চুল থেকে খুশকি দূর করার উপায়

চুল আমাদের ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চুল ঝলমলে ও সুস্থ রাখতে বিশেষ করে মহিলারা অনেক কিছু করে থাকেন।সেই সঙ্গে চুল সংক্রান্ত কিছু সমস্যা আছে, যেগুলো সহজে দূর করা যায় না । এই ধরনের সমস্যার মধ্যে খুশকি অন্যতম। খুশকি দূর করার ব্যবস্থা প্রাথমিক অবস্থায় না নিলে চুলের অনেক ক্ষতি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে খুশকি দূর করতে কিছু প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। আজকের এই আর্টিকেলে জেনে নিন চুল থেকে খুশকি দূর করার উপায় সম্পর্কে।এ ছাড়া খুশকি থেকে বাঁচার উপায়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও শেয়ার করা হয়েছে আজকের এই আর্টিকেলে। এছাড়াও এই প্রতিকারগুলি চুল থেকে খুশকি দূর করার পাশাপাশি চুল পড়ার সমস্যা কমাতেও সাহায্য করতে পারে ।

খুশকি কি

খুশকি হল মাথার ত্বকের সাথে সম্পর্কিত একটি ব্যাধি, যেখানে সাদা-সাদা মৃত কোষ ঝরে যায় ( তথ্যসূত্র )। এই ঝড়ে পড়া কোষগুলি চুলে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এর ফলে চুলে চুলকানি হয় এবং ব্যক্তি অস্বস্তি অনুভব করে। অনেক কারণ এর জন্য দায়ী হতে পারে , যার মধ্যে ত্বকের সমস্যা যেমন সেবোরিক ডার্মাটাইটিস, ছত্রাক সংক্রমণ এবং ব্যাকটেরিয়া । খুশকির কারণ এবং প্রতিকারগুলি আর্টিকেলের পরবর্তী অংশে আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। খুশকির সমস্যা জনসংখ্যার প্রায় 50 শতাংশকে প্রভাবিত করে বলে মনে করা হয় ( তথ্যসূত্র )।

খুশকি কত প্রকার

খুশকির ধরনগুলি এর কারণগুলির ভিত্তিতে ভালভাবে বোঝা যায়। নীচে খুশকির কয়েকটি প্রধান প্রকার দেওয়া হল –

শুষ্ক ত্বকের খুশকি – যাদের মাথার ত্বক শুষ্ক তাদের খুশকির সমস্যা হতে পারে । শুষ্ক মাথার ত্বক, আর্দ্রতার অভাব বা আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে হতে পারে। 

সেবোরিক ডার্মাটাইটিস – এটি একটি গুরুতর ধরনের খুশকি, যাতে মাথার ত্বক চুলকায় এবং লাল ও আঁশযুক্ত হয় ( তথ্যসূত্র )।

ছত্রাকের খুশকি – যেকোনো ধরনের ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট খুশকিকে ফাঙ্গাল ড্যান্ড্রাফ বলে। ম্যালাসেজিয়া ছত্রাক, এর প্রধান কারণ হতে পারে ( তথ্যসূত্র )।

ব্যাকটেরিয়াল খুশকি – মাথার ত্বকে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যহীনতা (Propionibacterium acnes এবং Staphylococcus epidermidis) খুশকির কারণ হতে পারে। এই ধরনের খুশকিকে ব্যাকটেরিয়াজনিত খুশকি বলা হয়ে থাকে।

খুশকির কারণ কী – খুশকি হওয়ার কারণগুলি কী কী

নিম্নলিখিত কারণে খুশকির সমস্যা দেখা দিতে পারে-

  • ম্যালাসেজিয়া এক ধরণের ছত্রাক যা প্রাণী এবং মানুষের ত্বকে পাওয়া যায়। এটি ত্বকে প্রদাহ এবং সংক্রমণ ঘটাতে পারে, যার কারণে খুশকির সমস্যা হতে পারে ( তথ্যসূত্র )।
  • মাথার ত্বকে পাওয়া দুটি প্রধান ব্যাকটেরিয়া, P. acnes (Propionibacterium acnes) এবং S. এপিডার্মিসের অনুপাতের ভারসাম্যহীনতার কারণেও খুশকি হতে পারে (স্ট্যাফাইলোকক্কাস এপিডার্মাইডিস ) ।
  • শুষ্ক ত্বক খুশকির অন্যতম সাধারণ কারণ ( তথ্যসূত্র )।
  • তৈলাক্ত ত্বক ( তথ্যসূত্র )।
  • দূষণের কারণে, মাথার ত্বকে ময়লা জমে এবং কম শ্যাম্পুু করার ফলেও চুলে খুশকি হতে পারে ।
  • প্রসাধনীর প্রতি মাথার ত্বকের সংবেদনশীলতা ।
  • যারা গরম পানি দিয়ে গোসল করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে খুশকির সমস্যা বেশি দেখা যায়। চুল পরিষ্কার করার জন্য সব সময়, নরমাল তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করা উচিত।
আরও পড়ুনঃ কিভাবে পাতলা চুল ঘন করবেন

খুশকি দূর করার উপায় – খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায়

নীচে আমরা খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আপনাদেরকে তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব। খুশকি দূর করার জন্য নিচে দেওয়া উপাদানগুলো চুলের খুশকি দূর করার পাশাপাশি চুলের জন্যও উপকারী ভুমিকা পালন করে –

নিম পাতাঃ এক কাপ পানিতে ১৫ থেকে ২০ টি নিমের পাতা নিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এবার সেই পাতার পেস্ট তৈরি করুন।পেস্টটি ঠান্ডা হওয়ার পরে, মাথার ত্বকে লাগান। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। গোসলের আগে পেস্টটি লাগান। নিম একটি উপকারী গাছ, যার পাতা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে নিম পাতা খুব উপকারী ভুমিকা পালন করে। নিমের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে – অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল। নিমের অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য খুশকির জন্য সবচেয়ে কার্যকরী। এমন পরিস্থিতিতে খুশকির ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে নিমের পাতা ব্যবহার করতে পারেন।

লেবু এবং নারকেল তেলঃ ১ চা চামচ লেবুর রসের সাথে ৫ চা চামচ নারকেল তেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। গোসলের আগে মিশ্রণটি মাথার ত্বকে ভালো করে লাগান। এরপর এইভাবে আধা ঘণ্টা বা ১ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। আমরা উপরে উল্লেখ করেছি যে, ম্যালাসেজিয়া ছত্রাক খুশকির কারণ হতে পারে। লেবুতে উপস্থিত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য খুশকির জন্য কার্যকরী ভুমিকা পালন করে । এমন পরিস্থিতিতে খুশকি দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে লেবু এবং নারিকেল তেলের মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন । তবে কারো মাথায় যদি আঘাত বা ক্ষত থাকে তাহলে লেবু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ এর ব্যবহারের ফলে ক্ষত স্থানে জ্বালা হতে পারে।

চা গাছের তেল এবং বাদাম তেলঃ দুই থেকে তিন ফোঁটা চা গাছের তেলের সাথে দুই থেকে তিন ফোঁটা বাদাম তেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন । এবার এই তেলের মিশ্রনে তুলা ভিজিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। সম্ভব হলে রাতে এই মিশ্রণটি আপনার মাথায় ব্যবহার করুন এবং পরের দিন গোসলের সময় শ্যাম্পু করুন। এটি সপ্তাহে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করতে পারবেন।
এছাড়াও শ্যাম্পুতে টি ট্রি অয়েল যোগ করেও চুল ধুতে পারেন। চা গাছের তেলের ছত্রাক-বিরোধী বৈশিষ্ট্য খুশকির জন্য কার্যকর ভুমিকা পালন করে। এটি মাথার ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। তবে কারো যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে, তাহলে তাদের খুশকি দূর করার জন্য টি ট্রি অয়েল ব্যবহার করা উচিত নয়।

টক দইঃ চুলের খুশকির সমস্যার ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে টক দই ব্যবহার করতে পারেন। এতে উপস্থিত ল্যাকটোব্যাসিলাস প্যারাকেসি ব্যাকটেরিয়া খুশকির সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। প্রথমে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। এরপর মাথার ত্বকে দই লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। এবার আবার পুনরায় শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

আপেল সিডার ভিনেগারঃ একটি পাত্রে ২-৪ চা চামচ আপেল সিডার ভিনেগার এবং ২-৪ চা চামচ পানি একত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়ার পর চুলে ও মাথার ত্বকে ভিনেগারের পানি লাগান । প্রায় 15 মিনিট পর পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। গোসল করার আগে এই প্রক্রিয়াটি করুন। আপেল সাইডার ভিনেগার শুধুমাত্র মাথার ত্বক পরিষ্কার করতেই সাহায্য করে না, এটি খুশকির চিকিৎসায়ও খুব কার্যকরী। আপেল সিডার ভিনেগারে থাকা অ্যাসিডগুলি মাথার ত্বকের পিএইচ স্তরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং খুশকি কমাতে সাহায্য করে। এটি জলপাই তেলের সাথে মিশিয়েও প্রয়োগ করা যেতে পারে ।

কর্পূর ও নারকেল তেলঃ নারকেল এবং কর্পূ‌রের তেল অনেক ধরনের ভেষজ গুণে সমৃদ্ধ। এক কাপ নারকেল তেলের সাথে দুই চা-চামচ কর্পূ‌রের তেল ভালভাবে মিশিয়ে নিয়ে একটা বোতল বা পাত্রে সংরক্ষন করে রাখুন। এই তেলের মিশ্রণটি শুষ্ক স্থানে রেখে কিছুটা তেল নিয়ে প্রতিরাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মাথায় ভালোভাবে ম্যাসাজ করুন। এরপর সকালে পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে চুল ধুয়ে ফেলুন। এইভাবে টানা দুই থেকে তিন সপ্তাহ ব্যবহার করুন। এরপর উপকার পেলে ধীরে ধীরে এই মিশ্রণটি এক বা দুই দিন পর পর মাখুন বা আরও কমিয়ে দিন।

অ্যালোভেরা জেলঃ গোসলের আগে মাথার ত্বকে এবং চুলে ভালো করে অ্যালোভেরা জেল লাগান। এইভাবে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। পরে শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। অ্যালোভেরা বা অ্যালোভেরার রসের উপকারিতা অনেক, এটি এর বহু ঔষধি গুণের জন্য পরিচিত। অ্যালোভেরার প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অ্যালোভেরাতে পাওয়া এই বৈশিষ্ট্যগুলি খুশকির সমস্যা থেকে মুক্তি দিয়ে চুলকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এটি চুলকে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজও করতে পারে।

নারকেল তেলঃ প্রথমে চুল শ্যাম্পু করে ভালো করে শুকিয়ে নিন। এবার চুলে ও মাথার ত্বকে নারকেল তেল লাগিয়ে কিছুক্ষণ হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। নারকেল তেল ব্যবহারে খুশকির সমস্যা কিছুটা কমতে পারে । সেই সঙ্গে খুশকির সমস্যায় ব্যবহৃত অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ হেয়ার অয়েলেও এই নারকেল তেল ব্যবহার করা হয় ।

ডিমঃ ১ টি ডিমের সাদা অংশ এবং ৪ টেবিল চামচ টকদই একসাথে করে খুব ভালোভাবে ফেটিয়ে বা মিশিয়ে নিন। এরপর এই মিশ্রনের মধ্যে ১ টেবিল চামচ পরিমাণ পাতিলেবুর রস মেশান। এই মিশ্রণটি চুলের গোঁড়াসহ পুরো চুলে ভালোভাবে লাগান। ২০ থেকে ২৫ মিনিট পর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১ বার এই মিশ্রণটি আপনার চুলে ব্যবহার করুন।

পুরনো তেঁতুলঃ পুরনো তেঁতুল নিয়ে পানিতে ভালোভাবে গুলিয়ে নিন। এই গোলানো তেঁতুল পানি চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগান। ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন তারপর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে কমপক্ষে দুই দিন তেঁতুল পানি মাথায় দিন। এতে খুশকি দূর হওয়ার সাথে সাথে মাথার চুলকানিও কমে যায়।

লেমনগ্রাস তেলঃ আপনার শ্যাম্পুতে ২ থেকে ৩ ফোঁটা লেমনগ্রাস তেল যোগ করুন এবং এটি দিয়ে মাথার ত্বকে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। তারপর পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এই প্রতিকারটি সপ্তাহে দুইবার করা যেতে পারে। লেমনগ্রাস তেল অনেক ঔষধি গুণে ভরপুর। এটি শুধু রান্নায় নয়, অনেক ওষুধেও ব্যবহার করা হয়েছে। লেমনগ্রাসে উপস্থিত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য কার্যকর প্রভাব দেখিয়ে খুশকি কমাতে সাহায্য করতে পারে । লেমনগ্রাস তেল বাজারে এবং অনলাইনে সহজেই পাওয়া যায়।

ইউক্যালিপটাস তেলঃ নারকেল তেলের সাথে কয়েক ফোঁটা ইউক্যালিপটাস তেল মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি আপনার মাথার ত্বকে লাগান এবং ৩০-৪৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। তারপর সাধারণ পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। ইউক্যালিপটাস তেল খুশকি দূর করার প্রতিকার হিসেবে উপকারী ভুমিকা পালন করে। NCBI ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুসারে, ইউক্যালিপটাস নির্যাসযুক্ত লোশন ব্যবহার মাথার ত্বকের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করে। আমরা উপরে উল্লেখ করেছি যে, শুষ্ক মাথার ত্বক খুশকির কারণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্যালিপটাস তেল খুশকির সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

রোজমেরি তেলঃ আপনার প্রতিদিনের শ্যাম্পুতে রোজমেরি তেল যোগ করুন এবং এটি দিয়ে শ্যাম্পু করুন। এটি সপ্তাহে এক বা দুইবার ব্যবহার করা যেতে পারে। কিভাবে খুশকি দূর করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে সাদা এবং সুগন্ধি রোজমেরিতে। কারণ রোজমেরি তেল খুশকি কমাতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। প্রকৃতপক্ষে, রোজমেরিতে অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা খুশকি কমাতে সাহায্য করে।

পেঁয়াজের রসঃ দ্রুত খুশকি দূর করতে পেঁয়াজের রস অত্যন্ত কার্যকরী। প্রথমে পেঁয়াজ ভাল করে বেটে নিয়ে এর থেকে রস ছেঁকে নিন। এরপর পেঁয়াজের রস আপনার চুলের গোড়ায় ভালো করে লাগান। ২০ থেকে ৩০ মিনিট এভাবে রেখে দিন। পরে চুল ভালো ভাবে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে কমপক্ষে দু’ বার পেঁয়াজের রস আপনার মাথায় ব্যবহার করুন । এতে আপনার চুলের খুশকি দূর হওয়ার পাশাপাশি মাথা চুলকানোও কমে যাবে।

রসুন এবং অলিভ অয়েলঃ প্রথমে ১ বা ২ কোয়া রসুনের খোসা ছাড়িয়ে কুচি করে নিন। এবার একটি সসপ্যানে অলিভ অয়েল দিয়ে তাতে কুচানো রসুন দিয়ে হালকা গরম করে নিন। এবার মিশ্রণটি দুই থেকে তিন মিনিট গরম হতে দিন। তারপর মিশ্রণটি ফিল্টার করে ঠান্ডা হতে দিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা হয়ে গেলে আপনার মাথার ত্বকে লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। এই মিশ্রণটি সপ্তাহে দুবার ব্যবহার করুন। অনেক অ্যান্টিড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পুতে রসুন ব্যবহার করা হয় । প্রকৃতপক্ষে, রসুনের ছত্রাকরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং এই ক্ষেত্রে এটির ব্যবহার খুশকি কমাতে পারে । এছাড়াও, অনেক লোক চুলের বিভিন্ন সমস্যার প্রতিকার হিসাবে বছরের পর বছর ধরে রসুন ব্যবহার করে আসছে। যা খুশকির সমস্যা থেকেও মুক্তি দিতে সাহায্য করতে পারে । একই সময়ে, অলিভ অয়েলে উপস্থিত oleuropein চুলকে সুস্থ রাখতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে। এমন পরিস্থিতিতে চুল থেকে খুশকি দূর করতে রসুন ও অলিভ অয়েল হতে পারে একটি উত্তম সমাধান।

বেকিং সোডাঃ প্রথমে চুল ভাল করে ভিজিয়ে নিন। এবার মাথার ত্বকে এবং চুলে ভালো করে বেকিং সোডা লাগান। ১-২ মিনিট পর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। বেকিং সোডা শ্যাম্পুতে মিশিয়েও ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি সপ্তাহে একবার থেকে দুইবার ব্যবহার করা যেতে পারে। খুশকির অন্যতম কারণ হল ছত্রাক সংক্রমণ। এমন পরিস্থিতিতে খুশকির জন্য বেকিং সোডার ব্যবহার উপকারী হতে পারে। আসলে, বেকিং সোডাতে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে । এই বৈশিষ্ট্য খুশকির জন্য কার্যকর হতে পারে। তবে কিছু লোক বেকিং সোডা থেকে অ্যালার্জির অভিযোগ করে থাকেন। এই অবস্থায় বেকিং সোডা ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো।

আমলা গুঁড়া এবং নারকেল/অলিভ অয়েলঃ নারকেল তেল বা অলিভ অয়েলে আমলা গুঁড়ো মিশিয়ে গরম করুন। তেল বাদামী না হওয়া পর্যন্ত গরম করতে থাকুন। তেল বাদামী হয়ে এলে ঠান্ডা হতে দিন। মাথার ত্বকে এবং চুলে ভালো করে এই তেল মাখুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট মাথায় ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজ করার পর শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। আমলা চুলের টনিক হিসেবে কাজ করতে পারে। আমলায় ভিটামিন এ এবং সি পাওয়া যায়। এই উভয় পুষ্টিই খুশকি কমাতে সহায়তা করে। এমন পরিস্থিতিতে আমলা হতে পারে খুশকি দূর করার উপায়।

মেথি এবং নারিকেল তেলঃ প্রথমে মেথি বীজ আধা ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। আপনি চাইলে মেথি বীজ সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এর পর মেথি দানা ছেঁকে নিন। এরপর মেথি দানা বেটে নিয়ে নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি ভেজা চুলে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। খুশকি দূর করার উপায় যদি বলা হয়, তাহলে মেথিও এর মধ্যে রয়েছে। মেথি খুশকি কমাতে খুব কার্যকরী। এটি খুশকির সাথে ছত্রাকের সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। একই সময়ে, ঘরোয়া প্রতিকার হিসাবে মেথি বীজ ব্যবহার চুল পড়া রোধে কাজ করতে পারে ।

নোটঃ উপরে উল্লিখিত প্রতিকারগুলির যেকোনো একটি চেষ্টা করার আগে, একটি প্যাচ পরীক্ষা করুন। এছাড়াও, আপনার যদি কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকে তবে সেগুলো ব্যবহার করবেন না।

আরও পড়ুনঃ মোটা হওয়ার সহজ উপায় কি

খুশকির চিকিৎসা

খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় সম্পর্কে এই নিবন্ধে উল্লিখিত ঘরোয়া প্রতিকারের পাশাপাশি, কিছু চিকিৎসা প্রতিকার রয়েছে । যা কার্যকরী খুশকি অপসারণ পদ্ধতি হতে পারে। একজন ডাক্তার বা চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ শ্যাম্পু বা ওষুধ দিয়েও খুশকির চিকিৎসা করতে পারেন ।

  1. অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু – ডাক্তার খুশকির জন্য অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু সুপারিশ করতে পারেন। খুশকি বিরোধী শ্যাম্পুতে যে বিষয়গুলো থাকা উচিত তা নিম্নরূপ।
  • জিঙ্ক পাইরিথিওন বা জিঙ্ক ওমাডিন
  • সেলেনিয়াম সালফাইড
  • Piroctone Olamine , এই ঔষধি শ্যাম্পুটি সম্প্রতি ব্যবহার করা শুরু করেছে। এটি ‘দ্বিতীয় প্রজন্মের’ অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ এজেন্ট হিসাবে পরিচিত। এটি জিঙ্ক পাইরিথিওনের চেয়ে কম বিষাক্ত।
  • অ্যান্টিফাঙ্গাল এজেন্ট
  1. কারণের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা – আমরা উপরে উল্লেখ করেছি যে, খুশকি অনেক কারণে হতে পারে যেমন seborrheic ডার্মাটাইটিস, শুষ্ক মাথার ত্বক ইত্যাদি। এমন পরিস্থিতিতে আপনাদের অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করা উচিত। এক্ষেত্রে প্রথমে ডাক্তার খুশকির কারণ অনুসন্ধান করবেন এবং চিকিৎসা হিসেবে ওষুধ সাজেস্ট করতে পারেন ।

খুশকি থেকে মুক্তির উপায় – খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়

খুশকি থেকে বাঁচার কিছু উপায় নিচে দেওয়া হল-

  • আমরা উপরে আপনাদের বলেছি যে ধুলো, মাটি বা দূষণ খুশকির কারণ হতে পারে। এমন অবস্থায় সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিন দিন শ্যাম্পু করুন যাতে মাথার ত্বকে ময়লা না জমে এবং খুশকি রোধ করা যায়।
  • অতিরিক্ত শুষ্ক মাথার ত্বকও খুশকির কারণ হতে পারে। এই ক্ষেত্রে, একটি হালকা শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। আপনি যদি প্রতি দিন শ্যাম্পু করেন তবে কম পরিমাণে শ্যাম্পু করুন।
  • চুলের জন্য প্রসাধনী যেমন জেল, স্প্রে বা কেমিক্যালযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন। এগুলো ব্যবহারে খুশকির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
  • সঠিক অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু বেছে নিন। ঘন ঘন শ্যাম্পু পরিবর্তন করবেন না, এটি চুলের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
  • হারবাল অ্যান্টি-ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু বেছে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

খুশকি দূর করার টিপস

খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার আরও কিছু উপায় নিচে দেওয়া হল –

  • প্রচুর পানি বা পানীয় পান করে নিজেকে হাইড্রেটেড রাখুন যাতে মাথার ত্বক শুষ্ক না হয়।
  • পুষ্টিকর খাবার খান।
  • চিরুনি পরিষ্কার রাখুন এবং আপনার চিরুনি কারো সাথে শেয়ার করবেন না।
  • চিরুনি খুব জোরে ব্যবহার করবেন না এবং মাথার ত্বকে ঘাম হলে বারবার চুলকাবেন না। এর ফলে আঘাত বা সংক্রমণ হতে পারে।
  • যে তোয়ালে দিয়ে চুল মুছবেন তা পরিষ্কার হতে হবে।
  • চুলের স্টাইলিং টুল ব্যবহার করবেন না

খুশকির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

খুশকির কারণে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে –

  • খুশকির সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।
  • চুল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • যদি ছত্রাকের সংক্রমণের কারণে খুশকি হয়, তাহলে মাথার ত্বকে সংক্রমণ বাড়তে পারে
  • ঘন ঘন চুলকানির সমস্যা
  • নখ দিয়ে আঁচড়ালে মাথার ত্বকেও ক্ষতি হতে পারে

খুশকি সম্পর্কিত কিছু সচরাচর প্রশ্ন

প্রশ্নঃ খুশকি হলে কি প্রতিদিন চুল ধুতে হবে?

উত্তরঃ না, প্রতিদিন চুল ধোয়ার কারনে আপনার মাথার ত্বক তার প্রাকৃতিক তেল হারাতে পারে। এতে মাথার ত্বক শুকিয়ে যেতে পারে, যা খুশকির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শ্যাম্পু করা ভালো।

প্রশ্নঃ খুশকি কি ধূসর চুলের কারণ হতে পারে?

উত্তরঃ এই সম্পর্কিত কোন সঠিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা উপলব্ধ নেই। এ ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো হবে।

প্রশ্নঃ খুশকি কি চুল পড়ার কারণ হতে পারে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, খুশকি মাথার ত্বকের সাথে যুক্ত একটি ব্যাধি, যা মাথার ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। এতে চুল পড়ার সমস্যা হতে পারে।

প্রশ্নঃ মুখেও কি খুশকি ছড়াতে পারে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, আপনার মুখেও খুশকি ছড়াতে পারে। যেমন উল্লেখ করা হয়েছে যে, খুশকি হওয়ার পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে একটি হল স্কাল্প সোরিয়াসিস। এটি মাথার ত্বকের সাথে জড়িত একটি সাধারণ ত্বকের ব্যাধি। এটি মাথা, ঘাড় বা কানের পিছনেও ছড়িয়ে পড়তে পারে ।

প্রশ্নঃ খুশকির কারণে কি পিম্পল হতে পারে?

উত্তরঃ হ্যাঁ, খুশকির সমস্যার সঠিক চিকিৎসা না হলে এর সমস্যা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। এর কারণে ত্বকের ছিদ্র আটকে যেতে পারে এবং পিম্পলের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

শেষ কথা

খুশকি একেবারে শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা অতন্ত্য জরুরি৷ কারণ একবার যদি এটি বাড়তে আরম্ভ করে তাহলে তা নিরাময় করা কঠিন হয়ে পড়ে৷ যদি খুশকি অনেক বেড়ে যায়, তাহলে আপনার চুলের স্বাস্থ্যহানি হওয়ার সাথে সাথে মাথার তালু চুলকাবে এবং আপনার চুল পড়াও শুরু হতে পারে৷ তবে খুশকি চলে গেলে এবং মাথার তালু ফাঙ্গাসমুক্ত হলে পুনরায় আপনার মাথায় চুল গজাবে৷

আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান ।

ধন্যবাদ

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment