স্লো স্মার্টফোনকে ফাস্ট করার উপায় ২০২১

স্মার্টফোন বা ফোন, যাই বলা হোক না কেন এটি এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্মার্টফোন ছাড়া আমরা এখন একটি ঘণ্টাও কল্পনা করতে পারি না। বর্তমান সময়ে স্মার্টফোনের সবচেয়ে বড় প্রব্লেম হচ্ছে স্লো হয়ে যাওয়া। অতিরিক্ত ব্যবহার করার ফলে অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের মতো এটিও অনেক সময় ধির গতিতে কাজ করে। স্মার্টফোন স্লো কাজ করলে এটি আমাদের জন্য খুব বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে ভালো খবর হচ্ছে, স্মার্টফোনগুলোর স্পিড অনেকাংশে নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ব্যবহারের ধরন এবং ফোনের বিভিন্ন সেটিংসের উপর। স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় কিছু নিয়ম অনুসরণ করলে এবং কিছু সেটিংস চেঞ্জ করে আমরা ফোনের স্পিড বাড়িয়ে নিতে পারি। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা স্লো স্মার্টফোনকে ফাস্ট করার উপায় সম্পর্কে জানব ।

সিস্টেম আপডেট

স্মার্টফোন স্লো হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে অপারেটিং সিস্টেম বা ওএস সবসময় আপডেট না থাকা। সবসময় অপারেটিং সিস্টেম আপডেট রাখা স্মার্টফোনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কোম্পানিগুলো ওএসের আপডেটের মাধ্যমে তাদের সিস্টেমে থাকা বিভিন্ন রকম ত্রুটি – বিচ্যুতিগুলো দূর করে থাকে। সেই কারণে অপারেটিং সিস্টেম বা ওএস আপডেট না থাকার ফলে স্মার্টফোন অনেক সময় স্লো হয়ে পড়ে। তাই আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম সবসময় আপডেট রাখার রাখুন।

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস আনইন্সটল করে দিন

স্মার্টফোনের স্পিড বৃদ্ধি করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ স্মার্টফোন থেকে আনইন্সটল করে দেওয়া। ফোনে প্রচুর পরিমাণে স্টোরেজ থাকার দরুন আমরা ইদানিং অতিরিক্ত অ্যাপ দিয়ে ফোন ভরিয়ে রাখি। এই অ্যাপস গুলোর কারণে হয়ত ফোনের স্টোরেজে কোনো প্রভাব পড়ে না, তবে ফোনের র‍্যামের জায়গা দখল করে নেয় অনেক অ্যাপস। আর এই কারণে ফোনে বেশী অ্যাপস ইন্সটল করা থাকলে ফোন স্লো হয়ে যায়। তাই চেষ্টা করুন আপনার স্মার্টফোনটিতে যতটুকু সম্ভব কম এবং শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অ্যাপস গুলো রাখতে।

অ্যাপস আপডেট রাখা

স্মার্টফোনের গতি স্লো হয়ে যাওয়ার আরো একটি অন্যতম কারণ হোল ব্যবহৃত অ্যাপস আপডেট না করা। যেকোনো অ্যাপস এর আপডেট আসলে তৎক্ষণাৎ ব্যবহারকারীর কাছে সেই অ্যাপস আপডেটের জন্য সম্মতি চায়। ব্যবহারকারীকে শুধুমাত্র অ্যাপটি আপডেটের জন্য সম্মতি দিয়ে দিতে হবে। এই সামান্য একটি কাজের মাধ্যমে আপনার স্মার্টফোনকে অনেক বেশী ফাস্ট করা সম্ভব।

অ্যাপস এর ক্যাশ ডিলিট করুন

গুগল ক্রোম, ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, মেসেঞ্জার ইত্যাদি অ্যাপস ফোনে প্রচুর পরিমাণ ক্যাশ (Cache) জেনারেট করে ৷ এসব ক্যাশ ডেটাগুলো উক্ত অ্যাপস এর সেটিংস অপশনে গিয়ে ক্লিয়ার করুন। তবে ভূল করে আবার অ্যাপের ডাটা (Data) ক্লিয়ার করে দেবেন না। সেক্ষেত্রে ওই অ্যাপসে থাকা দরকারী সকল তথ্য মুছে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে । এছাড়াও ডাটা ক্লিয়ার করার ফলে আপনি আপনার একাউন্ট থেকে লগ-আউটও হয়ে যেতে পারেন।

ইন্টারনাল স্টোরেজ যথাসম্ভব খালি রাখুন

স্মার্টফোনের স্পিড বৃদ্ধি করার আরেকটি কার্যকরী উপায় হচ্ছে ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ যথাসম্ভব খালি রাখা। তবে এখানে আমরা ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ একদম পুরোপুরি খালি করে রাখার কথা বলছি না। ধরুন, আপনার স্মার্টফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ রয়েছে ৩২ জিবি আর আপনি ২জিবি স্পেস ব্যাবহার করে এমন অ্যাপ বা গেম চালিয়ে থাকেন। আপনি যখন ওই অ্যাপটি রান করাবেন, তখন ওই অ্যাপের ডাটাগুলো লোড করার জন্য অ্যাপটি ফোনের ইন্টারনাল মেমোরিকেই ব্যবহার করে। তাই ওই ২ জিবির অ্যাপ বা গেমটি রান করানোর জন্য আপনার ফোনে কম করে হলেও ২ – ৪ জিবি ফ্রি স্পেস থাকা আবশ্যক। এভাবে আপনার স্মার্টফোনের ইন্টারনাল মেমরিতে কিছুটা জায়গা খালি রাখার কারনে অ্যাপস গুলো খুব সাবলিল ভাবে রান করবে আর স্মার্টফোনের স্পিড বৃদ্ধি পাবে।

মাইক্রো-এসডি কার্ড ব্যবহার করুন

আপনার স্মার্টফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজ খালি রাখার জন্য সম্ভব হলে এক্সট্রা মাইক্রো-এসডি কার্ড অর্থাৎ মেমোরি কার্ড ইউজ করুন। তবে মাইক্রো-এসডি বা মেমরি কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন আর সেটা হল ওই মেমোরি কার্ডের ডাটা লোডিং এবং প্রসেসিং স্পিড কেমন। আপনি যদি আপনার ফোনে একটি ডুপ্লিকেট মাইক্রো-এসডি কার্ড (যে গুলো বাজারে অনেক কম দামে পাওয়া যায়) ব্যবহার করেন, তবে আপনার  ফোনটি পূর্বের তুলনায় আরো বেশী স্লো হয়ে যেতে পারে। তাই মেমোরি কার্ড বা মাইক্রো-এসডি কার্ড কেনার সময় অবশ্যই ভাল দোকান থেকে একটু বেশী দাম দিয়ে হলেও অরিজিনাল কার্ডটি কিনবেন।=

এনিমেশন মুড অফ করুন

এই পদ্ধতিটি আপনার স্মার্টফোনকে ফাস্ট করেত বেশ কাজে দেয় । এই জন্য সর্ব প্রথমে আপনাকে ফোনের সেটিংস অপশনে ঢুকতে হবে। এরপর “এবাউট ফোন about phone” এ অপশনে যান। এখন বিল্ড নাম্বারের উপর ৭ বার চাপ প্রয়োগ করুন। আপনি এরপর দেখতে পাবেন আপনাকে একজন ডেভলপার হিসেবে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে। এখন আপনি পুনরায় আপনার মেইন সেটিংসে ফিরে আসুন । এরপর ডেভলপার অপশনে চাপ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করুন এবং সেই সঙ্গে animation scale  নামক অপশনটি খুঁজে বের করুন । এইখানে আপনার সামনে ৩টি অপশন প্রদর্শিত হবে। সব গুলো অপশন বন্ধ করে দিন। এরপর দেখবেন আপনার স্মার্টফোনটি আগের তুলনায় অনেক বেশী স্মুথ হয়েছে। তবে আপনার স্মার্টফোনটি যদি সুপার স্লো না হয়ে থাকে তাহলে এটি অফ করার প্রয়োজন নেই।

লাইভ ওয়ালপেপার ও উইজেটস ব্যবহার এড়িয়ে চলুন

অনেকেই ফোনকে সুন্দর দেখানোর জন্য ফোনের হোম স্ক্রিনে বিভিন্ন ধরনের উইজেট (Widgets) এবং লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করেন। কিন্তু এই বিষয়টি অনেকেই জানেন না যে এসব উইজেট ও লাইভ ওয়ালপেপার আপনার ফোনের গতির উপর প্রভাব ফেলে এবং ফোনকে অনেকটা স্লো করে দেয়। তাই আপনার ব্যবহৃত স্মার্টফোনটিতে যদি ভালো স্পিড পেতে চান তাহলে লাইভ ওয়ালপেপার ও উইজেটস ব্যবহার বাদ দিন।

ওয়াইফাই কানেকশন অপটিমাইজ করুন

অনেক সময় অতিরিক্ত দুর্বল ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে কানেক্টেড থাকার কারনে আপনার ফোন স্লো হয়ে যেতে পারে। তাই আপনার ফোন থেকে ওয়াইফাই ডিসকানেক্ট করে আপনার স্মার্টফোনের গতি পরীক্ষা করে এটি নিশ্চিত হয়ে নিন যে, আপনি আপনার ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের কারণে ফোন স্লো হওয়ার মত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন কিনা। এমন অবস্থায় যদি আপনার মনে হয় যে ওয়াইফাই এর কারনে আপনার ফোন স্লো হয়ে যাচ্ছে তাহলে দ্রুত ওয়াইফাই কানেকশন অপটিমাইজ করার ব্যবস্থা করুন।

অটো-সিনক বন্ধ করে দিন

অটো-সিঙ্ক / Auto-Sync অপশন চালু রাখলে ফোনের ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভিন্ন ধরনের এক্টিভিটি চালু থাকে, যার কারনে ফোনের গতি কিছুটা কমে যায়। আপনার স্মার্টফোনটিতেও যদি অটো সিনক অপশন চালু করা থাকে, তবে সম্ভব হলে সেটি বন্ধ করে দিন। উল্লেখ্য যে, অটো সিনক অপশন বন্ধ করে দিলে আপনি রিসেন্ট আসা মেইলগুলো সম্পর্কে কোন নোটিফিকেশন পাবেন না। তাছাড়াও অটো ক্লাউড সিঙ্ক ও বন্ধ হয়ে যাবে।

ডাটা সেভার মোড ব্যবহার করুন

স্মার্টফোনে আপনি যে ব্রাউজার টি ব্যবহার করেন, সেটির ডাটা সেভার মোড টি অন করে দিন। সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইটগুলো আগের থেকে দ্রত লোড হবে এবং গতিও ভালো পাবেন। তবে এতে করে আপনার ব্রাউজিং কোয়ালিটির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

টাস্ক কিলিং মাত্রা রেখে করুন

আমাদের মধ্যে অনেকেই মনে করেন যে, টাস্ক ম্যানেজার ক্লিন রাখলে ফোনে অধিক স্পিড পাওয়া যায়। তাই তারা বেশীরভাগ সময় অথবা একটি অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়ার সময় পূর্বের অ্যাপসটি টাস্ক ম্যানেজার থেকে ক্লিয়ার করে দেন। তবে বাস্তব কথা হল অতিরিক্ত মাত্রায় টাস্ক কিলিং করা উচিত নয়। একটি অ্যাপস বন্ধ করে দিলে পরেরবার অ্যাপসটি চালু করার জন্য ফোনকে প্রচুর মেমোরি খরচ করতে হয়, যার দরুন ফোনের গতি কমে যায়। তাই অতিরিক্ত মাত্রায় টাস্ক কিলিং কখনই করবেন না। পাশাপাশি একসঙ্গে অনেকগুলো অ্যাপ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করুন। এতেও ফোন স্লো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্যাটারি বদলে ফেলুন

অনেক সময় দূর্বল বা খারাপ ব্যাটারির কারণেও ফোনের গতি বা পারফরম্যান্সে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই সবার প্রথমে এটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করুন যে আপনার ফোনের গতি কমে যাওয়ার পেছনে ব্যাটারির কোনো সমস্যা দায়ী কিনা। সেক্ষেত্রে ফোনের ব্যাটারিটি চেঞ্জ করে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারেন।

ফোন রিস্টার্ট করুন

এটি মূলত প্রথম এবং সবচেয়ে সহজতম উপায়। ফোনটি রিস্টার্ট বা বন্ধ করে অন করার পর মোবাইল নেটওয়ার্ক সার্চ করে, এর কারন এই সময় ইন্টারনেটের স্পিড কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। এটা ছাড়াও আপনি ফোনের ডাটা একবার বন্ধ করে আবার অন করতে পারেন।

ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট

যদি উপরের সব কিছু করার পরেও আপনার ফোনের গতি না বাড়ে, সেক্ষেত্রে শেষ অপশন ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট। ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট করলে আপনার ফোন মেমরী বা ইন্টারনাল মেমোরির সমস্ত ডেটা কিন্তু মুছে যাবে। ফ্যাক্টরি ডাটা রিসেট অপশনে চাপ দেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার ফোনের ডেটার ব্যাকআপ নিয়ে নেবেন।

আশা করছি উপরের পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করলে আপনার স্মার্টফোনের গতি বা স্পীড পূর্বের তুলনায় অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং আপনারা আপনাদের ফোন স্লো হয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবেন ।

বিডিটেকটিউনার

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment