সার্চ ইঞ্জিন কি ? সার্চ ইঞ্জিনের কার্যপ্রণালী

বর্তমানের এই আধুনিক যুগে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা কোন কিছু অনুসন্ধান করার জন্য যে জিনিষটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করে তা হল সার্চ ইঞ্জিন । কাঙ্খিত তথ্যকে স্ক্রিনে উপস্থাপন করার জন্য সার্চ ইঞ্জিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। অনেকেই ব্রাউজারে সরাসরি ওয়েবসাইট এড্রেস লিখে তার প্রয়োজনীয় ওয়েবসাইট ভিজিট করেন। কিন্তু যখন নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানা বা এড্রেস জানা না থাকে তখন সাধারণত সার্চ ইঞ্জিনে কাঙ্খিত বিষয়ের নাম লিখে সার্চ করতে হয়। তখন সার্চ ইঞ্জিন আমাদের দেওয়া বিষয়ের নাম অনুযায়ী বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে থাকে।

বর্তমান সময়ে সার্চ ইঞ্জিন ছাড়া ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের কথা কল্পনা করা যায় না, কারণ আপনার কাঙ্খিত যে কোন তথ্য ইন্টারনেট থেকে খুঁজে বের করার জন্য সার্চ ইঞ্জিনের সাহায্য লাগবেই। বর্তমান সময়ে, Google, Yahoo এবং Bing হচ্ছে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন। বর্তমানের বেশিরভাগ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা তাদের কাঙ্খিত তথ্য খোঁজার জন্য সার্চ ইঞ্জিনের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে কোন ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট এড্রেস না জেনেই, অনেক সহজে কাঙ্খিত তথ্য বা ওয়েবসাইট খুজে বের করা যায়। তাই সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে ওয়েব ডেভেলপারদের কাছে পর্যন্ত সার্চ ইঞ্জিনের গুরুত্ব অপরিসীম।

আমরা সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে এক নিমেষেই প্রয়োজনীয় অসংখ্য তথ্য হাতের নাগালেই পেয়ে যাই। কখনো কি এটা ভেবেছেন যে, এই তথ্যগুলো কোথা থেকে আসে অথবা কিভাবে আসে? এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই খুব সহজে বলবে, আমাদের কাছে থাকা ওয়েব ব্রাইজারের মাধ্যমে গুগল (সার্চ ইঞ্জিন) এ সব তথ্য প্রদান করে থাকে। তাহলে এখন প্রশ্ন হল গুগল এ সমস্ত তথ্য কোথা থেকে জানতে পারে ? আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব গুগল কিভাবে আপনাদের এই সমস্ত তথ্য প্রদান করে থাকে এবং কিভাবে আপনার প্রিয় ব্লগটিও সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহারের মাধ্যমে সবার সামনে হাজির হয়।

সার্চ ইঞ্জিন কি?

সার্চ ইঞ্জিন হল অনলাইনে তথ্য খোঁজার জন্য ব্যবহৃত এক ধরনের ওয়েব মেশিন বা সফটওয়্যার প্রোগ্রাম। অনলাইনে যত রকমের তথ্য থাকে, একটি সার্চ ইঞ্জিন সবার প্রথমে সেই তথ্যগুলো সংগ্রহ করে তার তথ্য ভান্ডারে জমা করে এবং পরবর্তীতে সেই তথ্যগুলো তার মজুদ করে রাখা তথ্য ভান্ডার থেকে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে। এক কথায় বলতে গেলে, ইন্টারনেট থেকে তথ্য সংগ্রহ করা ও সেই তথ্য সকলের সামনে উপস্থাপন ধরার মেশিন বা সফটওয়্যার কে সার্চ ইঞ্জিন বলা হয়।

সার্চ ইঞ্জিনের প্রকারভেদ?

কার্যপ্রণালী এবং অ্যালগরিদমের উপর নির্ভর করে সার্চ-ইঞ্জিনকে ৩ টি ভাগে ভাগ করা যায়।

  • প্রাইমারি বা প্রাথমিক সার্চ ইঞ্জিন ( গুগল, বিং, ইয়াহু ইত্যাদি)
  • সেকেন্ডারি সার্চ ইঞ্জিন বা ডিরেক্টরি (এমএসএন, স্ন্যাপ, হটবট ইত্যাদি)
  • টার্গেটেড সার্চ ইঞ্জিন বা নির্দিষ্ট কন্টেন্ট খোঁজার জন্য ব্যবহহৃত সার্চ ইঞ্জিন (এওএল সার্চ, লাইকস, আল্টা-বিস্তা ইত্যাদি)

তবে সার্চ ইঞ্জিন সাধারনত ৪ প্রকারের। যথাঃ

  • ক্রলার সার্চ ইঞ্জিন (Crawler Search Engine)
  • ওয়েব ডিরেক্টরিস (Web Directories)
  • হাইব্রিড সার্চ ইঞ্জিন (Hybrid Search Engine)
  • মেটা সার্চ ইঞ্জিন (Meta Search Engine)

সার্চ ইঞ্জিনের ইতিহাস

১৯৪৫ সালে ‘দি আটলান্টিক মান্থলি (The Atlantic Manthly)’ ম্যাগাজিনে, হাইপার টেক্সট এবং মেমোরি নিয়ে লেখা ভান্যেভার বুশ (Vannevar Bush) এর ‘অ্যাজ উই মে থিংক’ নামের একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সার্চ ইঞ্জিনের ধারণাটি সর্ব প্রথম মাথায় আসে অনেকের।

ভান্যেভার বুশের ধারণাটির উপর নির্ভর করে, ১৯৮৬ সালে হিউলেট প্যাকার্ড নামের একটি কোম্পানি প্রথম সার্চ ইঞ্জিন আবিস্কার করার ঘোষণা দেয় কিন্তু সেটি সম্পূর্ণরুপে কার্য্যকরী না হওয়ায় এটি গ্রহণযোগ্যতা পায়নি।

১৯৯০ সালে সর্ব প্রথম কার্য্যকরী সার্চ ইঞ্জিন আবিস্কার করেন “Gerard Salton” নামের হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসর। Gerard Salton কেই সার্চ ইঞ্জিনের জনক বা দ্যা ফাদার অব দ্যা সার্চ ইঞ্জিন বলা হয়ে থাকে। কিন্তু দু:খের বিষয় হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন আবিস্কারের পূর্ণাঙ্গ সুফল তিনি নিজ চোখে দেখে যেতে পারেননি। কারণ, সার্চ ইঞ্জিন আবিস্কারের ৪ বছর পরেই ১৯৯৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৯১ সালে Team Berners Lee সার্চ ইঞ্জিনের জন্য সর্বপ্রথম ভার্চুয়াল লাইব্রেরি সেটআপ করেন।

১৯৯২ সালে গোপার, ইনডেক্স সিস্টেমে ফাইল নেম ও টাইটেল সঠিক করে দেন ভেরনিকা (Veronica)।

১৯৯৩ সালে Jughead, সিঙ্গেল সার্ভারে তথ্য সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করেন আর Matthew Gray সৃষ্টি করেন প্রথম চলমান সার্চ বট ।

১৯৯৪ সালে, রিয়েল টাইমে ইন্টারনেটে যে কোন ওয়েব পেজ সাবমিট করার সিস্টেম তৈরি করেন ইনফোসিক নামের একটি প্রতিষ্ঠান। একই বছরে Martijn Koster নামের একজন মাইক্রসফটের কর্মকর্তা, মেটা ইনফো ক্রলার তৈরি করেন । এই বছরই মাইক্রোসফটের আরও দুইজন কর্মকর্তা David Filo ও Jerry Yang প্রথম আলোচিত সার্চ ইঞ্জিন নির্মাণ করেন, আর সেই সার্চ ইঞ্জিনের নাম দেয়া হয় ইয়াহু সার্চ।

ইয়াহুর সার্চের পরেই আসে লাইকস, লুক স্মার্ট, এক্সাইট, অল্টাবিস্তা, এওএলসহ আরো অনেক গুলো সার্চ ইঞ্জিন। কিন্তু ১৯৯৪ সালে গুগল সার্চ ইঞ্জিন আসার পর থেকেই অন্য সব সার্চ ইঞ্জিন জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করে।

সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে?

সাধারণত অনলাইন থেকে তথ্য কালেক্ট করার জন্য প্রত্যেকটি সার্চ ইঞ্জিনের এক ধরনের সফটওয়্যার থাকে। এই সফটওয়্যার কে সার্চ ইঞ্জিনের ভাষায় ওয়েব ক্রলার বা রোবট বা বট বলা হয়ে থাকে। এই ওয়েব ক্রলার বা বটের প্রধান কাজ হল অনলাইনে যত লাইভ ওয়েবসাইট রয়েছে সেগুলোতে ঘুরে বেড়ানো এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট অথবা ব্লগ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিয়ে এসে সার্চ ইঞ্জিনের তথ্য ভান্ডারে জমা রাখা। যখন কেউ কোন তথ্য খোঁজার জন্য সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে, তখন সার্চ ইঞ্জিন তার মজুদ করে রাখা ডাটা চেক করে এবং সার্চ ইঞ্জিনের ডাটাবেজ থেকে আমাদের সামনে ফলাফল উপস্থাপন করে।

সার্চ ইঞ্জিনের ভাষায় এ সব বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে অনেকের বিষয়টি বুঝতে সমস্যা হবে। সেই কারনে সকলের বোঝার সুবিধার্তে বিষয়টি সহজভাবে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছি। যেমন-

আপনার পার্সোনাল ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ বা মোবাইলের হার্ড ডিস্ক বা মেমরী কার্ডে যখন কোন ফাইল বা যে কোন তথ্য রাখেন, তখন তা খুব সহজেই পেয়ে যান, কিন্তু ইন্টারনেট থেকে যে ইনফরমেশন গুলো আপনি দেখতে পান সেগুলো আপনার পার্সোনাল কম্পিউটার বা মোবাইলের হার্ড ডিস্ক মেমোরি কার্ডে থাকে না। তাহলে এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সেগুলো কোথা থেকে আসে এবং কিভাবে আসে? চলুন আমি আপনাকে একটি উদাহরনের সাহায্যে বিষয়টি পরিষ্কার করে বোঝানোর চেষ্টা করছি।

উদাহরণঃ ধরে নিন আপনার কম্পিউটারের হার্ডডিস্কটি, আপনার কম্পিউটারের সাথে যুক্ত না রেখে অন্য কোথাও রেখে দিলেন। সেক্ষেত্রে আপনার ঐ হার্ড ডিস্কে থাকা ফাইল বা গানগুলো কিভাবে দেখবেন? এই কাজটি করতে হলে আপনার ঐ হার্ড ডিস্কটিকে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে অর্থাৎ নেটওয়ার্ক সার্ভার তৈরি করে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। কেবল তখনই আপনি হার্ড ডিস্কটি, আপনার কম্পিউটারের সাথে যুক্ত না রেখেও ঐ ফাইলগুলো দেখতে পারবেন। ঠিক এই রকমই প্রত্যেকটি সার্চ ইঞ্জিনের, অনেক অনেক হার্ড ডিস্কের সমন্বয়ে তৈরি করা সার্ভার রয়েছে। প্রত্যেকটি সার্চ ইঞ্জিন অনলাইনের সকল তথ্য তাদের ঐ হার্ড ডিস্কে সংগ্রহ করে রাখে এবং সেখান থেকেই সকলের সামনে সার্চ কোয়ারী অনুসারে তথ্য প্রদান করে।

কিভাবে সার্চ ইঞ্জিন তথ্য সংগ্রহ করে?

আমরা অনেকেই মনে করি যে, যখন আমরা যখন গুগলে কোন কিছু লিখে সার্চ করি, তখন গুগল তাদের তৈরি করা তথ্য থেকে আমাদেরকে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করে। কিন্তু আসল বিষয় হল গুগল আমাদেরকে যেসব তথ্য দেয় সেগুলোর একটিও তাদের তৈরি করা নয়। আপনি হয়ত এ কথাটি শোনার পরে অনেকটাই অবাক হচ্ছেন, এখানে অবাক হবার মত তেমন কিছুই নেই। চলুন বিষয়টি একটু সহজভাবে বোঝার চেষ্টা করি।

বর্তমানে অনলাইনে হয়ত এমন কিছুই নেই যা গুগলে সার্চ করলে পাওয়া যাবে না। ছোট যে কোন জিনিস থেকে শুরু করে মহাকাশ গবেষনার মত কঠিন ও জটিল বিষয়ে গুগলে সার্চ দিলেও, গুগল আপনাকে মুহুর্তের মধ্যে তথ্য দিয়ে দেবে। মোট কথা গুগলের কাছে প্রায় সব তথ্যই রয়েছে।

এখন চিন্তার বিষয় হচ্ছে, একটি কোম্পানির পক্ষে এত তথ্য তৈরি করা কিভাবে সম্ভব? আসল কথা হল একটি কোম্পানির পক্ষে এত তথ্য তৈরি করা কোন ভাবেই সম্ভব হবে না। তাহলে গুগল কেমন করে আমাদেরকে এতসব তথ্য দেখায়?

ইন্টারনেটে বর্তমান সময়ে কোটি কোটি ওয়েবসাইট বা ব্লগ রয়েছে। প্রতিদিন লাখো নতুন ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে । প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের ওনার তার জ্ঞান ও অভীজ্ঞতা নিজ নিজ ওয়েবসাইটে শেয়ার করছে। এখানে সার্চ ইঞ্জিন বা গুগল সার্চ ইঞ্জিন এক ধরনের ওয়েব সফটওয়্যার বা ক্রলার বা বট এর মাধ্যমে পুরো পৃথিবীর কোটি কোটি ওয়েবসাইট বা ব্লগের তথ্য তাদের তথ্য ভান্ডার বা ওয়েব সার্ভারে স্টোর করে রাখছে। পরবর্তীতে আমরা যখন গুগল সার্চ ইঞ্জিন বা অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিনে কোন বিষয় লিখে সার্চ করি তখন সার্চ ইঞ্জিন তাদের মজুদ করে রাখা তথ্য ভান্ডার থেকে যেটি সবথেকে ভালো সেটি আমাদের সামনে ধারাবাকিভাবে প্রদর্শন করে। কিন্তু এই প্রদর্শিত ওয়েবসাইটগুলোর মালিক কিন্তু গুগল নয়। গুগল এইখানে অন্যের উপরে বসে নিজের ব্যবসা চালিয়ে নিচ্ছে।

সার্চ ইঞ্জিনের তথ্য সংগ্রহ করার ধাপসমূহ

সাধারণত একটি সার্চ ইঞ্জিন তথ্য সংগ্রহ এবং মজুদ করার কাজটি তিনটি ধাপে সম্পন্ন করে থাকে।

  • ক্রলিং
  • ইনডেক্সিং
  • ফলাফল প্রদান।

ক্রলিং

প্রথম ধাপে সার্চ ইঞ্জিন তার ওয়েব ক্রলার বা বটকে পৃথিবীর প্রতিটি লাইভ ওয়েবসাইটে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য পাঠায়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ক্রলার বা বট প্রতিটি ওয়েবসাইটের কনটেন্ট বা পোস্ট ক্রল (crawl) করে। একটি ওয়েবসাইটের প্রতিটি পোস্টের ভেতরে যত রকমের লেখা, ইমেজ ও ভিডিও থাকে সেগুলো ক্রলিং এর মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনের তথ্য ভান্ডারে ইনডেক্স হয়।

প্রতিটি সার্চ ইঞ্জিনের এক প্রকারের ওয়েব ক্রলার Web Crawlers সফটওয়্যার আছে। সার্চ ইঞ্জিনের ভাষায় এগুলো “রোবট বা বট” নামে পরিচিত। এই Web Crawlers ইন্টারনেটের যত লাইভ ওয়েবসাইট আছে সেগুলির প্রত্যেকটি লিংকে সবসময় ঘুরতে থাকে। প্রতিবার একটি ওয়েব সাইট ঘুরে দেখার সময় ঐ সাইটের নতুন লিংকগুলোকে কালেক্ট করে এবং Dead Link বা নষ্ট লিঙ্কগুলকে সার্ভার থেকে মুছে দেয়। এভাবে প্রত্যেকটি সাইট প্রতিনিয়ত ক্রল হতে থাকে এবং নিত্য নতুন ইনফরমেশন তাদের সার্চ ইঞ্জিনের সার্ভারে জমা করতে থাকে।

এমনকি, যদি অনেকদিন ধরে কোন ওয়েবসাইটে নতুন কোন পোস্ট না দেয়া হয় কিংবা পুরনো কোন পোস্ট এডিট না করা হয়, তারপরেও সার্চ ইঞ্জিন ক্রলার সেই সাইট ভিজিট করা বন্ধ করে না, বরং প্রতিনিয়তই ভিজিট করতে থাকে। এভাবে প্রতি মিনিটে লাখ লাখ সাইট ভিজিট করে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলার বা বটগুলো অনলাইনে থাকা প্রায় সব তথ্য কালেক্ট করে রাখে।

ইনডেক্সিং

যেকোনো সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলার বা বট ক্রলিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন পেজকে ইনডেক্স করে থাকে। এই পুরো পৃথিবীতে যত ওয়েবসাইট বা ব্লগ রয়েছে তাদের ওনার রা ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে লিখে থাকেন। এখানে সার্চ ইঞ্জিন ক্রলার বা বট বিভিন্ন ওয়েবসাইটের বিষয় অনুসারে তাদের তথ্যভান্ডারে আলাদা আলাদা ভাবে সাজিয়ে রাখে। কোন ব্লগ বা ওয়েবসাইট তাদের তথ্য ভান্ডারের সবার প্রথমে থাকবে সেটা ওয়েবসাইটের মানের উপর ডিপেন্ড করে। সার্চ ইঞ্জিনের এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে ইনডেক্সিং বলা হয়ে থাকে। 

ফলাফল প্রদান

আমরা যখন কোন বিষয় বা কিওয়ার্ড লিখে গুগল অথবা অন্য যে কোন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করি, তখন সার্চ ইঞ্জিন তার ডাটাবেস থেকে ইনডেক্স করা কোটি কোটি পোস্ট থেকে রিলেভেন্ট রেজাল্ট আলগোরিদমের রেঙ্কিং ফ্যাক্টর এর মাধ্যমে বিবেচনা করে ফলাফল প্রদর্শন করে। একটি সার্চ ইঞ্জিনে স্পাইডার, রোবট এবং অন্যান্য বিভিন্ন রকম প্রোগ্রাম ব্যবহৃত হয় । এসব প্রোগ্রাম বিভিন্ন সাইট থেকে তথ্য কালেক্ট করে এবং হাইপারলিঙ্ক ট্রেস করে থাকে। অন্যদিকে সার্চ রোবট বা বট বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ডকুমেন্ট এবং তথ্য খুঁজে বের করে এবং ডাটাবেজে সংরক্ষন করে। যখন কেউ যে কোন তথ্য খোঁজার জন্য সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে, তখন সার্চ ইঞ্জিন ডাটাবেজ চেক করে তা থেকে ইউজারের কাঙ্খিত ফলাফল উপস্থাপন করে।

কিভাবে একটি পোস্ট সার্চ রেজাল্টে আসে?

এই বিষয়টি একজন ব্লগার বা ওয়েব ডেভেলপারদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি ওয়েবসাইট Crawl হওয়ার পর এটি সার্চ ইঞ্জিনের হার্ড ডিস্কে জমা হয় । কিন্তু এটি সার্চ ইঞ্জিনে প্রদর্শিত হবে কি না বা স্থায়িভাবে মজুদ করে রাখা হবে কি না তা নির্ভর করে ইনডেক্স (Index) হওয়ার উপর। আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের লিংকটি যদি ইনডেক্স হয় তবেই আপনার লেখাটি সার্চ ইঞ্জিনে প্রদর্শিত হবে। এই Index হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করে পোস্ট বা আর্টিকেলের মানের উপর। আপনার লেখাটি যদি ভালমানের এবং ইউনিক হয় তাহলে অবশ্যই সেটি ইনডেক্স হবে এবং আর্টিকেলটি সার্চ ইঞ্জিনে সবার শীর্ষে থাকবে। আর যদি ইনডেক্স না হয় সেক্ষেত্রে Web Crawlers সেটিকে তার মজুদ করা তথ্য ভাণ্ডার থেকে মুছে দেবে।

বিশ্বের কয়েকটি জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন

বর্তমান ইন্টারনেট জগতে হাজার হাজার সার্চ ইঞ্জিনের মধ্যে Google, Bing, Yahoo, Baidu, Yandex, DuckDuckGo, Ask, AOL, WolframAlpha, Internet Archive উল্লেখযোগ্য। এগুলোর মধ্যে Google, Bing, Yahoo, Baidu, Yandex, DuckDuckGo এই সার্চ ইঞ্জিন গুলো জনপ্রিয়তার প্রথম সারিতে অবস্থান করছে। আর সবগুলো সার্চ ইঞ্জিনের মধ্যে গুগল সার্চ ইঞ্জিন জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। সার্চ ইঞ্জিন মার্কেটের প্রায় ৯১.৯৮ পারসেন্ট রয়েছে গুগলের দখলে।

১. গুগল সার্চ ইঞ্জিন – Google

গুগল লিমিটেড লায়াবেলিটি বা Google LLC কোম্পানি ইন্টারনেট ভিত্তিক সেবা ও পণ্যে বিশেষায়িত একটি আমেরিকান বহুজাতিক টেকনোলজি কোম্পানি। বর্তমানে গুগল পৃথিবীর সেরা এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন। ১৯৯৮ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ছাত্র ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন গুগল তৈরি করেন। টেক জায়ান্টটি সর্বদা সেরা ফলাফল প্রদর্শন এবং ব্যবহারকারীদের ভালো অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষে সার্চ ইঞ্জিন অ্যালগরিদমকে প্রতিনিয়ত আপগ্রেড করছে।

গুগল সার্চ ইঞ্জিন – Google

২। ইয়াহু সার্চ ইঞ্জিনYahoo

ইয়াহু, যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় বৃহত্তম এবং জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন। ৯০ দশকের মাঝামাঝিতে ইয়াহু তার যাত্রা শুরু করে । “Netmarketshare” রিসেন্ট রিপোর্ট অনুযায়ী ইয়াহুয়ের বাজারে ৫ পারসেন্ট শেয়ার রয়েছে। ইয়াহু সার্চ বিশ্বের প্রায় ৩৮টি আন্তর্জাতিক মার্কেট এবং বিভিন্ন লাঙ্গুয়েজে সার্চিং ইন্টারফেস সরবরাহ করে। ইয়াহু বিনামূল্যে ই-মেইল সেবা প্রদানকারীদের মধ্যে এখনও অনেক জনপ্রিয়। ইয়াহু এর রয়েছে ওয়েবসাইট, সার্চইঞ্জিন, ইয়াহু ডিকশেনারী, Yahoo mail, ইয়াহু নিউজ, Yahoo Answare, অ্যাডভার্টাইজমেন্ট, অনলাইন map, Yahoo Video, সোশ্যাল মিডিয়া সেবা ইত্যাদি।

ইয়াহু সার্চ ইঞ্জিনYahoo

৩. বিং সার্চ ইঞ্জিন – Bing

Bing (বিং) হলো মাইক্রোসফট কোম্পানি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি ওয়েব সা০র্চ ইঞ্জিন। এটি পূর্বে লিভ সার্চ, উইন্ডোজ লিভ সার্চ এবং এমএসএন সার্চ নামেও পরিচিত ছিল। বিভিন্ন ধরনের অনুসন্ধান সম্পর্কিত সেবা প্রদান করে যেমন – ওয়েব, ভিডিও, চিত্র এবং মানচিত্র ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের অনুসন্ধান সরবরাহ করে। এএসপি ডট নেট ব্যবহার করে বিং তৈরি করা হয়। বিং সার্চ ইঞ্জিনের স্লোগান হচ্ছে ‘বিং এন্ড ডিসাইড’। মাইক্রোসফট বিং’কে ‘ডিসিশন ইঞ্জিন’ বলেও বিশ্বে পরিচিত করেছে, যা ইউজারকে কোনো ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করে।

বিং সার্চ ইঞ্জিন – Bing

৪. বাইডু সার্চ ইঞ্জিন – Baidu

বাইডু চীনের সবচেয়ে অধিক ব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিনগুলোর মধ্যে একটি। এই চীনা ওয়েব সার্চ ইঞ্জিনটি ২০০০ সালের ১৮ জানুয়ারীতে প্রতিষ্ঠিত হয় । বাইডু সাধারনত ওয়েবসাইট, অডিও ফাইল এবং চিত্র খোঁজার জন্য ব্যবহৃত হয়। বাইডুর সূচীতে রয়েছে ৭৫০ মিলিয়নেরও অধিক ওয়েবসাইট, ৮০ মিলিয়ন প্লাস চিত্র, ১০ মিলিয়ন এর বেশী মাল্টিমিডিয়া ফাইল। বাইডু ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্রকার মাল্টিমিডিয়া ফাইল যেমন-এমপিথ্রি, ভিডিও, চলচ্চিত্র ইত্যাদি সার্চ করার সুযোগ দেয়।

বাইডু সার্চ ইঞ্জিন – Baidu

৫. ইয়ানডেক্স সার্চ ইঞ্জিন – Yandex

রাশিয়ায় সবথেকে বহুল ব্যবহৃত এবং জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন হল ইয়ানডেক্স। আসলে এটি ১৯৯৭ সালে চালু হওয়া একটি রাশিয়ান ইন্টারনেট কোম্পানি। ইউক্রেন, কাজাখাস্তান, বেলারুশ এবং তুরস্কের মত দেশেও এটি একটি চমৎকার সার্চ ইঞ্জিন হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে । ইয়ানডেক্স মানচিত্র, ইয়ানডেক্স-সঙ্গীত, অনলাইন অনুবাদক, ইয়েন্ডেক্স মানি এইরকম আরও অনেক পরিষেবা এই সার্চ ইঞ্জিনটি প্রদান করে থাকে। এই সার্চ ইঞ্জিন ভিডিও এবং ছবি অনুসন্ধান করার পাশাপাশি ফ্রি ইমেল পরিসেবাও দিয়ে থাকে।

ইয়ানডেক্স সার্চ ইঞ্জিন – Yandex

৬. ডাকডাক গো – DuckDuckGo

ডাকডাকগো (DuckDuckGo) একটি জনপ্রিয় ইন্টারনেট search engine, যা সঠিক সার্চ রেসাল্ট দেওয়ার পাশা পাশি ব্যবহারকারীর (user) প্রাইভেসী (privacy) রক্ষা করার ব্যাপারে প্রচুর জোর দিয়ে থাকে। ডাকডাকগো, ২০০৮ সালে ইন্টারনেট জগতে প্রবেশ করে । ব্যবহারের সময় এর নানা রকমের ফিচারের কারণে এটি অনেক বেশী জনপ্রিয়। এই সার্চ ইঞ্জিনটি ডিফল্টভাবে বিভিন্ন রকম সার্চ লিকেজ প্রতিরোধ করতে সক্ষম। অর্থাৎ আপনি সার্চ করে যে লিংকেই ঢুকে পরেন না কেনো, তা কোনো অবস্থাতেই সেই ওয়েবসাইটটি জানতে পারবে না।  পাশাপাশি আপনি কি বিষয়ে বা লিখে সার্চ করেছেন সেটাও জানতে পারবে না। 

ডাকডাক গো – DuckDuckGo

আশা করছি উপরের আলোচনা থেকে আপনি কিছুটা হলেও ধারনা নিতে পেরেছেন যে, সার্চ ইঞ্জিন কি, কিভাবে কাজ করে? আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের কনটেন্ট বা আর্টিকেল যদি সার্চ ইঞ্জিনের শীর্ষে প্রদর্শন করাতে চান সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ভালমানের এবং ইউনিক আর্টিকেল লিখতে হবে।

বিডিটেকটিউনার

 

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment