অ্যালোভেরা জেল কিনেও ব্যবহার করতে পারেন।
  • এই জেলটি শুষ্ক এবং ফাটা আঙ্গুলে লাগান।
  • এই জেলটি প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ব্যবহার করুন।

কতটা উপকারী:

বছরের পর বছর ধরে ত্বকের সমস্যায় অ্যালোভেরা জেলের ব্যবহার হয়ে আসছে। আঙুল ফাটা সমস্যায়ও এটি উপকারী হতে পারে। গবেষণা অনুসারে, এতে ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা শুষ্ক ত্বকের সমস্যার জন্য উপকারী হতে পারে। এটিতে প্রদাহ-বিরোধী এবং নিরাময় বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, যা ত্বকের ক্ষতের জন্য কার্যকর হতে পারে ( তথ্যসুত্র )। অ্যালোভেরা জেলের এই প্রভাবগুলির কারণে, এটি আঙুল ফাটা সমস্যার জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়।

গ্লিসারিন

জিনিসপত্র :

  • ১ চা চামচ গ্লিসারিন
  • ১ চামচ গোলাপ জল
  • ১টি শিশি

কিভাবে ব্যবহার করে:

  • গোলাপ জল এবং গ্লিসারিন একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
  • তারপর একটি শিশিতে এই মিশ্রণটি সংরক্ষন করে রাখুন।
  • এই মিশ্রণটি দিনে কয়েকবার ফাটা আঙ্গুলে ব্যবহার করুন।

কতটা উপকারী:

শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় গ্লিসারিন ব্যবহার করা খুব উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে যে গ্লিসারিনযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করে ত্বককে ময়শ্চারাইজ করা যায় ( তথ্যসুত্র )। এটি ত্বককে কোমল করতে ভাল কাজ করে, যা আঙুল ফাটার ঝুঁকি কমাতে পারে। এছাড়াও, আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে গ্লিসারিনের একটি হিউমেক্ট্যান্ট (ময়েশ্চারাইজিং সম্পত্তি) প্রভাব রয়েছে, অর্থাৎ, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার বৈশিষ্ট্য ( তথ্যসুত্র )।

একই সঙ্গে গোলাপজল ত্বকের জন্য বহু বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে। এটি ত্বককে হাইড্রেটেড করার সাথে সাথে ত্বককে ময়শ্চারাইজ করতে এবং এটিকে উজ্জ্বল করতেও সাহায্য করে থাকে। এছাড়াও, এটি ত্বকের যেকোনো ধরনের লালভাব বা ফুসকুড়ি থেকেও উপশম দিতে সক্ষম ( তথ্যসুত্র )।

ফাটা আঙ্গুল থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু টিপস

এ পর্যন্ত আপনি আঙ্গুল ফাটার কারণ এবং এর ঘরোয়া প্রতিকার সম্পর্কে জেনেছেন। এখন আঙুল ফাটা সমস্যা প্রতিরোধ বা উপশম পেতে কিছু টিপস দেওয়া হয়েছে, যা নিম্নরূপ:

  • ঠান্ডা আবহাওয়ায় বা প্রখর রোদে বের হওয়ার সময় হাত ঢেকে রাখুন।
  • শীতে হাত নরম রাখতে গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন।
  • আপনার হাত সবসময় ময়শ্চারাইজড রাখুন।
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন এবং নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন।
  • হালকা গরম পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
  • হ্যান্ড স্যানিটাইজার অতিরিক্ত ব্যবহার করবেন না, এটি ত্বককে শুষ্ক করে দিতে পারে।
  • ঘন ঘন হাত ধুবেন না।
  • আপনার হাত ধোয়ার পর ময়েশ্চারাইজার বা হ্যান্ড ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন।
  • বাড়ির ভিতরে একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন। এটি বায়ু দ্বারা সৃষ্ট শুষ্কতা কমাতে পারে ।

শেষ কথা

আমরা একটি বিষয় আপনাদের সাথে ক্লিয়ার করে নেই যে, আঙ্গুল ফাটাগুলির জন্য উপরে উল্লিখিত ঘরোয়া প্রতিকারগুলি হালকা থেকে মাঝারি সমস্যার জন্য কার্যকর হতে পারে। যদি এই পদ্ধতি গুলো অনুসরন করার পরেও আঙুল ফাটার সমস্যা থেকে যায়, বা আঙুল থেকে রক্তপাত শুরু হয় বা ব্যথা বাড়তে শুরু করে, তাহলে যতদ্রুত সম্ভব আপনার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।

আমরা আশা করছি ফাটা আঙুলের কারণে এখন আর আপনার হাত লুকাতে হবে না। উপরে উল্লিখিত ঘরোয়া প্রতিকারের মাধ্যমে, আপনি আঙ্গুল ফাটা থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম হবেন। শুধু তাই নয়, এখানে দেওয়া টিপস ব্যবহার করেও এই সমস্যা এড়ানো যায়। তবে কিছু সতর্কতা মাথায় রাখলে আঙুল ফাটার সমস্যা যেমন হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তেমনি দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়। আশা করি ফাটা আঙ্গুল থেকে উপশম পাওয়ার বিষয়ে তথ্য প্রদানকারী এই আর্টিকেলটি আপনাদের উপকারে আসবে। স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা সম্পর্কিত তথ্যের জন্য আমাদের সাথে থাকুন।

আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান

ধন্যবাদ

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment