ডার্ক ওয়েব কি ? ডার্ক ওয়েবে কী ঘটে ?

আমরা যে ইন্টারনেট সম্পর্কে জানি বা ব্যবহার করি তা সমগ্র ওয়েবের মাত্র ৪% । বাকি ৯৬% সম্পূর্ণ লুকানো অবস্থায় থাকে, যাকে আমরা ডার্ক ওয়েব বা ডার্ক নেট নামে চিনি । ডার্ক ওয়েব বা ডার্ক নেট হল ইন্টারনেটের ডার্ক ওয়ার্ল্ড, যেখানে সারা বিশ্ব থেকে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ হয় । তবে শুধুমাত্র এটুকুই ডার্ক ওয়েবের সম্পূর্ণ সত্য নয় । প্রকৃতপক্ষে, এটি আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশী ভয়ঙ্কর এবং রহস্যময় । আপনি যদি ডার্ক ওয়েব এবং ডিপ ওয়েব সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে চান, তাহলে আজকের এই আরটিকেলটি বিশেষভাবে আপনার জন্য । আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আপনাদের বলব ডার্ক ওয়েব কি এবং ডার্ক ওয়েবে কী ধরনের কার্যকলাপ ঘটে ?

ডার্ক ওয়েব

আমরা যখনই ডার্ক ওয়েবের নাম শুনি তখনই আমাদের মাথায় নানা ধরনের প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করে । যেমন – ডার্ক ওয়েব কি? এটা কিভাবে ব্যবহার করা হয় এবং এখানে কি ধরনের কাজ করা হয় । এরপর আমরা যতই ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে জানতে শুরু করি, ততই আমাদের কৌতূহল ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং এই কিউরিসিটি কখনও শেষ হবে বলে মনে হয় না । কারণ ডার্ক ওয়েবের জগত এতটাই বিশাল এবং রহস্যময় যে সেটি সম্পর্কে জানার আসলে কোন শেষ নেই । কিন্তু সত্যি কথা হল আজও ডার্ক ওয়েব সম্পর্কে আমাদের কাছে যে সকল তথ্য আছে তা খুবই নগণ্য ।

ডার্ক ওয়েব কি – Dark Web কি – ডার্ক ওয়েব কাকে বলে ?

ডার্ক ওয়েব কি বা ডার্ক ওয়েব কাকে বলে সেটি সম্পর্কে জানার আগে আপনাকে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (www) সম্পর্কে বুঝতে হবে । ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব বা www আসলে একটি বিশ্বমানের ডিজিটাল লাইব্রেরি, যেখানে সারা বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের তথ্য URL আকারে স্টোর করা থাকে । শুধু জেনে রাখুন যে, আমরা সারা দিন ইন্টারনেটের সাহায্যে যা কিছু অ্যাক্সেস বা ব্রাউজ করি, সেই সমস্ত তথ্য শুধুমাত্র ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবেই রয়েছে । এমনকি আপনি এখন যে আর্টিকেলটি পড়ছেন সেটিও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবে উপলব্ধ ।

এই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব আবার ২ ভাগে বিভক্ত । প্রথমটি হল, সারফেস ওয়েব এবং দ্বিতীয় টি হল ডিপ ওয়েব । আর এই ডিপ ওয়েবের একটি অন্ধকার পার্ট বা অংশ রয়েছে, যা খুবই রহস্যময় । ডিপ ওয়েবের এই রহস্যময় অংশটিই আমাদের কাছে ডার্ক ওয়েব, ডার্ক নেট বা ব্ল্যাক ওয়েব নামে পরিচিত । নিচের ছবির সাহায্যে আপনি কিছুটা হলেও তা বুঝতে পারবেন ।

সারফেস ওয়েব কি ?

আমরা যদি সারফেস ওয়েব সম্পর্কে কথা বলি , তাহলে এটি হল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের উপরের পৃষ্ঠ, যা আমরা সাধারণ ভাবে ব্যবহার করতে পারি এবং যা সমগ্র ওয়েবের মাত্র ৪% । সারফেস ওয়েবের আন্ডারে থাকা তথ্য সহজেই সার্চ ইঞ্জিন মাধ্যমে অনুসন্ধান করা যায় । এছাড়াও, এটি গুগল ক্রোম, মোজিলা ফায়ারফক্সের মতো যে কোনো সাধারণ ব্রাউজার থেকে অ্যাক্সেস করা যেতে পারে । গুগল, ফেসবুক, টুইটার, Instagram, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ইউটিউবের মতো লাখ লাখ ওয়েবসাইট এই সারফেস ওয়েবে উপস্থিত রয়েছে । আরও সহজ ভাষায় বললে, আমরা গুগলে যে সমস্ত তথ্য পাই তার সবকিছুই সারফেস ওয়েবে থাকে ।

ডিপ ওয়েব কি ?

কিন্তু সারফেস ওয়েব হল সমগ্র ওয়েবের খুব ছোট একটি অংশ । আসলে সমগ্র ওয়েবের ৯৬% সম্পূর্ণ লুকানো অবস্থায় থাকে । যা সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে অনুসন্ধান করা যায় না । এমনকি গুগল ক্রোম বা মোজিলা ফায়ারফক্সের মতো বহুল ব্যবহৃত ব্রাউজারগুলো থেকেও এগুলোকে অ্যাক্সেস করা যায় না । সমগ্র ওয়েবের এই বিশাল অংশকেই আমরা ডিপ ওয়েব বলে জানি ।এবং এই ডিপ ওয়েবে অ্যাক্সেস করতে, বিশেষ কনফিগারেশন এবং সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় । তবে শুধুমাত্র সরঞ্জাম থাকাই যথেষ্ট নয়, এটি সম্পর্কে জ্ঞান এবং সম্পূর্ণ তথ্য থাকা উচিত ।

ডিপ ওয়েবের বেশীরভাগ অংশই আইনি বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয় । এতে সাবস্ক্রিপশন ভিত্তিক এবং পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত ডেটা, সরকারি ডকুমেন্ট, প্রতিরক্ষা ও অর্থ বিভাগের গোপন ডকুমেন্ট, সিকিউরিটি এজেন্সির টপ সিক্রেট ডকুমেন্ট, ব্যাংকের আর্থিক বিবরণ, চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন ধরনের গবেষণাপত্র, মহাকাশ গবেষণা সংক্রান্ত ডকুমেন্ট এবং অনুরূপ অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের টপ সিক্রেট ডকুমেন্ট রাখা হয় । এখন আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন যে, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা বা ডকুমেন্ট ডিপ ওয়েবে রাখা হয় ? এর পিছনেও একটা বিশেষ কারণ আছে ।

আসলে, ডিপ ওয়েবে ইউজারের পরিচয় এবং অনলাইন কার্যক্রম ট্র্যাক করা যায় না । আপনি কে? কোথা থেকে এসেছেন? আপনি কোন কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন? কেউ কিছু জানতে পারবে না । অর্থাৎ, আপনি সম্পূর্ণ হাইড অবস্থায় থাকবেন । এই কারণে এখানে চরম গোপনীয়তা এবং হাই লেভেলের নিরাপত্তা পাওয়া যায় । এই কারণেই সমগ্র পৃথিবীর সরকার এবং সংস্থাগুলি তাদের গোপন ডকুমেন্টগুলি ডিপ ওয়েবে রাখে । আমি আপনাদের এটাও বলে রাখি যে ডিপ ওয়েবে প্রবেশ করা কোন অবৈধ কাজ নয় ।

ডার্ক ওয়েব কি – ডার্ক নেট কি

ডার্ক ওয়েব বা ডার্ক নেট হল ডিপ ওয়েবেরই একটি অন্ধকার অংশ, যেখানে সারা পৃথিবী থেকে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কাজ করা হয় । ডিপ ওয়েবের এই অংশটিকে ডার্ক ওয়েব এবং ব্ল্যাক ডিপ ওয়েব নামেও ডাকা হয় । ডার্ক ওয়েবে কী আছে বা ডার্ক ওয়েবে কি করা হয় ? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা যেতে পারে যে, সাধারণত এখানে মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র কেনা বেচা, চুরির পণ্য ক্রয় বিক্রয়, মানব পাচার, শিশু পর্নোগ্রাফি, ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ডের তথ্য বিক্রি, লাইভ মার্ডার, লাইভ রেপ, মানব অঙ্গ পাচার, ব্ল্যাকমেইল, জৈবিক পরীক্ষা, সাইবার অপরাধ এবং হ্যাকিংয়ের মতো জঘন্য কাজগুলো করা হয়ে থাকে । এই সব কারণে ডার্ক ওয়েব ইন্টারনেটের কালো জগত নামে পরিচিত । এটি সমগ্র ইন্টারনেটের সবচেয়ে বিপজ্জনক এবং খারাপ জায়গা এবং এটিতে প্রবেশ করা বা অ্যাক্সেস করা বেআইনি ।

কিভাবে ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করবেন

ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করা অবৈধ, কিন্তু আপনি চাইলেও ডার্ক ওয়েব থেকে ঘুরে আসতে পারবেন । তবে অবশ্যই তা নিজ দায়িত্বে করবেন । ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করার জন্য কিছু বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে । অর্থাৎ, প্রথমে আপনার একটি সুরক্ষিত ইন্টারনেট সংযোগ প্রয়োজন, যা আপনার পরিচয় হাইড করে রাখবে । যাতে আপনার আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) এবং সরকারী সংস্থাগুলি আপনাকে ট্র্যাক করতে না পারে । এছাড়াও আপনার একটি টুলসের প্রয়োজন হবে ।

ডার্ক ওয়েবের জন্য টুল – কীভাবে টর ব্রাউজার ডাউনলোড করবেন

ডার্ক ওয়েবের ওয়েবসাইটগুলি সম্পূর্ণভাবে এনক্রিপ্টেড করা থাকে, যেগুলি গুগল ক্রোম বা মোজিলা ফায়ারফক্সের মতো সাধারণ ব্রাউজার থেকে অ্যাক্সেস করা যায় না । তাই ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করার জন্য আপনার একটি বিশেষ ধরনের ব্রাউজার ব্যবহার করতে হবে, যার নাম হল টর ব্রাউজার । আপনি এটি ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন ।কিন্তু আপনার নিরাপত্তার জন্য এই ব্রাউজারটি আপনি Tor এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করুন । এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার আপনি Windows, Mac, Linux এবং Android এর জন্য Tor Browser Bundle দেখতে পাবেন । এখন আপনি যে ধরনের অপারেটিং সিস্টেমে টর ব্রাউজারটি ইউজ করতে চান সেটি ডাউনলোড করুন । ধরুন আপনি যদি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে টর ব্যবহার করতে চান তাহলে Download for Windows বাটনে ক্লিক করুন (নিচের ছবিতে দেখুন) ।

যদিও টর ব্রাউজার বিল্টইন ভাবে আপনাকে হাইড করে রাখবে কিন্তু তার পরেও আপনার নিরাপত্তার জন্য একটি সিকিউর ভিপিএনও প্রয়োজন হবে । এতে করে আপনার পরিচয় সম্পূর্ণভাবে গোপন থাকবে । এর জন্য আপনারা একটি ভালো মানের পেইড ভিপিএন ব্যবহার করুন । আপনি চাইলে ফ্রি ভিপিএন ইউজ করতে পারেন, তবে এতে তেমন কোন লাভ হবে না । তাই আমরা আপনাদের ফ্রি ভিপিএন ব্যবহার না করার পরামর্শ দেব । বর্তমানে কম দামে অনেক ভাল ভিপিএন পেয়ে যাবেন । যেমন – এক্সপ্রেস ভিপিএন, হাইড মাই আইপি, নর্ড ভিপিএন, প্রাইভেট ভিপিএন বা সাইবারঘোস্টের মতো ভালো ভিপিএন ।

ডার্ক ওয়েবে প্রবেশের আগে

টর ব্রাউজার এবং একটি পেইড ভিপিএন সার্ভিস ক্রয় করার পর আপনি ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করার জন্য পরোপুরি প্রস্তুত । কিন্তু ডার্ক ওয়েবে প্রবেশের আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নিন, যা আপনার কাজে লাগবে –

  • 1. ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করার আগে অবশ্যই আপনার VPN সক্রিয় করে নিন । এটি ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করার প্রথম এবং প্রধান কাজ । ভিপিএন চালু না করে কখনই ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করা উচিত নয় । কারণ এতে আপনার আইডেন্টিটি এক্সপোজ হয়ে যাওয়ার চান্স থাকে ।
  • 2. ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করার আগে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, এটি খুব বিপজ্জনক জায়গা, যেখানে আপনাকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে । সেই সাথে আপনাকে আপনার পরিচয় গোপন রাখতে হবে । অর্থাৎ, আপনার ব্যক্তিগত কোন তথ্য ডার্ক ওয়েবের কোন ওয়েবসাইটে কোন অবস্থাতেই শেয়ার করবেন না ।
  • 3. ডার্ক ওয়েবের ওয়েবসাইটগুলির লিংক বা URL বেশ আলাদা । এই ওয়েবসাইটগুলোর ডোমেইন নেম সাধারণত .onion । অর্থাৎ ডার্ক ওয়েবের ওয়েবসাইটগুলোর ঠিকানা অনেকটা এরকম :- 4ga6r8tnsei73d99tbse8q8xhhr9o.onion হয়ে থাকে।
  • 4. ডার্ক ওয়েবে হ্যাকারের কোন অভাব নেই । ডার্ক ওয়েবের সব জায়গায় আপনি এদেরকে পাবেন । আসলে, হ্যাকাররা এখানে সবসময় সক্রিয় থাকে, আর এরা সামান্য সুযোগ পেলেই মুহূর্তের মধ্যে আপনার কম্পিউটারের সমস্ত ডেটা উড়িয়ে দিতে সক্ষম ।তাই এখানে প্রবেশ করার পর সব সময় সাবধান থাকতে হবে ।
  • 5. এমন কোনও লিঙ্কে ভুলেও ক্লিক করবেন না যা আপনাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ পাঠিয়েছে, বা আপনাকে সেই লিংকে ক্লিক করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে ৷ বা এই ধরনের কোন ফাইল ডার্ক ওয়েব থেকে ডাউনলোড করবেন না । কারণ এর ফলে আপনার কম্পিউটার বা ফোন হ্যাক হয়ে যেতে পারে ।
  • 6. আপনি যদি ডার্ক ওয়েবে কোন কিছু অনুসন্ধান করতে চান, তাহলে আপনি গ্রাম সার্চ ইঞ্জিন অথবা ডাকডাকগো সার্চ ইঞ্জিনের সাহায্য নিতে পারেন । গ্রাম হল ডার্ক ওয়েবের গুগল । অর্থাৎ, সারফেস ওয়েবে গুগলের যে জায়গাটি রয়েছে সেটি ডার্কনেটের গ্রামে রয়েছে ।
  • 7. আপনি যদি সাধারণ জ্ঞান বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করেন, তাহলে ঠিক আছে । কিন্তু আপনি যদি অপরাধমূলক ও বেআইনি কাজ করার জন্য ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করেন তাহলে আপনি যে কোনো সময় ফাঁদে পড়তে পারেন । অতএব, ডার্কনেট ব্যবহার করার সময় সর্বদা এই বিষয়টি মনে রাখবেন ।

উপরের বিষয়গুলো মাথায় রেখে যদি ডার্ক ওয়েব বা ডার্কনেটে প্রবেশ করেন তাহলে আপনার কোন ধরনের সমস্যা হবে না । তাই, ডার্ক ওয়েবে সার্ফ করার সময় উপরে উল্লেখিত ৭ টি বিষয় সবসময় মাথায় রাখুন ।

কিভাবে ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করবেন

এখন সময় হল ডার্কনেটের রহস্যময় জগতে প্রবেশ করার । আমরা আশা করছি এই পর্যায়ে আপনারা আপনাদের ভিপিএন চালু করেছেন । আপনি যদি এটি না করে থাকেন তাহলে সবার প্রথমে এটি চালু করুন । কারণ এটি ছাড়া আপনার ডার্কনেটে প্রবেশ করা ঠিক হবে না । তাই প্রথমেই আপনার পিসিতে ভিপিএন চালু করুন এবং তারপর আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপে যে প্রোগ্রামগুলি চলছে তা ক্লোজ করে দিন । এছাড়াও আপনার ডিভাইসের মাইক্রোফোন বন্ধ করে রাখুন এবং ক্যামেরা ঢেকে রাখুন, যাতে আপনি সম্পূর্ণভাবে নিরাপদ থাকেন ।

টর ব্রাউজার ওপেন করুন

এখন আপনার ডাউনলোড করা টর ব্রাউজারটি ওপেন করুন এবং Connect বাটনে ক্লিক করুন । ক্লিক করলে, এটি আপনাকে টর সার্ভারের সাথে কানেক্ট করবে, এবং সেই সাথে আপনার আইপি ঠিকানাও পরিবর্তন হয়ে যাবে এবং আপনি Tor Browser এর প্রথম পেজে পৌঁছে যাবেন । অভিনন্দন! আপনি ডার্কনেটের দরজায় দাঁড়িয়ে আছেন । এমন অবস্থায় গ্রাম সার্চ ইঞ্জিন আপনাকে সাহায্য করবে আপনি যা চান তা খুঁজে বের করতে । আপনি যে ইনফরমেশন চান তা গ্রাম সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করুন এবং সার্চ রেজাল্ট থেকে আপনার কাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন ।  কিন্তু সাবধান! হ্যাকিং এবং ভাইরাস আক্রমণ এখানে খুব সাধারণ ব্যাপার, তাই সর্বদা সতর্ক থাকুন ।

আরও পড়ুনঃ ফোন হ্যাক করার উপায় কি এবং কিভাবে এড়ানো যায় ?

ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েবের মধ্যে পার্থক্য

যতক্ষণ আপনি নরমাল ভাবে ব্রাউজ করছেন ততক্ষন আপনি ডিপ ওয়েবে আছেন । আর ডিপ ওয়েব অ্যাক্সেস করা বা ডিপ ওয়েবে প্রবেশ করা কোন বেআইনি কাজ নয় । কিন্তু আপনি কোনো অন্যায় ও বেআইনি কাজে লিপ্ত হওয়ার সাথে সাথেই বুঝে নিন যে, আপনি ডার্ক ওয়েবে পৌঁছে গেছেন এবং বেআইনি কাজ করছেন । অর্থাৎ, উপরের কথা থেকে আপনারা নিশ্চই বুঝতে পেড়েছেন যে, ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েবের মধ্যে এমন কোন সীমারেখা নেই, যা আপনাকে বলে দেবে যে, এটি ডিপ ওয়েব এবং এটি ডার্ক ওয়েব । প্রকৃতপক্ষে, ডার্ক ওয়েব হল ডিপ ওয়েবের একটি অংশ, যা অপরাধ এবং অবৈধ কার্যকলাপের জন্য ব্যবহৃত হয় । তাই নিজের বিবেচনায় আপনি বুঝে নিন যে, আপনি ডিপ ওয়েবে আছেন, নাকি ডার্ক ওয়েবে ।

কেন ডিপ ওয়েব ব্যবহার করবেন?

এখন প্রশ্ন আসে কেন ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েব ব্যবহার করা হয়? ডিপ ওয়েব বা ডার্ক ওয়েব ব্যবহারের অনেক কারণ রয়েছে। নিচে তেমন কিছু কারণ উল্লেখ করা হল –

  • 1. গোপনীয়তা – সারফেস ওয়েবে আমরা যাই করি না কেন তা ট্র্যাক করা হয় । এমনকি আমাদের প্রতিটি অনলাইন কার্যকলাপের একটি রেকর্ড রাখা হয় । অর্থাৎ সারফেস ওয়েবে আমরা যা করি তা আমরা ছাড়াও অনেকেরই জানা । কিন্তু ডিপ ওয়েবের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না । এখানে ব্যবহারকারীর কোন অনলাইন কার্যকলাপ ট্র্যাক করা যায় না । তাই অনেক মানুষ গোপনীয়তার স্বার্থে ডিপ ওয়েব ব্যবহার করে থাকে ।
  • 2. সেন্সরশিপ – সারফেস ওয়েবে বাক স্বাধীনতা থাকলেও, এখানে আপনি আপনার মনে যা আসে তা বলতে বা লিখতে পারবেন না । অনেক সময় সরকারের আপনার কথা বা লেখা পছন্দ না হলে তা সেন্সর করা হয়। অর্থাৎ আপনার সেই লেখা আর কোথাও শো করে না । এমন অবস্থায় যারা বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী, তারা তাদের মতামত প্রকাশের জন্য ডিপ ওয়েবের সাহায্য নেন ।কারণ এখানে সম্পূর্ণ বাক স্বাধীনতা রয়েছে এবং আপনি আপনার ইচ্ছামত যে কোন কিছু বলতে এবং লিখতে পারবেন ।
  • 3. পরিচয় গোপন রাখতে – আপনার আসল পরিচয় সারফেস ওয়েবে প্রায় সবাই জানে । অর্থাৎ আপনি যে ওয়েবসাইটই ভিজিট করুন না কেন, সেটি জানতে পারে আপনি কে? এবং আপনি কোথা থেকে সেই ওয়েবসাইট ব্রাউজ করছেন ? কিন্তু ডিপ ওয়েবের ক্ষেত্রে এমনটি হয় না । এখানে ব্যবহারকারী সম্পূর্ণরূপে বেনামী থাকে । তাই তিনি নির্দ্বিধায় যা খুশি বলতে এবং লিখতে পারেন, কোনো ধরনের ভয়, লোভ বা চাপ ছাড়াই ।
  • 4. নিরাপত্তা – বড় বড় কোম্পানি, প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থাগুলো সবসময় ভয়ে থাকে যে তাদের গোপন তথ্য যেন কোনভাবে চুরি না হয়ে যায় । এজন্য তারা তাদের কনফিডেনশিয়াল ডেটা সুরক্ষিত রাখতে ডিপ ওয়েবের আশ্রয় নেয় । কারণ ডিপ ওয়েবের রয়েছে ফুল এনক্রিপশন সুবিধা । এছাড়াও কোন ব্যবহারকারীর পরিচয় এবং অনলাইন কার্যকলাপ ট্র্যাক করা যায় না । তাই ডেটা সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকে ।

শেষ কথা

আমরা আশা করছি এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা ডার্ক ওয়েব কী এবং এটি কীভাবে ব্যবহার করা হয় তা বুঝতে পেড়েছেন এবং সেই সাথে ডার্ক ওয়েব ও ডিপ ওয়েব সম্পর্কেও অনেক কিছু জানতে পেড়েছেন । আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান ।

ধন্যবাদ ।

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment