পাইলস কি ? পাইলস এর লক্ষণ, কারণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার

আপনারা নিশ্চয়ই পাইলস রোগ সম্পর্কে শুনেছেন, কারণ এটি বর্তমানে একটি খুব সাধারণ সমস্যা এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ৪৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে এই সমস্যা বেশী দেখা যায় । প্রায় ৬০% মানুষ, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে পাইলসের সমস্যায় ভুগে থাকেন । পাইলসের ব্যাথা খুবই তীব্র এবং যন্ত্রণাদায়ক, এতে আপনার মলদ্বার এবং মলদ্বারের নিচের অংশে থাকা শিরা ফুলে যায় । এর ফলে, কখনও কখনও মলদ্বারে তীব্র ব্যথা হওয়ার সাথে সাথে চুলকানি এবং মলের সাথে রক্ত বের হতে দেখা যায় । যাদের পাইলস এর সমস্যা আছে তাদের উঠতে ও বসতে সমস্যায় পড়তে হয় । পাইলস এর চিকিৎসার জন্য, আপনি আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে পারেন, পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া প্রতিকারের সাহায্যে, পাইলসকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় । আজকের আর্টিকেলে আমরা আপনাদের সাথে, পাইলস কি এবং পাইলস নিরাময়ের কিছু ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব । রোগ যাই হোক না কেন, সময়মতো সেই রোগের চিকিৎসা করা প্রয়োজন, কারণ অনেক সময় একটি ছোট রোগ থেকে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে ।

হেমোরয়েড কি ? – পাইলস কি ?

পাইলস হল মলদ্বার বা মলদ্বারের শিরায় প্রদাহ । পাইলসকে, হেমোরয়েডও বলা হয় । এ রোগে মলদ্বারের ভেতরের এবং বাইরের অংশ এবং মলদ্বারের নিচের অংশে থাকা শিরা ফুলে যায় । এর ফলে মলদ্বারের ভেতরে এবং বাইরের যে কোনো একটি জায়গায় আঁচিলের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয় ।  একে ডাক্তারি ভাষায় অর্শ্বরোগও বলা হয়ে থাকে । এই রোগটি খুব ছোট মনে হলেও, যাঁরা এই রোগে ভুগছেন, তাঁরা এর যন্ত্রণা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারেন । এই রোগের কারণে একজন ব্যক্তির উঠতে বসতেও অসুবিধা হয় । আবার লজ্জার কারণে অনেক মানুষ এটা নিয়ে কথাও বলে না, যার ফলে এই সমস্যা দিন দিন বাড়তে থাকে । এমন অবস্থায় আজকের এই আর্টিকেল আপনার উপকারে আসতে পারে । 

পাইলসের প্রকারভেদ

পাইলসকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায় –

অভ্যন্তরীণ পাইলস – অভ্যন্তরীণ পাইলস হল মলদ্বারের ভিতরের আঁচিল, যা মলত্যাগের সময় বেরিয়ে আসে এবং তা থেকে রক্ত ​​বের হয় । এই আঁচিলগুলো মলত্যাগের পর বা হাত দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার পর ভেতরে চলে যায় । অবস্থা বেশী খারাপ হলে, এই আঁচিলগুলি আর ভেতরে যায় না এবং সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে রক্ত ​​বের হতে শুরু করে ।

বাহ্যিক পাইলস – বাহ্যিক পাইলস এর ক্ষেত্রে পেট খারাপ, গ্যাস, বদহজমের মতো সমস্যা দেখা যায় । ওয়ার্টের কারণে মলত্যাগের পথ সরু বা চিকন হয়ে যায় এবং মলত্যাগ করতে অনেক সমস্যা হয় । এর ফলে প্রচণ্ড ব্যথা হয় এবং সময়মত চিকিৎসা না করালে ফিসারও হতে পারে ।

পাইলসের কারণ

পাইলস রোগ হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে । আপনি যদি পাইলস হওয়ার কারণগুলো সম্পর্কে জানতে পারেন, তাহলে আপনি নিজেকে অনেকাংশে রক্ষা করতে সক্ষম হবেন । পাইলসের প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে জেনেটিক্স, অতিরিক্ত মরিচ-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করা, ভারী ওজন তোলা, স্থূলতা ইত্যাদি । এমনকি গর্ভাবস্থায়ও পাইলস হওয়ার ঝুঁকি বেশী থাকে । পাইলস রোগ হওয়ার কারণ নিচে দেওয়া হল –

  • দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য
  • নিয়মিত টয়লেটে না যাওয়া
  • অনেকক্ষণ ধরে এক পজিশনে বসে থাকা
  • দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা
  • পেট পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া
  • মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ
  • অনেকক্ষণ টয়লেটে বসে থাকা।
  • রোগটি পিতামাতার কাছ থেকেও স্থানান্তরিত হতে পারে (জেনেটিক্সের কারণে)
  • দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার সমস্যা
  • খাবারে পুষ্টির অভাব
  • অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার খাওয়া
  • বেশি ওষুধ খেলেও পাইলস এর সমস্যা হতে পারে
  • অতিরিক্ত ওজনের কারনে
  • প্রসবের সময় মহিলাদের পাইলস হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে, কারণ এই সময় মলদ্বার এলাকায় বেশি চাপ পরে ।
আরও পড়ুনঃ যৌন ক্ষমতা বাড়ানোর ঘরোয়া উপায়

পাইলসের লক্ষণ

প্রাথমিক অবস্থায় পাইলস ধরা পড়ে না বা আমরা অনেক সময় এটি বুঝতে পারি না, যা পরবর্তীতে খারাপ আকার ধারন করতে পারে । তাই আপনার যদি নিচে উল্লেখিত উপসর্গগুলির মধ্যে কোনটি থাকে তবে দেরি না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন । অনেক সময় পাইলস গুরুতর পর্যায়ে না পৌঁছালে ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়, কিন্তু রোগ বাড়ার সাথে সাথে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিতে শুরু করে –

  • মলদ্বারের চারপাশে পিণ্ডের মতো কিছু হয়েছে এমন অনুভূতি হওয়া । এই পিণ্ডে রক্ত ​​জমা হতে পারে এবং সেটিতে ব্যথাও হতে পারে ।
  • মলত্যাগ (টয়লেট) করার পরেও পেট পরিষ্কার না হওয়ার অনুভূতি
  • মলত্যাগ করার সময় রক্তপাত
  • মলত্যাগ করার সময় ব্যথা অনুভূত হওয়া
  • মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি এবং লালচে ফুসকুড়ি এবং ফুলে যাওয়া
  • মলত্যাগ করার সময় মিউকাস স্রাব
  • ঘন ঘন মল ত্যাগ করার তাগিদ, কিন্তু মলত্যাগের সময় মল না বের হওয়া

কিভাবে পাইলস নির্ণয় করা হয়?

ডাক্তার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা বা প্রোক্টোস্কোপের সাহায্যে পাইলস হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করতে পারেন । এর জন্য সাধারণত কোনো কঠিন পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না । এছাড়াও আপনার চিকিৎসার ইতিহাস এবং স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর ভিত্তি করে ডাক্তার আরও কিছু টেস্ট করার পরামর্শ দিতে পারেন ।

পাইলসের ঘরোয়া প্রতিকার – পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা

পাইলসের সমস্যা কমানোর কিছু ঘরোয়া প্রতিকার নিচে দেওয়া হল –

অ্যালোভেরা – অ্যালোভেরাতে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে, যা পাইলসের জ্বালাপোড়া কমাতে সাহায্য করে এবং সেই সাথে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর করে । এটি অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক দুই ধরনের পাইলসের জন্যই উপকারী ।মলদ্বারের বাইরের অংশে হওয়া আঁচিলের ওপর অ্যালোভেরা জেল লাগালে, জ্বালাপোড়া এবং চুলকানি অনেকটা কমে যায় ।এছাড়াও প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম অ্যালোভেরার পাল্প খেলে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকটা কমে যাবে এবং সহজেই মল বের হবে ।

আপেল সাইডার ভিনেগার – আপেল সাইডার ভিনেগারের অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট বৈশিষ্ট্য, রক্তনালী সঙ্কুচিত করতে সহায়তা করে । পাইলসের সাথে রক্ত বের হলে, এক গ্লাস পানির সাথে এক চা চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার ভালোভাবে মিশিয়ে নিয়ে দিনে দুবার পান করুন । এর ফলে পাইলস থেকে রক্ত পরা অনেকটাই কমে যাবে । এছাড়াও আপেল সাইডার ভিনেগারে তুলা ভিজিয়ে নিয়ে মলদ্বারে দিলে, জ্বালাপোড়া এবং চুলকানি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ।

গরম পানি ব্যবহার – গরম পানি দিয়ে গোসল করার মাধ্যমেও পাইলসের সমস্যা কিছুটা কমানো যায় । গরম পানি ব্যবহার করার ফলে মলদ্বারের ফোলাভাব ও চুলকানি অনেকটাই কমে যায় । যদি চুলকানি হয়, তাহলে সেই জায়গায় (যেখানে চুলকানি হচ্ছে) নারকেল তেল লাগালে অনেক আরাম পাওয়া যায় ।

পাইলসের চিকিৎসায়, গরম পানি ব্যবহারের ২য় পদ্ধতি হলো, পানিকে হালকা গরম করে একটি বড় গামলা বা পাত্রে নিয়ে সেই পাত্রে বসে থাকা । এমন ভাবে বসতে হবে, যাতে মলদ্বার (পায়খানার রাস্তা) গরম পানিতে থাকে । এর ফলে মলদ্বারের পেশী শিথিল হয় এবং মল পাস করা সহজ করে তোলে । আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করুন । এছাড়াও গর্ভবতী মহিলাদের এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করা উচিত নয় । এর ফলে অনাগত শিশুর ক্ষতি হতে পারে ।

কিশমিশের রস – কিশমিশের সাহায্যে আপনি পাইলসের ঘরোয়া চিকিৎসা করতে পারেন । কিশমিশের জুস বানিয়ে পান করলে পাইলসের ক্ষেত্রে বেশ ভাল উপকার পাওয়া যায় । এর জন্য কয়েকটি কিশমিশ, ১ গ্লাস পানিতে সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন এবং সকালে এই পানির সাথে কিশমিশগুলো পিষে নিয়ে পান করলে পাইলস এর সমস্যা অনেকটা কমানো যায় ।

ক্যাস্টর অয়েল  ক্যাস্টর অয়েলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং নন-ফ্ল্যামেবলের মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে । এর ফলে এটি, পাইলসের আকার ছোট করার পাশাপাশি, পাইলসের কারণে হওয়া ব্যথা কমাতেও সহায়তা করে । এর জন্য প্রতি রাতে ৩ মিলি ক্যাস্টর অয়েল দুধের সাথে মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে লাগান । আক্রান্ত স্থানে (পাইলস) ক্যাস্টর অয়েল লাগালে পাইলসের ব্যথা অনেকটা কমে যায় ।

বরফের প্যাকের সাহায্যে – পাইলসের জায়গায় বরফ বা কোল্ড প্যাক লাগালে ব্যথা এবং ফোলাভাব অনেকটাই কমে যায় ।ত্বকের ক্ষতি রোধ করতে, বরফের টুকরোগুলি একটি তোয়ালের মধ্যে মুড়িয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন এবং প্রতি ২ ঘন্টা পর পর এই প্রক্রিয়াটি পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে ।

অলিভ অয়েল – অলিভ অয়েলের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য, রক্তনালীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে ।

লেবু – আদা এবং মধুর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন । এই মিশ্রণটি পাইলসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী ।

পেঁপে – রাতের খাবারে প্রতিদিন পেঁপে খান । এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে । এর ফলে মলত্যাগ করার সময় কোনো ব্যথা অনুভূত হবে না ।

মুলার রস – আপনার যদি পাইলসের সমস্যা থাকে, তাহলে মূলার রস এবং মুলা উভয়ই আপনার জন্য উপকারী হতে পারে । প্রতিদিন ২৫ থেকে ৫০ গ্রাম মুলার রস পান করলে পাইলস এর সমস্যায় উপকার পাওয়া যায় ।

নারকেল তেল – নারকেল তেল হল পাইলসের অন্যতম ঘরোয়া প্রতিকার । নারকেল তেল একটি ন্যাচারাল ময়েশ্চারাইজার, যা হেমোরয়েড বা পাইলসের উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে । পাইলসের জায়গায় নারকেল তেল লাগালে জ্বালা ও প্রদাহ কমে যায় ।

জিরা – অল্প একটু পানির সাথে জিরা পিষে নিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন এবং এরপর এই পেস্ট আঁচিলের উপরে লাগান । এটি প্রতিদিন একবার করে ব্যবহার করলে আঁচিল ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাবে ।

কালো তিল – প্রতিদিন আধা চা চামচ কালো তিল মাখনের সাথে মিশিয়ে খান । পাইলসের রক্তক্ষরণ কমাতে এটি খুব কার্যকরী ।

পাইলস হলে কি খাবেন না এবং কি করবেন না

পাইলস হলে কোন ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত এবং কি করা উচিত নয়, তা জানা খুবই জরুরী । খাবারের দিকে খুব ভাল করে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে একবার পাইলস ঠিক হয়ে গেলে, আবার এই সমস্যা পুনরায় না হয় । তাহলে চলুন জেনে নিই পাইলস হলে কী কী খাবার এড়িয়ে চলা উচিত –

  • ভাজা এবং অতিরিক্ত মরিচ-মসলাযুক্ত খাবার
  • জাঙ্ক ফুড এবং স্ট্রিট ফুড
  • অ্যালকোহল, ক্যাফিন এবং ধূমপান
  • বাইরের খাবার, বাসি খাবার বা ঠান্ডা খাবার
  • দীর্ঘক্ষণ টয়লেটে বসে থাকার সময় স্ট্রেন করা
  • ভারী উত্তোলন
  • খুব লম্বা লাইনে দাঁড়ানো
  • সিন্থেটিক বা খুব টাইট অন্তর্বাস পরা ।
  • যেকোন ধরনের ধূমপান করা এরিয়ে চলতে হবে
  • ঘি ও তেল খুব কম পরিমাণে খেতে হবে
  • পাইলসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কিডনি বিন এবং অন্যান্য ডাল যেমন মসুর ডাল খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে । 
আরও পড়ুনঃ সুষম খাদ্য কি ? সুষম খাদ্য গ্রহনের উপকারিতা

পাইলসের ফোলা কমানোর উপায়

পাইলসের ফোলা কমানোর কিছু উপায় নিচে দেওয়া হল –

  • একটি বড় পাত্রে হালকা গরম পানি নিয়ে, তাতে কয়েক ফোঁটা ডেটল দিন । এরপর এই পানিতে কিছুক্ষণ বসে থাকুন ।
  • মলদ্বারের চারপাশে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগান ।
  • মলদ্বার খুব ভাল করে পরিষ্কার করুন ।

পাইলসের কারণে অন্যান্য কী কী রোগ হতে পারে – পাইলসের জটিলতা

সাধারণত, সঠিক সময়ে পাইলসের চিকিৎসা করা হয় তা সেরে যায়, কিন্তু অনেক সময় চিকিৎসা করাতে দেরি হওয়ার কারণে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন- অ্যানাল ফিসার, অ্যানিমিয়া এবং ফিস্টুলা, মলদ্বারের ক্যান্সার ইত্যাদি । তাই পাইলস এর সমস্যাকে হালকাভাবে না নিয়ে পাইলসের উপসর্গ দেখার সাথে সাথে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন ।

পাইলসের চিকিৎসা – পাইলস এর চিকিৎসা

একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, পাইলস এর চিকিৎসা হিসেবে নিচের যে কোন পরামর্শ দিতে পারেন –

  • পাইলস এর সমস্যাকে ৪ টি গ্রেডে ভাগ করা হয়েছে এবং আধুনিক বিজ্ঞানে, পাইলসের চিকিৎসা এই গ্রেডগুলির উপর ভিত্তি করেই করা হয়ে থাকে । পাইলস এর সাইজ যদি বড় হয় তাহলে তা ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয় । গ্রেড ৩ এবং গ্রেড ৪ পাইলসের জন্য, চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন । তবে একজন ডাক্তার কিছু টেস্ট করার পরেই চিকিৎসার ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে থাকেন ।
  • চিকিৎসকরা প্রথমেই মলত্যাগ স্বাভাবিক করার জন্য চিকিৎসা দিয়ে থাকেন, কারণ শক্ত মল পাইলস হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ । এ জন্য ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন – শাকসবজি, চিয়া বীজ, কলা, পেঁপে, ইসবগুল ইত্যাদি খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় । এছাড়াও ডাক্তাররা মলত্যাগ স্বাভাবিক করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সাজেস্ট করতে পারেন ।
  • ওষুধ গ্রহন করার পরেও যদি অবস্থার উন্নতি না হয়, তাহলে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন । এটি একটি নরমাল সার্জারি, তাই আপনি দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই হসপিটাল থেকে রিলিজ পেয়ে যাবেন । 

পাইলসের সার্জারি নিম্নলিখিত কয়েকটি উপায়ে করা হয়ে থাকে –

  • ব্যান্ডিং- এতে, ওয়ার্ট বা আঁচিলের উপর একটি ব্যান্ড লাগানো হয় । এই ব্যান্ড লাগানোর কারণে আঁচিলের মধ্যে রক্ত ​​সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং এটি ধীরে ধীরে শুকিয়ে যায় ।
  • স্ক্লেরোথেরাপি- এতে আচিলে একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়, যার ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই আঁচিল সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে যায় ।
  • Hemorrhoidectomy- এই ধরনের অস্ত্রোপচারে আঁচিল কেটে ফেলা হয় ।
  • লেজার সার্জারি- এতে লেজারের মাধ্যমে আঁচিল দূর করা হয় । এটি বেশ সহজ এবং আধুনিক উপায় ।
  • স্ট্যাপলিং- এটিও পাইলস দূর করার একটি সুবিধাজনক এবং কার্যকর পদ্ধতি । এতে একটি স্ট্যাপলারের মাধ্যমে, ওয়ার্টের রক্ত ​​​​সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়, এর ফলে আচিল দ্রুত শুকিয়ে যায় ।

পাইলস এর ব্যাথা কমানোর উপায় – পাইলসের ব্যথা উপশম

হেমোরয়েড বা পাইলস আক্রান্ত রোগীদের মলদ্বারে প্রচন্ড ব্যাথা হয়, আর এই ব্যাথার কারণে রোগীর হাঁটা-চলা ও বসতে সমস্যা হয় । এর জন্য অনেক ধরনের মলম বাজারে পাওয়া যায়, যেগুলো আপনি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন ।এছাড়া ওরাল ট্যাবলেটও খাওয়া যেতে পারে । বর্তমানে এমন এক ধরনের বালিশ পাওয়া যায়, যা পাইলসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে । এই বালিশের উপর বসলে ব্যথা অনেকটা কমে যায়, কারণ এগুলো আক্রান্ত স্থান এবং বসার জায়গার মধ্যে একটি স্পেস তৈরি করে । এছাড়াও আপনি পাইলস এর ব্যাথা কমানোর জন্য, আর্টিকেলে উল্লেখিত ঘরোয়া উপায় গুলো অবলম্বন করতে পারেন ।

শুধু অস্ত্রোপচারেই কি পাইলস নিরাময় সম্ভব ?

আমরা আপনাদের আগেই বলেছি, পাইলস এর চিকিৎসা অনেকাংশে ওষুধের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে, কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানে পাইলসের সর্বশেষ চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার । যদি আমরা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার কথা বলি, তাহলে এগুলো অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাইলসের চিকিৎসা করে থাকে । আমরা এখানে কোন পদ্ধতির সমর্থন বা বিরোধিতা করি না, তবে আপনাদের একটা বিষয়ে সচেতন করতে চাই যে, আপনি একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার পরেই যে কোনও পদক্ষেপ গ্রহন করুন ।

পাইলসের সময় সতর্কতা

আর্টিকেলের উপরের অংশে আমরা আলোচনা করেছি, পাইলস কী কারনে হতে পারে এবং কীভাবে এটিকে এড়ানো যায় । তাই আপনাদের সেই সমস্ত কারণগুলি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা উচিত, যেগুলো পাইলস সৃষ্টি করতে পারে বা বাড়িয়ে দিতে পারে । এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরন করা এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহন করা ।

এছাড়াও আপনার নখ সব সময় ছোট এবং পরিষ্কার রাখবেন, যাতে আপনি যখন মলদ্বারে কোন কিছু লাগাবেন বা মলদ্বার পরিষ্কার করবেন তখন কোনো ধরনের ইনফেকশন বা স্ক্র্যাচ লাগার সম্ভাবনা না থাকে । পাইলস এর লক্ষন দেখা দিলে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করুন । মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন এবং সিগারেট ও অ্যালকোহল পান করা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন ।

শেষ কথা

যখনই পাইলসের লক্ষণ দেখতে পাবেন, তখন একদম দেরি না করে দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন । আপনার পরিবারের যদি কারো পাইলস এর সমস্যা হয়ে থাকে বা থেকে থাকে, তাহলে নিজের শরীরের বিশেষ যত্ন নিন এবং নিয়মিত বিরতিতে চেকআপ করান । আজকের আর্টিকেলের আমরা আপনাদের সাথে পাইলস কী, পাইলসের কারণ, লক্ষণ, পাইলসের ঘরোয়া প্রতিকার, পাইলসের চিকিৎসা, পাইলস এর ব্যাথা কমানোর উপায়, পাইলসের ফোলা কমানোর উপায়, পাইলসের সময় সতর্কতা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি । আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান ।

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment