সাইকেল চালানোর উপকারিতা এবং অপকারিতা

অনিয়ন্ত্রিত জীবনধারার কারণে, স্থূলতার পাশাপাশি অনেক ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে । এমতাবস্থায়, এই সমস্যাগুলি থেকে দূরে থাকার জন্য, প্রতিদিন কোন না কোন শারীরিক পরিশ্রম করা প্রয়োজন । এই শারীরিক কার্যকলাপ শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে । এমন অবস্থায় সাইকেল চালানো একটি দুর্দান্ত শারীরিক কার্যকলাপ হিসাবে প্রমাণিত হতে পারে । প্রতিদিন সাইকেল চালানোর মাধ্যমে আপনারা আপনাদের শরীরকে সক্রিয় এবং ফিট রাখতে পারেন । কারণ সাইকেল চালানোকেও এক ধরনের ব্যায়াম হিসেবে বিবেচনা করা হয় । তবে সাইকেল চালানোর উপকারিতা সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানেন । এই কারণেই আজকের এই আর্টিকেলে, আমরা আপনাদের সাথে, সাইকেল চালানোর সুবিধা এবং অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করব ।

সাইকেল চালানোর উপকারিতা – সাইক্লিংয়ের উপকারিতা

১৯ শতকের দিকে সাইকেল প্রথম চালু হয়েছিল এবং বর্তমানে সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ এটি পরিবহনের জন্য ব্যবহার করছে । কিন্তু আপনারা কি জানেন, প্রতিদিন সাইকেল চালানোর কারণে, আমাদের শরীর কী কী উপকার পেতে পারে? তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক নিয়মিত সাইকেল চালানোর কারণে কি ধরনের উপকার পাওয়া যায় । সাইকেল চালানোর উপকারিতাগুলো নিচে দেওয়া হল –

হার্ট ভাল রাখতে – সাইকেল চালানোর সময় মানুষের হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, যা আমাদের হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম হতে পারে ।গবেষণায় দেখা গেছে যে, সাইকেল চালানোর মতো কার্যকলাপগুলি, হৃৎপিণ্ড এবং রক্তনালীর সাথে সম্পর্কিত কার্ডিওভাসকুলার ঝুঁকি কমাতে সক্ষম । মধ্যবয়সী কিছু পুরুষদের নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত সাইকেল চালায় তাদের হার্টের অবস্থা বা কার্যকারিতা, যারা কোন কাজ করে না, তাদের তুলনায় ভাল । এই গবেষণা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, সাইকেল চালানোর ফলে আমাদের হার্ট ভাল থাকে ।

ওজন নিয়ন্ত্রণে – কেউ যদি ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে চান বা ওজন কমানোর উপায় খুঁজছেন, তবে তারা নিয়মিত সাইকেল চালানোর অভ্যাস করুন ।কারণ সাইকেল চালানোর কারণে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি বার্ন হয় ( তথ্যসূত্র ), যা শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে । একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, প্রায় ৬ মাস নিয়মিত সাইকেল চালিয়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত ওজন কমানো সম্ভব । এই গবেষণায় জড়িত মহিলাদের প্রতিদিন ৬০ মিনিট অর্থাৎ ১ ঘণ্টা করে হাঁটতে, সাইকেল চালাতে এবং সাঁতার কাটতে বলা হয়েছিল । এই গবেষণায়, হাঁটা এবং সাইকেল চালানোর প্রক্রিয়া ওজন কমাতে সাহায্য করে বলে প্রমাণিত হয়েছে ( তথ্যসূত্র )। তবে একটি বিষয় মনে রাখবেন, ওজন কমানোর জন্য সাইকেল চালানোর পাশাপাশি সুষম খাদ্য খাওয়া জরুরী ।

টাইপ 2 ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে – টাইপ 2 ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে, নিয়মিত সাইকেল চালানোর অভ্যাস করুন । NCBI এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, যে সমস্ত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিয়মিত সাইকেল চালায়, তাদের অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় টাইপ 2 ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি অনেক কম থাকে । এছাড়াও, স্থূলতার সমস্যায় ভুগছেন এমন কিছু মহিলাদের উপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৬ সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ৪৫ মিনিট করে সাইকেল চালানোর ফলে, তাদের শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা দ্রুত হ্রাস পেয়েছে ( তথ্যসূত্র )। এই ভিত্তিতে, এটি বলা যেতে পারে যে, নিয়মিত সাইকেল চালানো, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে ।

পেশী শক্তিশালী করতে – সাইক্লিং করার সময় পায়ের সাহায্যে পেডেলিং করা হয় । এই সময়, পা উপরে থেকে নীচে একটি বৃত্তের মত মুভ করা হয় । এর ফলে পায়ের পেশি থেকে শুরু করে শরীরের নিচের ও ওপরের অংশের সমস্ত পেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে । এছাড়াও, এটি শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে পারে ( তথ্যসূত্র )। এভাবে নিয়মিত সাইকেল চালানোর ফলে শরীরের পেশি অনেক বেশী মজবুত হয় ।

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে – এটি শুনতে সামান্য বিস্ময়কর মনে হতে পারে যে, সাইকেল চালানো ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে । কিছু চীনা মহিলা এবং পুরুষদের উপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ২ ঘন্টা করে সাইকেল চালায়, তাদের কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি, যারা দিনে ৩০ মিনিট সাইকেল চালায় তাদের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কম ( তথ্যসূত্র )। একই সময়ে, অন্য একটি গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত সাইকেল চালানো স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় । এই গবেষণা অনুসারে, যে সব মহিলারা নিয়মিত হাঁটেন এবং সাইকেল চালান, তাদের অন্যান্য মহিলাদের তুলনায় স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ১০ শতাংশ কম থাকে ( তথ্যসূত্র )। এই সব গবেষণার উপর ভিত্তি করে বলা যায় যে, নিয়মিত সাইকেল চালানো ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে । এছাড়াও মনে রাখবেন যে, ক্যান্সার একটি মারণ রোগ । যদি কেউ এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহন করতে হবে ।

আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধ করতে – নিয়মিত সাইকেল চালানো, অস্টিওআর্থারাইটিসের (জয়েন্টের প্রদাহ) লক্ষণগুলি কমাতে এবং প্রতিরোধ করতে খুব ভাল কাজ করে । NCBI এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, যারা ৪ সপ্তাহ ধরে ২৫ মিনিট করে নিয়মিত সাইকেল চালান, তাদের অস্টিওআর্থারাইটিসের লক্ষণগুলি অনেকটা কমে গিয়েছে । সাইক্লিং পেশী সংকোচন, পেশীর শক্তি এবং কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ( তথ্যসূত্র ) । সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের রিপোর্ট অনুসারে, হাল্কা জয়েন্টের ব্যথা কমাতে ৩০ থেকে ৭৫ মিনিটের জন্য অ্যারোবিক কার্যকলাপ করা যেতে পারে । এটি হতে পারে সাইকেল চালানো, দ্রুত হাঁটা বা সাঁতার কাটা ।

মানসিক চাপ কমাতে সাইকেল চালানো এক ধরণের অ্যারোবিক ব্যায়াম । আর গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে যে, ব্যায়াম আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে । তাই নিয়মিত সাইকেল চালানো, আপনার মনের অবস্থা পরিবর্তন করে মস্তিষ্কের রক্ত ​​​​সঞ্চালন উন্নত করতে পারে । যা হাইপোথ্যালামিক পিটুইটারি অ্যাড্রেনার (সেন্ট্রাল স্ট্রেস রেসপন্স সিস্টেম) উপর চাপ কমাতে পারে । এইভাবে সাইক্লিং মানসিক চাপ, বিষণ্নতা বা উদ্বেগের লক্ষণগুলি কমাতে সাহায্য করতে পারে ( তথ্যসূত্র )।

মস্তিষ্কের শক্তি বাড়ায় – কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, নিয়মিত সাইকেল চালানোর ফলে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ১৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে । এবং এটি ঘটে কারণ, সাইকেল চালানোর ফলে মানুষের মস্তিষ্কে রক্ত ​​প্রবাহ এবং অক্সিজেন সরবরাহ বেশী হয়, এর ফলে আমাদের মস্তিষ্কের ” হিপ্পো-ক্যাম্পাস ” নামক স্থানে নতুন মস্তিষ্ক কোষ তৈরি হয় । যা আমাদের মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে ।

পিঠের ব্যথা কমায় – সাইকেল চালানোর ভঙ্গি এবং সাইক্লিং করার সময় পায়ের নড়াচড়া, পিঠের নিচের পেশীগুলোকে উদ্দীপিত করে, যা আমাদের পিঠের ব্যথা কমাতে খুব ভাল কাজ করে । 

ভালো ঘুম – সাইকেল চালানোর কারণে আমাদের শরীর, অন্য যেকোন যানবাহন চালানোর তুলনায় বেশি ক্লান্ত হয় । আর এই কারণে রাতে তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসে এবং খুব ভালো ঘুম হয় । আর রাতে প্রোপার ঘুম হওয়ার কারণে সকালে আমরা সম্পূর্ণ সতেজ অনুভব করি এবং সেই সাথে সারাদিন আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে পারি ।

যৌন জীবন উন্নত করতে – শরীরচর্চা বা এক্সারসাইজ মানুষের যৌন জীবনকে উন্নত করে এবং অনেক দিন পর্যন্ত যৌবন ধরে রাখতে সাহায্য করে । নিয়মিত সাইকেল চালানোর ফলে কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেম উন্নত হয়, যার ফলে শরীর ফিট থাকে । নিয়মিত সাইক্লিং করলে স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রিত হয়, যা যৌন জীবনকে উন্নত করে । সাইকেল চালানোর ফলে শরীরের নিম্নাংশের পেশিগুলি অনেক বেশী শক্তিশালী হয়ে ওঠে । ফলে সাইক্লিস্টরা সেক্সুয়ালি অনেক বেশি ফিট হয় । একটি সমীক্ষা অনুসারে, ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে যে সমস্ত পুরুষ নিয়মিত সাইকেল চালান, তাঁদের যৌন ক্ষমতা অন্যদের তুলনায় বেশি ।

কম বয়সী দেখাতে – চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন সাইকেল চালানোর ফলে আমাদের শরীরের রক্ত ​​সঞ্চালন অনেক বেড়ে যায়, যার ফলে আমাদের পেশিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পৌঁছায় । আর এমনটা হওয়ার কারণে আমাদের শরীরে উপস্থিত বিষাক্ত উপাদানগুলো ধীরে ধীরে কমে যায় । এর ফলে বয়সের কারণে যে বলিরেখা তৈরি হয় তা অনেকটা কমে যায়, যার কারণে আসল বয়সের তুলনায় কম বয়স্ক দেখায় ।

দূষণ কমানো – আমরা সবাই জানি যে, সাইকেল চালাতে কোনো ধরনের জ্বালানির প্রয়োজন হয় না, যার কারণে এটি অন্যান্য যানবাহনের মতো মারাত্মক ধোঁয়া বা গ্যাস নির্গত করে না । আর সেই কারণেই, আমরা যদি সবাই সাইকেল চালানোকে বেশি গুরুত্ব দেই, তাহলে আমাদের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আমাদের চারপাশের পরিবেশকেও ভালো রাখতে পারব ।

টাকা বাঁচান – সাইকেল চালানোর আরও একটি বড় সুবিধা হল, আমাদের অর্থের সঞ্চয় । দৈনন্দিন কাজে বাইসাইকেল ইউজ করে আমরা যানবাহনের ভাড়া বা যানবাহনে ব্যবহৃত তেলের অর্থ সাশ্রয় করতে পারি । সেই সাথে এটি ব্যবহার করে আমরা আমাদের সার্বিক স্বাস্থ্য এবং পরিবেশেরও যত্ন নিতে পারি । 

এতক্ষন আমরা সাইকেল চালানোর বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে জেনেছি । আর্টিকেলের এই পর্যায়ে সাইকেল চালানোর সঠিক সময় সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক ।

আরও পড়ুনঃ পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

সাইক্লিং করার সঠিক সময় – সাইকেল চালানোর সঠিক সময়

সাইকেল যে কোন সময় চালানো যেতে পারে । তবে একটি সমীক্ষা অনুসারে, সকালে সাইকেল চালানোর সুবিধা বা উপকারিতা বেশি, কারণ সকালে সাইকেল চালালে, সন্ধ্যার চেয়ে বেশি শক্তি খরচ হয় ( তথ্যসূত্র )। এই ভিত্তিতে, সাইকেল চালানোর বেশী উপকারিতা পাওয়ার জন্য সকালের সময়টিকে উপযুক্ত বলে মনে করা হয় ।

কতক্ষন সাইকেল চালানো উচিত

সাধারণভাবে স্বাস্থ্য ভাল রাখার জন্য, প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট সাইকেল চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয় । আপনি আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্য এবং দূরত্ব অনুযায়ী সাইকেল চালানোর সময় বাড়াতে বা কমাতে পারেন । এছাড়াও, আপনি আপনার শারীরিক কন্ডিশনের উপর ভিত্তি করে, একজন চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে সাইকেল চালানোর সময় নির্ধারণ করতে পারেন ।

কাদের সাইকেল চালানো এড়িয়ে চলা উচিত

সাইকেল চালানো শিশুদের থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বেশী নিরাপদ বলে মনে করা হয় । তবে সার্বিক স্বাস্থ্যের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের সাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকা উচিত –

  • ছোট বাচ্চা বা শিশুদের সাইকেল চালানো উচিত নয় । এমনকি যদি শিশুর বয়স ৫ বছরের বেশিও হয় এবং কীভাবে সাইকেল চালাতে হয় সেটাও জানে, তারপরেও তাকে পিতামাতার তত্ত্বাবধানে সাইকেল চালাতে দেওয়া উচিত ।
  • হাঁটুর সমস্যা আছে এমন বয়স্ক ব্যক্তিদের সাইকেল চালানো উচিত নয় । কারণ সাইকেল চালানোর কারণে হাঁটুর সমস্যা বেড়ে যেতে পারে ( তথ্যসূত্র )। এমন পরিস্থিতিতে সাইকেল চালানোর আগে অবশ্যই একবার ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে ।
  • যেহেতু সাইকেল চালানোর সময় অনেক বেশি শক্তি ব্যবহার করতে হয় এবং সেই সাথে শ্বাস-প্রশ্বাসের হারও বাড়তে থাকে । তাই, হাঁপানি রোগীদের বেশিক্ষণ একটানা সাইকেল চালানো উচিত নয় । এর ফলে তাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে । তাই যাদের হাঁপানির সমস্যা রয়েছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে পরে সাইকেল চালাবেন ।
  • যদিও নিয়মিত সাইকেল চালানো হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটা কমাতে পারে, তবে মৃগী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাইকেল চালানো উচিত নয় । কারণ সাইকেল চালানোর সময়, মৃগীরোগের সমস্যা শুরু হলে, তার এবং তার আশেপাশের লোকদের গুরুতর আঘাত লাগার সম্ভাবনা থাকে ।
  • যখন কোন মানুষ মানসিক অবসাদগ্রস্থ অবস্থায় থাকে, তখন চিকিৎসকরা তাকে কোন শারীরিক প্রতিক্রিয়া না করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন । সাইকেল চালানোর সময়, শক্তির পাশাপাশি পেশীতেও চাপ পড়তে পারে, যা বেশ ক্লান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে । তাই এমন পরিস্থিতিতে সাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকাই ভালো ।

সাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে সতর্কতা

অনেকে মনে করেন, সাইকেল বাহন হিসাবে খুব বেশী নিরাপদ নয় । কিন্তু সম্প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলিতে পথ-দুর্ঘটনার একটি পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব দেশে বেশির ভাগ মানুষ যাতায়াতের জন্য সাইকেল ব্যবহার করেন, সেসব দেশে দুর্ঘটনার সংখ্যা কম ।

তবে সাইকেলকে নিরাপদ মনে না করার পেছনেও বেশ কিছু কারণ রয়েছে । যাঁর মধ্যে অন্যতম কারণগুলো হল অসচেতনতা, নিরাপত্তা বিধি ও ট্রাফিক রুলস মেনে না চলা । সেই সাথে সাইকেলের জন্য পর্যাপ্ত লেন না থাকাও আরও একটি বড় কারণ । তাই সাইকেল চালানোর সময় বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত । যেমন –

  • ব্যস্ত রাস্তায় সাইকেল চালানোর সময় অবশ্যই হেলমেট ব্যবহার করুন । কারণ মাথায় হেলমেট পড়া থাকলে, সাইকেল দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পাওয়ার সম্ভবনা অনেকটা কমে যায় ।
  • নিজের হাইট অনুযায়ী সাইকেল নির্বাচন করুন । অন্যথায় সাইকেল চালাতে অসুবিধা হবে এবং সেই সাথে অস্বস্তি বোধ করবেন ।
  • ট্রাফিক সিগন্যাল ও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন ।
  • সম্ভবপর হলে বেশি যানবাহন চলে এমন রাস্তা বা হাইওয়ের পরিবর্তে কম কোলাহলযুক্ত রাস্তা বা লোকাল রোড ব্যবহার করার চেষ্টা করুন ।
  • সাইকেল চালানোর জন্য নির্দিষ্ট ধরণের পোশাক পরার কথা বলা হয়ে থাকে । ঢিলে-ঢালা পোশাক পরে সাইকেল চালালে, সাইকেলের চেনে কাপড় জড়িয়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে ।
আরও পড়ুনঃ ডায়াবেটিস কি ? ডায়াবেটিসের লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার

সাইকেল চালানোর অসুবিধা

সাইকেল চালানোর যেমন অনেক সুবিধা আছে, ঠিক তেমনই সাইকেল চালানোর কিছু অপকারিতাও রয়েছে , যা জানাও আপনার জন্য জরুরী । সাইকেল চালানোর অপকারিতা নিচে দেওয়া হল –

  • ওজন কমে যেতে পারে: আর্টিকেলের শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিয়মিত সাইক্লিং ওজন কমানোর জন্য উপকারী, কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি বার্ন হয় ( তথ্যসূত্র )। এই ভিত্তিতে বলা যায় যে, যাদের ওজন বাড়ানো দরকার তাদের অতিরিক্ত সাইকেল চালানো এড়িয়ে চলা উচিত ।
  • শ্বাস- প্রশ্বাসের হার বাড়তে পারে: NCBI-এর একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, যারা গাড়ি চালান, তাদের তুলনায় সাইকেল চালানো মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেশী থাকে । এমন পরিস্থিতিতে, শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষের জন্য সাইকেল চালানো ক্ষতিকর হতে পারে ।
  • দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়তে পারে: বায়ু দূষণ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সকালে কিছু জায়গায় অনেক বেশী কুয়াশা দেখা যায় ।এই কারণে, এই ধরনের জায়গায় সাইকেল চালকদের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায় ।

শেষ কথা

সাইকেল চালানোর অনেক ধরনের সুবিধা রয়েছে । সাইকেল চালানো সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে, সাইকেল চালানোর ক্ষতি এড়ানো যায় । সাইকেল চালানোর সুবিধাগুলি দেখে, আপনি যদি সাইকেল চালানোর কথা চিন্তা করেন, তাহলে আমরা আপনাকে জনাকীর্ণ জায়গা এবং হাইরোডে সাইকেল না চালানোর পরামর্শ দেব । এছাড়াও সাইকেল চালানোর সময় আপনার নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখুন । এছাড়াও আপনারা সাইক্লিং মেশিনের মাধ্যমে সাইকেল চালানোর উপকারিতা পেতে পারেন । আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান ।

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment