মেটাভার্স কি ? এটা কিভাবে আমাদের পৃথিবী পরিবর্তন করবে ?

আপনি যদি ম্যাট্রিক্স এবং ইনসেপশনের মতো সিনেমা দেখে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চই জানেন যে, এই সিনেমাগুলিতে একটি কাল্পনিক জগতকে দেখানো হয়েছে, যা আমাদের বাস্তব জগতের সাথে রিলেটেড । এবং আপনি বাস্তব জগতে যা করেন তা এই কাল্পনিক জগতেও করতে পারবেন । কিন্তু বাস্তবেই যদি এই সিনেমাগুলোতে দেখানো এমন একটি পৃথিবী তৈরি করা হয়? মূলত, মেটাভার্স হল এমনই একটি জগত, যা সম্পূর্ণভাবে কাল্পনিক । কিন্তু এখন প্রশ্ন হল মেটাভার্স কি? মেটাভার্স কাকে বলে? এবং মেটাভার্স কিভাবে কাজ করে? তাহলে চলুন আজকের এই আর্টিকেলে মেটাভার্স সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জেনে নেয়া যাক ।

মেটাভার্স

২০২১ সালে, বর্তমানের সবচেয়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া Facebook, তাদের মূল কোম্পানির নাম Facebook Inc থেকে পরিবর্তন করে Meta Platforms Inc করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং মেটাভার্স নির্মাণের দিকে মনোযোগ দিতে শুরু করে । এই খবর প্রচার হওয়ার সাথে সাথে মানুষ মেটাভার্স সম্পর্কে জানতে খুব আগ্রহী হয়ে ওঠে । এবং সেই সাথে মানুষ এটির অভিজ্ঞতা নিতেও বেশ আগ্রহী হয়ে ওঠে ।

মূলত মেটাভার্স হল একটি থ্রি ডাইমেনশনাল (3D) ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড, যা বাস্তব না হলেও আপনি এর বাস্তবতা অনুভব করতে পারবেন । এই সায়েন্স ফিকশন থ্রিডি ওয়ার্ল্ডে, আপনি ব্যবসায়িক মিটিং, সম্পত্তি কেনা বেচা এবং বন্ধুদের সাথে গসিপ করা থেকে শুরু করে বিশ্ব ভ্রমণ পর্যন্ত সবকিছুই করতে পারবেন । 

মেটাভার্স কি – Metaverse কি

Metaverse শব্দটি, Meta এবং Verse এই শব্দ দুটি নিয়ে গঠিত । এখানে Meta একটি গ্রীক শব্দ, যার অর্থ হল অতিক্রম । আর Verse শব্দের অর্থ হল Universe । সুতরাং মেটাভার্স অর্থ হল এমন একটি জগৎ যা আমাদের কল্পনার বাইরে, অর্থাৎ কল্পনার বাইরের জগত ।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, মেটাভার্স হল একটি হাইপোথেটিকাল ধারণা , যা একটি ত্রিমাত্রিক (3D) ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড সম্পর্কে ধারণা দেয় । মেটাভারস হল এমন একটি পৃথিবী, যা আপনি ভিআর (ভার্চুয়াল রিয়েলিটি) বক্স এবং এআর (অগমেন্টেড রিয়েলিটি) হেডসেটের মাধ্যমে দেখতে এবং অনুভব করতে পারবেন । যদিও এটি একটি বাস্তব জগত নয়, তবুও আপনি এখানে বাস্তবতার ফিলিংস নিতে পারবেন ।

উদাহরণ স্বরূপ, আপনি যদি কখনও 3D গেম খেলে থাকেন, তাহলে আপনি দেখে থাকবেন যে, একটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট পরলে আপনার মনে হবে যে, আপনি নিজেই গেমের মধ্যে ঢুকে পরেছেন ।  আসলে কিন্তু আপনি আপনার চেয়ারেই বসে আছেন । মেটাভার্সও এমনই একটি ভার্চুয়াল জগত, যেখানে আপনি এআর এবং ভিআর-এর সাহায্যে বাস্তবতার ফিলিংস নিতে পারবেন ।

এই ভার্চুয়াল জগতে আপনি আপনার নিজের ক্যরেক্টার বা অবতার তৈরি করতে পারবেন এবং সেই ক্যরেক্টার বাস্তব জীবনে যা করে তা আপনি করতে পারবেন । যেমন ধরুন, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া, কথা বলা, গেম খেলা, অনলাইনে কেনাকাটা করা, গাড়ি ড্রাইভ করা ইত্যাদি । মেটাভার্স আপনাকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা দেবে ।

আরও পড়ুনঃ ইন্টারনেট কি ? ইন্টারনেট কিভাবে কাজ করে ?

মেটাভার্সের বিশ্ব

সাধারণত আপনি যখন অনলাইনে কোন কিছু কিনবেন, তখন আপনি একটি অনলাইন শপে যান এবং সেখান থেকে আপনার প্রয়োজনীয় পন্য অর্ডার করেন । এর জন্য, আপনি একটি 2D অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ইউজ করেন, যেখানে পণ্যগুলির একটি ছবি এবং বিবরণ থাকে । কিন্তু মেটাভার্সের জগত সম্পূর্ণ আলাদা । এখানে আপনি একটি থ্রি ডাইমেনশনাল বা 3D স্পেস পাবেন ।যেটিতে অনলাইন স্টোর দেখতে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবের শপিং মলের মতো এবং আপনি এটির ভিতরে গিয়ে আপনার পছন্দের পণ্যটি দেখে কিনতে পারবেন । ঠিক যেমন আপনি বাস্তবে কোন দোকান বা সুপার শপে গিয়ে কোন পন্য কেনেন 

মূলত, মেটাভার্স হল এক ধরনের ডিসেন্ট্রালাইজড ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড । যেখানে NFTs এবং Cryptocurrencies এর মাধ্যমে ট্রেডিং করা হয় । ডিসেন্ট্রালাইজ বা বিকেন্দ্রীকরণ হল সেই ধারণা, যার উপর ভিত্তি করে ব্লকচেইন প্রযুক্তি এবং ওয়েব 3.0 কাজ করে ।আর এই কারনেই মেটাভার্সকেও ওয়েব 3.0 এর সাথে কানেক্ট করা হচ্ছে ।

যদিও মেটাভার্স এখনও সম্পূর্ণরূপে বিকশিত হয়নি যে, আমরা ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে সম্পূর্ণভাবে বসবাস করতে পারি । কিন্তু বর্তমানে এমন অনেক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে যেখানে আপনি ভার্চুয়াল জগতের ফিলিংস নিতে পারবেন । যেমন Decentraland, Metahero, Sandbox , Bloktopia, Cryptovoxels ইত্যাদি । আপনি এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে আপনার ভার্চুয়াল জগত তৈরি করতে পারেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আপনি সেখানে জমি এবং সম্পত্তি ক্রয় বা বিক্রয় করতে পারেন ।

মেটাভার্সের ইতিহাস

১৯৯২ সালে, নিল স্টিফেনসনের একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছিল, যার নাম ছিল স্নো ক্র্যাশ । এই উপন্যাসেই “মেটাভার্স” শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল । শব্দটি একটি মহাবিশ্বের জন্য ইউজ করা হয়েছিল, যা সম্পূর্ণ কাল্পনিক । কিন্তু এতে মানুষ বাস্তব জগতের সবকিছুই করতে পারত ।

এই উপন্যাস অনুসারে, মেটাভার্স ছিল এমন একটি বিশ্ব যা আমাদের কল্পনার বাইরে । অর্থাৎ এটা ছিল আমাদের কল্পনার বাইরের জগত (বিয়ন্ড দ্য ইমাজিনেশন) । 

যদিও স্নো ক্র্যাশ উপন্যাসে বর্ণিত মেটাভার্স ছিল সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং বাস্তবতার সাথে এর কোন ধরনের সম্পর্ক ছিল না । কিন্তু বর্তমানে এটি সত্য বলে মনে হচ্ছে । কারণ ওয়েব 3 এর ধারণা এর সম্ভাবনা অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে । যাইহোক, আমরা এখনও মেটাভার্সের প্রাথমিক স্টেজে আছি । কিন্তু এর কাজ যে গতিতে এগোচ্ছে তা দেখে মনে হচ্ছে পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যে মেটাভার্সের একটা বড় অংশ তৈরি হয়ে যাবে ।

যাইহোক, এই মুহূর্তে আমাদের কাছে মাত্র কয়েকটি থ্রিডি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম আছে যেমন Decntraland , Metahero এবং Sandbox । তবে ধীরে ধীরে এগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে । আর ফেসবুক, মাইক্রোসফট এবং অ্যাপলের মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো এটা নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করছে ।

কিভাবে Metaverse কাজ করবে?

মেটাভার্স হবে একটি কম্পিউটার জেনারেটেড থার্ড ডাইমেনশনাল ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড, যা আপনি একটি ভার্চুয়াল ক্যারেক্টারের সাহায্যে উপভোগ করতে সক্ষম হবেন । এবং এই ক্যারেক্টারের সাহায্যে আপনি অন্যান্য মানুষের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হবেন । তবে এটি করার জন্য আপনার ভিআর হেডসেট বা স্মার্ট চশমার প্রয়োজন হবে । বিভিন্ন ধরনের জিনিস স্পর্শ করতে এবং অনুভব করতে, আপনাকে একটি মোশন ট্র্যাকিং ডিভাইস ইউজ করতে হবে । আর এসবই সম্ভব হবে, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর), ব্লকচেইনের মত প্রযুক্তির সাহায্যে ।

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর)

ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা ভার্চুয়াল বাস্তবতা হল মেটাভার্সে ব্যবহৃত প্রধান প্রযুক্তি । এর মেইন কাজ হল ভার্চুয়াল জগতকে বাস্তব জগতের মতো অনুভব করতে সাহায্য করা । অর্থাৎ VR হেডসেট এবং থ্রিডি চশমার সাহায্যে ভার্চুয়াল বাস্তবতা অনুভব করা ।সাধারণত এই কৌশলটি বর্তমানে গেমিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয় । কিন্তু ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ভার্চুয়াল মিটিং, অনলাইন শপিং, টিচিং, ট্রেনিং এবং মেডিকেল কনসালটেন্সির মতো কাজেও ইউজ করা হবে ।

অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR)

অগমেন্টেড রিয়েলিটি হল এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডকে বাস্তব জগতের সাথে যুক্ত করা যায় । এই প্রযুক্তির সাহায্যে আপনি ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডেও বাস্তব জগতের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন ।

এনএফটি

আমাদের রিয়্যাল লাইফে অর্থনীতি চালাতে যেমন টাকার প্রয়োজন হয় ঠিক তেমনই মেটাভার্সের অর্থনীতি চালাতেও টাকার প্রয়োজন হবে । তবে মেটাভারসে টাকা লেনদেন করার জন্য NFT ব্যবহার করা হবে । অর্থাৎ, পণ্য বা পরিষেবার লেনদেনের জন্য NFT ইউজ করা হবে । আর যখন আপনি আপনার ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডে কিছু কিনবেন, তখন আপনাকে এই এনএফটির মাধ্যমে টাকা দিতে হবে ।

আপনি মেটাভার্সে কি করতে পারবেন

মেটাভার্সের রোমাঞ্চকর জগত সম্পর্কে জানার পর আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে, আমরা মেটাভার্সে কী কী করতে পারি? তাহলে চলুন জেনে নেই মেটাভার্সে আমরা কি কি করতে পারব ?

সম্পত্তি কিনতে পারবেন – ঠিক যেমন আমরা আমাদের বাস্তব জীবনে জমি, বাড়ি বা প্লট ক্রয় বিক্রয় করি । একইভাবে আমরা মেটাভার্সেও নিজেদের জন্য ভার্চুয়াল জমি বা প্লট কিনতে পারব । পার্থক্য শুধু এই যে আমরা এই ভার্চুয়াল বাড়ি বা প্লটটি NFT আকারে কিনব এবং এর জন্য আমাদের কোথাও যেতে হবে না ।

আপনার নিজের ক্যারেক্টার তৈরি করুন – যেহেতু মেটাভার্স একটি ভার্চুয়াল জগত, সেই কারণে আমরা শারীরিকভাবে সেখানে যেতে পারব না । শুধুমাত্র ভার্চুয়াল ভাবে যেতে পারব । আর এর জন্য আপনাকে একটি ভার্চুয়াল ক্যারেক্টার তৈরি করতে হবে । যাকে দেখতে হুবহু আপনার মতো লাগবে । আর সেই তৈরিকৃত ভার্চুয়াল ক্যারেক্টারের মাধ্যমেই ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের সব কাজ করতে হয় । তবে আপনার ক্যারেক্টার কেমন হবে তা আপনি নিজেই ঠিক করবেন এবং নিজের ইচ্ছামত ডিজাইন করবেন ।

ভার্চুয়াল মিটিং করতে পারবেন – কোভিড-১৯ এর সময় অনেক কোম্পানি হোম অফিস চালু করেছে এবং তারা তাদের সব ধরনের মিটিং ভার্চুয়াল ভাবে করেছে । এবং বর্তমানেও ভার্চুয়াল মিটিং এর ধারা অব্যাহত রয়েছে । অ্যাপল, মাইক্রোসফট, আইবিএম এর মত বিশ্বের সব বড় বড় কোম্পানি অনেক আগে থেকেই ভার্চুয়াল মিটিং করে আসছে ।

একইভাবে মেটাভার্সেও আমরা ভার্চুয়াল মিটিং করতে পারব । পার্থক্য শুধু এই যে এখানে আমরা আমাদের নিজ নিজ ক্যরাক্টারের সাথে সামনা সামনি মিলিত হব । আর আমাদের মনে হবে যেন আমরা মুখোমুখি বসেই মিটিং করছি । এমনকি আমরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে পারব, যেমনটা আমরা বাস্তব জগতে করে থাকি ।

আরও পড়ুনঃ জিপিএস কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে ?

কিভাবে Metaverse থেকে অর্থ উপার্জন করতে ?

যাইহোক, মেটাভার্স ডেভেলপের বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে । কিন্তু বর্তমানে অনেক মেটাভার্স টাইপের প্রজেক্ট আছে যেখানে মানুষ বিনিয়োগ করছে এবং সেখান থেকে ভাল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছে । আপনিও এই প্রকল্পগুলিতে বিনিয়োগ করে টাকা ইনকাম করতে পারেন । 

সম্পত্তি – মেটাভার্সে আপনি ভার্চুয়াল জমি কিনতে পারবেন এবং আপনি সেই জমি বিক্রি করে বা ভাড়ায় দিয়ে ভাল টাকা উপার্জন করতে পারবেন । Decentraland এবং Sandbox হল এইরকম দুটি প্রকল্প, যেখানে আপনি আপনার নিজস্ব ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড তৈরি করতে পারবেন এবং সেই সাথে NFT আকারে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল জমি এবং প্লট কিনতে পারবেন ।Decntraland এ জমি বা প্লট কেনার জন্য মানা নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করা হয় । অন্যদিকে স্যান্ডবক্সে স্যান্ড নামে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি টোকেন ইউজ করে জমি কেনা যায় ।

মেটাভার্স টোকেন – আপনি যদি চান, তাহলে আপনি মেটাভার্স প্ল্যাটফর্মে ইউজ করার জন্য ক্রিপ্টো টোকেন কিনতে পারেন ।যেমন মানা অফ ডিসেন্ট্রান্ড, অ্যাক্স অফ অ্যাক্সি ইনফিনিটি, স্যান্ড অফ স্যান্ডবক্স ইত্যাদি । টোকেন কেনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, এগুলোর জনপ্রিয়তা যত বাড়বে, ততই এইসব টোকেনের মূল্য বাড়বে । আর এর ফলে আপনি অনেক উপকৃত হবেন ।

মেটাভার্সের উদাহরণ

অনেক Metaverse টাইপের প্রকল্প এই সময়ে নির্মাণাধীন রয়েছে । Facebook এবং NVIDIA-এর মতো কোম্পানিগুলি তাদের মেটাভার্স প্রকল্প নিয়ে দ্রুততার সাথে কাজ করছে । তবে এমন কিছু প্রকল্পও রয়েছে, যেগুলোর কাজ শেষ হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেগুলো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে । আসুন তেমন কিছু মেটাভারস সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক –

ডিসেন্ট্রাল্যান্ড – ডিসেন্ট্রাল্যান্ড হল বর্তমানের একটি জনপ্রিয় মেটাভার্স প্রকল্প যেখানে আপনি নিজের 3D ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ড ক্রিয়েট করতে পারবেন এবং মেটাভার্সের ভার্চুয়াল জগতের অভিজ্ঞতা নিতে পারেবেন ।  ডিসেন্ট্রাল্যান্ড একটি ইথেরিয়াম ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম যার মন নামে নিজস্ব ক্রিপ্টো টোকেন রয়েছে ।  আর এর মাধ্যমেই এখানে সব ধরনের লেনদেন হয়ে থাকে । আপনি এই প্ল্যাটফর্মে আপনার ভার্চুয়াল জমি বা প্লট কিনতে পারবেন এবং আপনি আপনার সুবিধা মত এটি ব্যবহার করতে পারবেন অর্থাৎ, আপনি চাইলে আপনার প্লট ভাড়া দিতে পারেন এবং বিক্রিও করতে পারেন ।

স্যান্ডবক্স – এটি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় মেটাভার্স প্রকল্প, যা একটি মেটাভার্স গেম । এখানেও আপনি ভার্চুয়াল জমি বা প্লট কিনতে এবং বিক্রি করতে পারবেন । ডিসেন্ট্রাল্যান্ডের মতো, স্যান্ডবক্সেরও নিজস্ব টোকেন রয়েছে, আর সেই টোকেনের নাম হল SAND । SAND এর সাহায্যে, আপনি NFT হিসাবে এই গেমটিতে উপস্থিত বিভিন্ন ধরনের সম্পদ কিনতে পারবেন এবং প্রয়োজনে আপনি সেগুলো বিক্রিও করে দিতে পারবেন, যেমনটা আপনি বাস্তব জগতে করতে পারেন । 

ফেসবুকের হরাইজন ওয়ার্ল্ডস – সম্প্রতি ফেসবুক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডায় তার প্রথম মেটাভার্স প্রকল্প Horizon Worlds চালু করেছে । ওকুলাসের সহযোগিতায় ফেসবুক এই প্রজেক্টটি বাস্তবায়ন করেছে  । যেখানে লোকেরা Oculus VR হেডসেটগুলির সাহায্যে তাদের নিজস্ব একটি ভার্চুয়াল জগত তৈরি করতে পারবে ।

শেষ কথা

কয়েক বছর আগে পর্যন্তও বিশ্বাস করা কঠিন ছিল যে, এমন একটি ভার্চুয়াল পৃথিবী হতে পারে যার সাথে আমাদের বাস্তব জগতের যোগাযোগ থাকবে এবং আমরা এর মধ্যে সমস্ত ধরনের কাজ করতে পারব । কিন্তু ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (এআর) এবং ব্লকচেইনের মতো প্রযুক্তি আমাদের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে ।

আজকের এই আর্টিকেলে আপনারা জেনেছেন মেটাভার্স কি? কিভাবে কাজ করে? এবং এতে কী কী প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে? এবং কিভাবে মেটাভার্সে বিনিয়োগ করবেন? এছাড়াও বর্তমানে চালু থাকা কিছু Metaverse প্রকল্প সম্পর্কেও জানতে পেরেছেন । আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান । ধন্যবাদ ।

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment