Ransomware কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে?

আপনারা নিশ্চই জানেন যে, বর্তমানে প্রায় প্রতিদিন, কোন না কোন সাইবার হামলা ঘটছে । কিন্তু এর মধ্যে কিছু কিছু সাইবার আক্রমণ এত বড় হয় যে, সেগুলোর কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রভাবিত হয় । ২০১৭ সালে, ওয়ানা ক্রাই র‍্যানসমওয়্যার ১৫০ টিরও বেশি দেশকে প্রভাবিত করেছিল । আবার ভবিষ্যতে এমনটা হবে না তার কোনো নিশ্চয়তা দেয়া যায় না । সেজন্য একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে আপনাদের জানা থাকা উচিত Ransomware কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে? এছাড়াও আমাদের আরও জানা উচিত কিভাবে এগুলোকে এড়ানো যায়? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে আজকের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ পড়ুন ।

Ransomwareর‍্যানসমওয়্যার

সাধারণত একজন অপহরণকারী টাকার জন্য কাউকে অপহরণ করে এবং তাকে মুক্ত করে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা চায় । যাকে ‘র‍্যানসম‘ বলা হয়। এখন আপনারা বলতে পারেন যে, আপনি আমাদের র‍্যানসমওয়্যারের কথা বলছেন নাকি কিডন্যাপিং শিখাচ্ছেন? আসলে আমি আপনাদেরকে ransomware সম্পর্কেই বলছি । কারণ র‍্যানসমওয়্যারের সাথে, কীডন্যাপিংয়ের অনেক মিল রয়েছে ।

আসলে, র‍্যানসমওয়্যার এবং কীডন্যাপারের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই । উভয়ের কাজ মূলত একই অর্থাৎ অপহরণ করে টাকা দাবি করা । পার্থক্য শুধু এই যে, কিডন্যাপার এই কাজটি শারীরিকভাবে করে, আর Ransomware এটা ডিজিটালভাবে বা অনলাইনের মাধ্যমে করে । অর্থাৎ, কিডন্যাপার, কোন একজন ব্যক্তিকে অপহরণ করে আর র‍্যানসমওয়্যার, ফোন বা কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটারে থাকা ফাইল কে এনক্রিপ্ট করে । আর এর পরে ব্যক্তি বা সিস্টেম বা ফাইল কে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা চাওয়া হয় । 

আরও পড়ুনঃ অনলাইনে ইনকাম করার ৫০ টি উপায়

Ransomware কি – র‍্যানসমওয়্যার কি

আমরা যদি আক্ষরিক অর্থ নিয়ে কথা বলি, তাহলে র‍্যানসমওয়্যার শব্দটি ২ টি শব্দ দ্বারা গঠিত – র‍্যানসম এবং ওয়্যার । এখানে Ransom মানে হল মুক্তিপন আর Ware মানে সফটওয়্যার । এভাবে র‍্যানসমওয়্যার শব্দের অর্থ দাঁড়ায় – মুক্তিপণ দাবি করা সফটওয়্যার । অর্থাৎ, র‍্যানসমওয়্যার হল এমন সফটওয়্যার বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম যা মুক্তিপণ দাবি করে ।

র‍্যানসমওয়্যার মূলত একটি বিপজ্জনক কম্পিউটার ম্যালওয়্যার ! যেটি ফোন বা কম্পিউটারের সিস্টেমে প্রবেশ করে সেই কম্পিউটার বা ফোনের পুরো অ্যাক্সেস অথবা সেই ফোন বা কম্পিউটারে থাকা ফাইলের এক্সেস নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় ।অর্থাৎ ভিকটিমকে তার ডেটা অ্যাক্সেস করার ক্ষমতা বন্ধ করে দেয় । যাতে ভিকটিম তার ফোন বা কম্পিউটারের কোন ডেটা অ্যাক্সেস করতে সক্ষম না হয় ।

এমন অবস্থায় ভিকটিম যখন তার কোন ফাইল ওপেন করতে যায় তখন পর্দায় একটি বার্তা দেখা যায়, যেখানে হ্যাকার বলে যে, আপনার সিস্টেম হ্যাক হয়েছে এবং আমাদের কাছে এটির অ্যাক্সেস আছে । তাই আপনি যদি নিরাপদে আপনার ডেটা ফিরে পেতে চান তাহলে আমাকে এত টাকা দিতে হবে । অন্যথায় আমরা আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দেব এবং সেই সাথে আপনার সিস্টেম ক্র্যাশ করবে । এভাবেই এই র‍্যানসমওয়্যারের মাধ্যমে ভিকটিমকে টাকা দিতে বাধ্য করা হয় ।

র‍্যানসমওয়্যারের ইতিহাস

১৯৪৯ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী জনভন নিউম্যান সর্বপ্রথম কম্পিউটার ভাইরাস আবিষ্কার করেন । তবে Ransomware ভাইরাসের সূচনা হয় আরও অনেক বছর পরে । ১৯৮৯ সালে জোসেফ পোপ নামক এক ব্যক্তি ‘AIDS’ নামক একটি ট্রোজোন র‍্যানসমওয়্যার তৈরি করেন । যেটি PC Cyborg নামেও পরিচিত ছিল । এই পিসি সাইবর্গ র‍্যানসমওয়্যারটি কোনো কম্পিউটারে রান হওয়ার পর তা হার্ড ড্রাইভের সকল ফাইলকে এনক্রিপ্ট করতো এবং দাবি করতো যে, ডিভাইসের কোনো একটি সফটওয়্যারের লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে । তাই ডিভাইসের সিস্টেমকে পুনরায় চালু করতে হলে PC Cyborg কর্তৃপক্ষকে ১৮৯ মার্কিন ডলার পে করতে হবে ।

সেই থেকে র‍্যানসমওয়্যারের শুরু, ধীরে ধীরে এটি আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে । ২০১০ সালে ভিন্ন ধরনের এক র‍্যানসমওয়্যারের অস্তিত্ব চিহ্নিত করা হয় । এটি কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করতে বাধা দিত এবং কম্পিউটার স্ক্রিনে অশ্লীল ছবি দেখিয়ে ব্যবহারকারীর কাছ থেকে ১০ মার্কিন ডলার দাবি করত ৷ এই ভাইরাসের দ্বারা রাশিয়া ও তার প্রতিবেশী দেশসমূহে অনেক ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে এটাক করে প্রায় ১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হাতিয়ে নিয়েছিল ।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের মে মাসে Ransomware দ্বারা সবচেয়ে বড় সাইবার আক্রমনের শিকার হয়েছিল পুরো বিশ্ব । ওয়ানাক্রাই (WannaCry) নামক এক র‍্যানসমওয়্যার বিশ্বের প্রায় ১০০ টিরও বেশী দেশের প্রায় লক্ষাধিক পার্সোনাল কম্পিউটারে আক্রমণ করে । এই আক্রমনের কারণে পৃথিবীর অনেক বড় বড় কোম্পানির সাইবার সিকিউরিটি ব্যবস্থাও হুমকির মধ্যে পড়েছিল । এই সাইবার অ্যাটাকের কারণে রাশিয়া, ইউক্রেন, তাইওয়ান সহ আরো বেশকিছু দেশ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিল । বাদ যায়নি আমেরিকা, চায়নার মতো শক্তিশালী সাইবার সিকিউরিটি ক্ষমতা সম্পন্ন দেশগুলোও ৷ এমনকি আমাদের বাংলাদেশেরও বেশকিছু ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কম্পিউটারে আক্রমণ করেছিল এই ওয়ানাক্রাই ।

র‍্যানসমওয়্যারের থাবা থেকে নিস্তার পায়নি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশিষ্ট অ্যাপেলের MAC অপারেটিং সিস্টেম । ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয় ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম । কেরেঞ্জার (KeRanger) নামক র‍্যানসমওয়্যার সর্বপ্রথম ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে আঘাত হেনেছিল । এরকম একটি ঘটনার পর অ্যাপেলের সফটওয়্যার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞরা দল বেঁধে সমস্যার সমাধানে নেমে পড়ে । পরে খুব দ্রুতই তারা ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমে নতুন আপডেট যুক্ত করেন, যার নাম দেয়া হয় এক্সপ্রোটেক্ট (XProtect) ।

Ransomware এর প্রকারভেদ

আমরা যদি র‍্যানসমওয়্যারের প্রকারের কথা বলি তবে তা প্রধানত ২ প্রকার। একটি হল ক্রিপ্টো Ransomware (Crypto Ransomware) এবং অন্যটি লকার Ransomware (Locker Ransomware) । এবার জেনে নেয়া যাক এই দুই এর মধ্যে পার্থক্য কি? 

1. Crypto Ransomware

Crypto ransomwares খুবই মারাত্মক র‍্যানসমওয়্যার । এই ধরনের র‍্যানসমওয়্যার সিস্টেমে প্রবেশ করার সাথে সাথে ফাইলগুলিকে এনক্রিপ্ট করে এবং সেই এনক্রিপ্ট করা ফাইলকে ডিক্রিপ্ট করার জন্য টাকা দাবি করে । আর টাকা না পাওয়া পর্যন্ত তারা এনক্রিপশন কী দেয় না । আর এনক্রিপশন কী ছাড়া, ফাইলগুলি ডিক্রিপ্ট করাও সম্ভব না। এমতাবস্থায় ভিকটিম হ্যাকারকে টাকা দিতে বাধ্য হয় ।

উদাহরণস্বরূপ, CryptoLocker হল এই ধরনের প্রথম ক্রিপ্টো র‍্যানসমওয়্যার, যা প্রতিটি ফাইল এনক্রিপশন করার জন্য একটি ভিন্ন এবং র‍্যান্ডম সিমেট্রিক কী ব্যবহার করেছে । এছাড়াও ৭০ টিরও বেশি ধরণের ফাইল এনক্রিপ্ট করতে সফল হয়েছে এই র‍্যানসমওয়্যার । কিন্তু পরবর্তীতে টরেন্ট লকার, ক্রিপ্টোওয়াল , সিটিবি লকার, লকি এবং ওয়ানা ক্রাই এর মতো প্রচুর ক্রিপ্টো র‍্যানসমওয়্যার এসেছে । আর সেগুলোঊ ইন্টারনেটে তুমুল হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল । 

2. লকার Ransomware

লকার র‍্যানসমওয়্যারগুলি আরও বেশি বিপজ্জনক । কারণ এগুলো পুরো সিস্টেম লক করে দেয় । যার ফলে ভিকটিম তার ফোন বা কম্পিউটারে লগইন করতে পারে না । লগইন করার সময় প্রতিবার সে স্ক্রিনে পে টু আনলকের মেসেজ দেখতে থাকে । যার অর্থ হল সিস্টেম আনলক করতে হলে তাকে অর্থ প্রদান করতে হবে । আবার এই টাকা দেওয়ার জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, যার মধ্যে ভিকটিমকে অর্থ প্রদান করতে হবে ।

ভিকটিম যদি কোন কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পেমেন্ট না করে তাহলে হ্যাকার এই চারটি কাজের যে কোনটি করতে পারে ।প্রথমত, পেমেন্ট দ্বিগুণ বা তিনগুণ করে দিতে পারে । দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস করে দিতে পারে । তৃতীয়ত, গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ডিলিট করে দিতে পারে । এবং চতুর্থ, আপনার পুরো সিস্টেম ক্র্যাশ করাতে পারে । এমন অবস্থায় ভিক্টিমের কাছে একটাই অপশন থাকে, আর তা হল মুক্তিপনের টাকা দিয়ে রেহাই পাওয়া ।

এর সেরা একটি উদাহরণ হল রেভেটন । এটি ২০১২ সালে অনেক কম্পিউটারকে টার্গেট করেছিল এবং ভিকটিমদের ভয় দেখানোর জন্য তারা এফবিআই ও ন্যাশনাল পুলিশ ফোর্সের নাম ইউজ করেছিল । পরে জানা যায়, এতে এফবিআই ও ন্যাশনাল পুলিশ বাহিনীর কোনো হাত ছিল না বরং এটা ছিল একটি র‍্যানসমওয়্যার অ্যাটাক ।

আরও পড়ুনঃ কিভাবে ইউআরএল শর্টনার ওয়েবসাইট থেকে অর্থ উপার্জন করবেন?

র‍্যানসমওয়্যার কিভাবে ছড়ায়?

র‍্যানসমওয়্যার আসলে স্প্যাম এবং ফিশিং লিংক এর মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে । অর্থাৎ হ্যাকার আমাদেরকে একটি লিঙ্ক পাঠায় এবং সেই লিংকে ক্লিক করতে বলে । আমরা যখন সেই লিঙ্কে ক্লিক করি তখন তা আমাদেরকে একটি ওয়েবপেজে নিয়ে যায় । সেই পেজে আমাদেরকে কিছু অ্যাপ বা সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে বলা হয়, এই সফটওয়্যার গুলই এক একটি র‍্যানসমওয়্যার । সেজন্য ডাউনলোড করার সাথে সাথেই এটি তার কাজ শুরু করে দেয় এবং পুরো সিস্টেম বা ফাইলকে দখল করে নেয় ।

এছাড়া ইমেইলর মাধ্যমেও এটি প্রচুর পরিমাণে ছড়িয়ে থাকে । অর্থাৎ , একটি কমান্ড প্রোগ্রাম, একটি ইমেইলে এটাচ করে ইউজারদের কাছে পাঠানো হয় । এবং আমরা যখন এটিতে ক্লিক করি তখন এটি আমাদের সিস্টেমে ইনস্টল হয়ে যায় ।কারণ আমাদের করা ক্লিক একটি কমান্ড হিসাবে কাজ করে । যার ফলে র‍্যানসমওয়্যার আমাদের সিস্টেমে প্রবেশ করে এবং লক করে দেয় ।

এছাড়া, স্প্যাম ওয়েবসাইটগুলোও র‍্যানসমওয়্যার ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম একটি বড় কারণ । এর মাধ্যমে ব্যাপক হারে ম্যালওয়্যার ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে । ইমেইল এবং স্প্যামি ওয়েবসাইট এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে এই র‍্যানসমওয়্যার ছড়িয়ে পড়ার পেছনে ।

কিভাবে Ransomware এড়ানো যায় ?

এখন প্রশ্ন হচ্ছে র‍্যানসমওয়্যার এড়াবেন কিভাবে? তাই এর জন্য আমাদেরকে একটু সচেতন হতে হবে । অর্থাৎ অনলাইন সেফটি এবং সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে জানতে হবে । এছাড়াও, ইন্টারনেট ব্রাউজ করার সময়, আপনাকে আপনার সুরক্ষা এবং গোপনীয়তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে । এর ফলে আপনারা ইন্টারনেটে থাকা বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস এবং ম্যালওয়্যার অ্যাটাক এড়াতে পারবেন ।  হ্যাকিং এবং অনলাইন প্রতারণা বা র‍্যানসমওয়্যার যাই বলুন না কেন, এগুলোকে এড়াতে, আপনাকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মনে রাখতে হবে –

1. নিয়মিত ব্যাকআপ

শুধু কল্পনা করুন, যদি আপনার ফোন বা কম্পিউটারে ransomware আক্রমণ ঘটেছে এবং টাকা পরিশোধ না করায় হ্যাকার আপনার সমস্ত ডেটা মুছে দিয়েছে । তো এখন আপনি কি করবেন? স্পষ্টতই আর কিছু করার বাকি থাকে না । কারণ ঐ পরিস্থিতিতে হ্যাকার চাইলেই আপনার সমস্ত ডেটা মুছে ফেলতে পারে এবং যদি হ্যাকার সত্যিই সেটা করে তাহলে আপনি কিছুই করতে পারবেন না ।

কিন্তু যদি আপনার কাছে যদি আপনার প্রয়োজনীয় ডেটার ব্যাকআপ নেওয়া থাকে , তাহলে আপনাকে তখন বিষয়টি নিয়ে তেমন মাথা ঘামাতে হবে না । কারণ হ্যাকার ডাটাগুলোকে মুছে দিলেও, আপনার ডেটা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে । এবং আপনি আপনার ব্যাকআপ থেকে এটি পুনরুদ্ধার করতে পারবেন এবং এটি পুনরায় ব্যবহার করতে পারবেন । অর্থাৎ আপনার ডাটার ব্যাকআপ নেওয়া খুবই জরুরী । বিশেষ করে যে ডেটা গুলো আপনার বেশী গুরুত্বপূর্ণ । শুধু অনলাইনে নয়, বরং অফলাইনেও আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডেটার ব্যাকআপ রাখা প্রয়োজন ।

2. অজানা বা অপরিচিত ইমেল এড়িয়ে চলুন

যদি কোন অজানা ব্যক্তির থেকে আপনাকে কোন ইমেইল পাঠানো হয় এবং সেই মেইলে কোন এটাচমেন্ট থাকে, তাহলে ভুলেও সেটিতে ক্লিক করবেন না । কারণ এটাচমেন্ট আকারে র‍্যানসমওয়্যার থাকতে পারে । এছাড়াও, আপনি যদি কোনও নামী সংস্থা বা কোম্পানির থেকে কোনও ইমেইল পেয়ে থাকেন এবং এটি দেখতে যদি একেবারে বাস্তব দেখায়, তাহলে অবশ্যই এটি পরীক্ষা করে দেখুন। কারণ এটি জালও হতে পারে। প্রকৃতপক্ষে , হ্যাকাররাও একইভাবে বড় কোম্পানির নাম ব্যবহার করে মানুষকে জড়িয়ে ফেলে।

3. স্প্যামি ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলুন

আমাদের যখন কোন অ্যাপ বা সফ্টওয়্যারের প্রয়োজন হয় তখন আমরা বেশীরভাগ মানুষ গুগলে গিয়ে অনুসন্ধান করি  এবং গুগলের সার্চ রেজাল্টের প্রথম বা দ্বিতীয় লিঙ্ক থেকে সেই সফটওয়্যার ডাউনলোড করে ফেলি । কিন্তু এর ফলে আমাদের কম্পিউটার সিস্টেমে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করতে পারে  এবং সেই ম্যালাওয়্যার আপনার ফোন বা কম্পিউটারের ক্ষতি করতে পারে। তাই অনুমোদনহীন ওয়েবসাইট থেকে কখনই অ্যাপস বা সফটওয়্যার ডাউনলোড করবেন না ।

এছাড়াও, ক্র্যাকড, পাইরেটেড এবং মডিফাইড সফটওয়্যার ইউজ করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকুন ।কারণ এই ধরনের সফটওয়্যারের সাথে ট্রোজান , কীলগার এবং ট্র্যাকার ইত্যাদি থাকতে পারে । যা আপনার ফোন বা কম্পিউটারে প্রবেশ করে নীরবে তার কাজ করতে থাকবে । আর আপনি সেটি জানতেও পারবেন না । তাই অনুমোদনহীন ও স্প্যামি ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলুন এবং সব সময় বৈধ প্রোগ্রাম ব্যবহার করুন । এছাড়াও, সব সময় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ এবং সফ্টওয়্যার ডাউনলোড করুন ।

4. ব্লক পপআপ

ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সময় পপআপ এড আসা খুব সাধারণ ব্যাপার । কিন্তু কোন কিছু চিন্তা না করে পপআপ এলাও করে দেওয়া খুবই অন্যায় । কারণ এর ফলে আপনার ফোন বা কম্পিউটারে ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার প্রবেশ করতে পারে এবং আপনার কম্পিউটারের ক্ষতি করতে পারে । সেজন্য অযথা পপআপ এলাউ করবেন না । বরং পপআপ ব্লক রাখুন । আজকাল, প্রায় সব ওয়েব ব্রাউজারেই পপআপ ব্লকারের অপশন থাকে । আপনি আপনার ব্রাউজারের সেটিংসে গিয়ে এটি অন/অফ করতে পারবেন ।

5. আপনার সিস্টেম আপডেট করুন

আপনি যে ডিভাইসই ব্যবহার করেন না কেন, সেটি হতে পারে ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার । এটিকে নিয়মিত আপডেট করুন । কারণ প্রতিটি আপডেটে কিছু বাগ সংশোধন করা হয় এবং সেই সাথে সিকিউরিটি ব্যবস্থাও উন্নত করা হয় । এই কারণেই আপডেটগুলি কোনভাবেই মিস করবেন না । বরং অপারেটিং সিস্টেমের সাথে সাথে আপনার ফোন বা কম্পিউটারে থাকা অ্যাপস এবং সফটওয়্যারগুলোউ আপডেট করুন ।

আপনারা নিশ্চই জানেন যে, প্রতি মাসে গুগল অ্যান্ড্রয়েডের জন্য একটি নিরাপত্তা প্যাচ পাবলিশ করে । যা Android অপারেটিং সিস্টেমের নিরাপত্তার জন্য । আপনি যদি একজন অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী হন তবে অবশ্যই প্রত্যেক মাসে গুগলের সিকিউরিটি প্যাচ ইনস্টল করুন । এর ফলে আপনার ডিভাইসটি সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত থাকবে । আর হ্যাকাররা আপনার ফোনের কোনো ক্ষতি করার সুযোগ পাবে না ।

6. পেইড অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন

আপনি যদি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করেন, তাহলে আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপে অবশ্যই একটি পেইড অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করুন । কারণ বেশিরভাগ র‍্যানসমওয়্যার অ্যাটাক উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমেই ঘটে । এজন্য উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যান্টিভাইরাস থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । এর পাশাপাশি অ্যান্টিভাইরাসটিকে ক্রমাগত আপডেট করাও প্রয়োজন । কারণ আপনি যদি অ্যান্টিভাইরাস নিয়মিত আপডেট না করেন তবে এটি নতুন নতুন ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম হবে না ।

7. ফায়ারওয়াল এনাবল রাখুন

ফায়ারওয়াল একটি গুরুত্বপূর্ণ সিকিউরিটি ফিচার । যার উপর একটি আলাদা আর্টিকেল লেখা যেতে পারে, তবে সংক্ষেপে, শুধু জেনে রাখুন এটি হল Fire + Wall অর্থাৎ ‘Wall of Fire’  যা ভাইরাস , ট্রোজান এবং অন্যান্য বিপজ্জনক প্রোগ্রামকে আপনার কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করতে বাধা দেয় । এবং আপনার সিস্টেমকে বাহ্যিক আক্রমণ থেকে রক্ষা করে । তাই সবসময় এটিকে এনাবল রাখুন ।

আমি আপনাদের বলে রাখি যে, আজকাল ফায়ারওয়াল প্রতিটি অপারেটিং সিস্টেমে ইনবিল্ড অবস্থায় আসে । তাই আলাদা করে এটি ডাউনলোড বা ইন্সটল করার দরকার নেই । শুধু আপনার ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের সিকিউরিটি সেটিংসে গিয়ে ফায়ারওয়াল চালু আছে কি না তা পরীক্ষা করুন । যদি ডিসেবল থাকে তাহলে এটিকে এনাবল করুন । যাতে আপনার ডিভাইস বাইরের বিভিন্ন ধরনের আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকে ।

কিভাবে Ransomware রিমুভ করবেন?

এখন প্রশ্ন হচ্ছে র‍্যানসমওয়্যার কিভাবে রিমুভ করবেন? কিভাবে Ransomware রিমুভ করবেন? র‍্যানসমওয়্যার ডিলিট করার জন্য উপলব্ধ অনেক টুলস আছে । যার সাহায্যে আপনি আপনার ফোন বা কম্পিউটারকে আনলক করতে পারবেন এবং সেই সাথে আপনার ডেটাও ডিক্রিপ্ট করতে পারবেন । নিচে কিছু জনপ্রিয় ransomware রিমুভাল টুলসের নাম দেওয়া হল –

  • QuickHeal Ransomware রিমুভাল টুল
  • QuickHeal Ransomware ডিক্রিপশন টুল
  • Kaspersky Anti Ransomware টুল
  • ক্যাসপারস্কি র‍্যানসমওয়্যার ডিক্রিপ্টর
  • McAfee Ransomware Recover Tool
  • Avast Anti Ransomware টুল
  • Avast Ransomware ডিক্রিপশন টুল
  • F-Secure Ransomware Removal Toolkit
  • ভিম র‍্যানসমওয়্যার প্রিভেনশন কিট

উপরের টুলসগুলির সাহায্যে, আপনি আপনার ফোন বা কম্পিউটার থেকে র‍্যানসমওয়্যার সরাতে বা রিমুভ করতে পারবেন ।এবং সেই সাথে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ডেটা ডিক্রিপ্ট করতে পারবেন । এছাড়াও আপনি যদি একটি ভাল পেইড অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করেন তাহলে আপনি এটির ভিতরে র‍্যানসমওয়্যার রিমুভ ফিচার পেতে পারেন । কারণ আজকাল অনেক কোম্পানি তাদের পেইড এন্টিভাইরাস প্ল্যানে এই ফিচার দিয়ে থাকে ।

শেষ কথা

সামগ্রিকভাবে, র‍্যানসমওয়্যার একটি বিপজ্জনক ধরনের ম্যালওয়্যার, যা র‍্যান্সম মানির জন্য পরিচিত । একদিকে ক্রিপ্টো র‍্যানসমওয়্যার, যা ডেটা এনক্রিপ্ট করে এবং ডিক্রিপ্ট করে দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করে । অন্যদিকে, লকার র‍্যানসমওয়্যার পুরো সিস্টেমটি লক করে দেয় এবং আনলক করার বিনিময়ে অর্থ চায় । 

আশা করি আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা Ransomware সম্পর্কে বিস্তারিত অনেক তথ্য জানতে পেড়েছেন ।যেমন র‍্যানসমওয়্যার কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে? সেই সাথে র‍্যানসমওয়্যার ছড়ানোর কারণ এবং তা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কেও আমরা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি । আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান ।

ধন্যবাদ ।

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment