কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ, লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার

বর্তমানে বেশীরভাগ মানুষের পেট ভালো করে পরিষ্কার হয় না । যার ফলে সারাদিনে তাদেরকে গ্যাস, অ্যাসিডিটি, পেটে ভারি ভাব, মাথাব্যথা ইত্যাদি অনেক কিছু সহ্য করতে হয় । আর এই সবের কারণে তাদের দিনটিও ভাল যায় না । বর্তমান সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্য এমন একটি সমস্যা, যা বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে দেখা যায় এবং এই কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে অনেক ধরনের রোগ হয়ে থাকে । অনেক সময় এই সমস্যা এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, তা জীবন পর্যন্ত নিয়ে নিতে পারে । তাই আজকের এই নিবন্ধে, আমরা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করব । আজকের আর্টিকেলে দেওয়া ঘরোয়া প্রতিকারগুলোর মাধ্যমে আপনারা আপনাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকটা কমাতে সক্ষম হবেন ।

কোষ্ঠকাঠিন্য কি কোষ্ঠকাঠিন্য কাকে বলে

সহজ ভাষায় বললে, কোষ্ঠকাঠিন্য হল পাচনতন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত এমন একটি অবস্থা, যেখানে মলত্যাগ করতে অসুবিধা হয় ।মল ত্যাগ করার সময় মলদ্বার দিয়ে সহজে মল বের হয় না, এমন অবস্থাকেই কোষ্ঠকাঠিন্য বলে । এই পর্যায়ে মল অতিরিক্ত শক্ত এবং শুষ্ক হয়ে যায় । যার ফলে মাঝে মাঝে মলত্যাগের সময় পেট ও মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে । চিকিৎসকদের মতে, আপনি যদি প্রতি সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ করেন তাহলে আপনি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন । এই সমস্যা যে কোন মানুষের এবং যে কোনো বয়সেই হতে পারে । কখনও কখনও এটি অল্প কিছু সময়ের জন্য হয়, আবার কখনও কখনও এটি দীর্ঘ সময়ের জন্যও হতে পারে । এখানে আপনাদের বলে রাখি যে, দীর্ঘ সময় ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য অন্য কোন শারীরিক ব্যাধির উপসর্গও হতে পারে ( তথ্যসূত্র )।

কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রকার – কোষ্ঠকাঠিন্য কত প্রকার

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রধানত ৩ প্রকার। আসুন এই তিন ধরনের কোষ্ঠকাঠিন্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক –

  1. নরমাল ট্রানজিট কোষ্ঠকাঠিন্য : এটি সবচেয়ে সাধারণ কোষ্ঠকাঠিন্য হিসাবে বিবেচিত হয় । এই ধরনের কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন এমন একজন ব্যক্তি মাঝে মাঝে মলত্যাগ করতে অসুবিধা অনুভব করেন, কিন্তু তিনি তার নিয়মিত স্বাভাবিক ভাবেই মলত্যাগ করতে থাকেন  ।
  2. স্লো ট্রানজিট কোষ্ঠকাঠিন্য : এটি বৃহৎ অন্ত্রের একটি রোগের কারণে সৃষ্ট একটি সমস্যা । এন্টারিক স্নায়ুতন্ত্রের (ENS) স্নায়ু, মলত্যাগ করার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এই স্নায়ু বৃহদন্ত্র থেকে মলদ্বারে মল পৌঁছে দেয় । এই স্নায়ুতে কোন সমস্যা হলে তা স্লো ট্রানজিট কোষ্ঠকাঠিন্য সৃষ্টি করে  ।
  3. Defecation disorder : যাদের দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা রয়েছে তাদের মধ্যে ৫০% মানুষ Defecation disorder এ ভোগেন । শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাই এর সঠিক কারণ বলতে পারবেন । কিছু চিকিৎসক বিশ্বাস করেন যে মলদ্বারের অঙ্গগুলির কাজ করার ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারনেই Defecation disorder হয়ে থাকে (তথ্যসূত্র) ।
আরও পড়ুনঃ অ্যাসিডিটির কারণ, লক্ষণ এবং ঘরোয়া প্রতিকার

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণকোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়

মূলত কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসের সাথে সম্পর্কিত । কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেক কারণে হতে পারে । তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ গুলো সম্পর্কে –

  • কম আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ : ফলমূল, শাকসবজি এবং শস্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার পাওয়া যায় । এই ফাইবার সাধারণত দুই ধরনের হয়, একটি দ্রবণীয় এবং অন্যটি অদ্রবণীয় ফাইবার । এই দু ধরনের ফাইবার আমাদের পেটের জন্য উপকারী । দ্রবণীয় ফাইবারগুলো পানির সাথে মিশে একটি জেল তৈরি করে যা আমাদের হজমশক্তি বৃদ্ধি করে । অন্যদিকে, অদ্রবণীয় ফাইবার মলকে ঘন এবং ভারী করে, যার ফলে মল দ্রুত বেরিয়ে আসে । ফাইবারের এই কার্যকলাপ অন্ত্রের গতিবিধি নরমাল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । অতএব বলা যায় যে, আপনার প্রতিদিনের খাবারে ফাইবারের অভাব কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে এবং আপনার মলত্যাগে বাধার সৃষ্টি করতে পারে ।
  • কম তরল গ্রহণ : ফাইবার সর্বোত্তমভাবে কাজ করার জন্য পানি এবং অন্যান্য তরল প্রয়োজন । এই তরলে কারণে মল নরম হয়ে যায় এবং সহজেই বের হয়ে যেতে পারে ।
  • ওষুধ: কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তবে অনেক সময় বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ার কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে । কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট এবং ব্যথা উপশমকারী ওষুধ কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে । তাই ওষুধকেও কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হিসেবে ধরা যেতে পারে ।
  • গর্ভাবস্থায়: গর্ভবতী মহিলারা প্রায়ই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় পড়েন । এ সময় মহিলাদের শরীরে প্রোজেস্টেরন হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে এবং মতিলিন হরমোনের মাত্রা কমে যায় । এই কারণে, পাকস্থলী থেকে মলদ্বারে মল যাওয়ার সময় (বাউল ট্রানজিট টাইম) বৃদ্ধি পায় । এছাড়াও, গর্ভবতী মহিলারা অতিরিক্ত পরিমাণে আয়রন গ্রহন করে, যার কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে । এছাড়াও এই সময়, বর্ধিত জরায়ুও মলকে স্বাভাবিক ভাবে বের হতে বাধা দিতে পারে (তথ্যসূত্র) ।
  • হাইপোথাইরয়েডিজম: হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি লক্ষণ হল কোষ্ঠকাঠিন্য । হাইপোথাইরয়েডিজম মূলত শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতার জন্য দায়ী। এই ভারসাম্যহীনতার কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে  ।
  • শারীরিক পরিশ্রমের অভাব: শারীরিক পরিশ্রম না করা বা কোনো ধরনের ব্যায়াম না করাও কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে । পেটের পেশী শক্ত থাকলে মল ত্যাগ করা সহজ হয় । শারীরিক পরিশ্রম না করার কারণে, পেটের পেশী দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং তা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে (তথ্যসূত্র) ।
  • হেলথ সাপলিমেন্ট: এগুলোর কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তৈরি হতে পারে । বিশেষ করে আয়রন এবং ক্যালসিয়ামের সাপলিমেন্টগুলো কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে (তথ্যসূত্র) ।
  • স্ট্রেস: স্ট্রেস বিভিন্নভাবে কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে । মানসিক চাপের সময় নিঃসৃত হরমোনগুলি অন্ত্রের ইনফেকশনের কারণ হতে পারে এবং অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা দিতে পারে । উপরন্তু, মানুষ যখন মানসিক চাপে থাকে, তখন সে সঠিক পরিমাণে খাদ্য এবং পর্যাপ্ত পানি পান করেন না এবং ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমও করেন না, যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে  ।
  • মল আটকে রাখলে : নিয়মিত মল আটকে রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে । এর কারণ হল নিয়মিত মল ধরে রাখার ফলে পাকস্থলী এবং অন্ত্র ধীরে ধীরে মলত্যাগের সংকেত দেওয়া বন্ধ করে দিতে পারে  । যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে ।
  • আইবিএস: ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) হল এক ধরনের পেটের সমস্যা, যা পেটে ব্যথা বা অস্বস্তির সৃষ্টি করে থাকে, সেইসাথে দীর্ঘদিন এই সমস্যার কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে । 
  • অপর্যাপ্ত ঘুম: বর্তমান সময়ের ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ এত বেশি থাকে যে, একজন মানুষ পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে পারেন না । পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়ার কারণে পরিপাকতন্ত্র ঠিকমতো কাজ করতে পারে না এবং তা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তৈরি হয় (তথ্যসূত্র) ।

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণকোষ্ঠকাঠিন্যের উপসর্গ

কোষ্ঠকাঠিন্য রোগের লক্ষণ এই রোগের তীব্রতা অনুযায়ী দেখা যায় । কোষ্ঠকাঠিন্যের উপসর্গ ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে ।আবার একজন ব্যক্তির মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্যের এক বা একাধিক লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যেতে পারে, যা নিচে দেওয়া হল –

  • স্বাভাবিকের চেয়ে কম মলত্যাগ করা ।
  • শক্ত এবং শুকনো মল, যা বের হওয়ার সময় অনেক সময় ব্যাথা হতে পারে ।
  • মলত্যাগ করার সময় প্রচুর পরিমাণে শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হয় ।
  • অনেকক্ষণ যাবত টয়লেটে বসে থাকা ।
  • মলত্যাগের পরে পেট পরিষ্কার হয় নি এমন মনে হওয়া ।
  • দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম উপসর্গ হল পেটে খিঁচুনি বা পেটে ব্যথা।
  • মুখে ফোসকা
আরও পড়ুনঃ ডায়রিয়া কী এবং ডায়রিয়া হলে কি খাবেন

কোষ্ঠকাঠিন্যের ঘরোয়া প্রতিকার

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ঘরোয়া প্রতিকার রয়েছে, আপনি চাইলে এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলো অনুসরন করতে পারেন । এগুলোর মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা যায় । আসুন, জেনে নিন কীভাবে এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে –

লেবু পানি – প্রথমে ১ গ্লাস হালকা গরম পানিতে ১ চা চামচ লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে নিন । এরপর যে কোন জায়গায় বসে যতটা পারেন সেই মিশ্রণটি পান করুন । এর পরে, খোলা জায়গায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মত হাঁটতে শুরু করুন । এভাবে কিছু সময় হাঁটার পর মলত্যাগের তাড়না আসতে পারে । এভাবে প্রতিদিন সকালে আপনি মিশ্রণটি পান করুন । এভাবে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মধুর সাথে লেবু পানি খেলে খুব ভাল উপকার পাওয়া যায় । এই বিষয়ের উপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, সকালে খালি পেটে হালকা গরম পানির সাথে মধু এবং লেবু মিশিয়ে পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । এমন অবস্থায় কেউ যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রতিষেধক খুঁজে থাকেন, তাহলে এই ঘরোয়া প্রতিকারটি অবলম্বন করতে পারেন । এর ফলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকটা কমে যাবে ।

ইসবগুলের ভুসি – ইসবগুলের ভুসি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে দারুণ কাজ করে । এতে রয়েছে অদ্রবণীয় ফাইবার, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগীদের মল নরম করে দেয় । ফলে খুব সহজেই ইলিমিনেশন বা মলত্যাগ সম্ভব হয় । তাই প্রতিদিন ঘুমানোর আগে ২ চামচ ইসবগুলের ভুসি, ১ গ্লাস পানি বা হালকা গরম দুধের সাথে মিশিয়ে পান করুন ।

ক্যাস্টর অয়েল – প্রথমে এক গ্লাস পানি হালকা গরম করুন । এরপর সেই হালকা গরম পানিতে অর্ধেক লেবুর রস এবং ক্যাস্টর অয়েল যোগ করুন । প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এই পানি পান করুন । ক্যাস্টর অয়েল কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যার জন্য একটি ঘরোয়া প্রতিকার হিসাবে বিবেচিত হয় । খালি পেটে পান করলে এই তেল অলৌকিকভাবে কাজ করে । এটি পাকস্থলীতে গিয়ে মলকে পাতলা ও নরম করে, যার ফলে মলত্যাগের সময় পেট সম্পূর্ণ ক্লিয়ার হয়ে যায় ( তথ্যসূত্র )।

নোট : ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত এই তেল ৭ দিনের বেশি খাওয়া উচিত নয় ।

পেঁপে এবং নারকেল দই- প্রথমে একটি মিক্সারে ১ বাটি পেঁপে এবং ১ কাপ দুগ্ধমুক্ত নারকেল দই (dairy free coconut yogurt) যোগ করে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন । এবার সেই মিশ্রণটি একটি গ্লাসে ঢেলে পান করুন । এই মিশ্রণটি অন্ত্রের জন্য লুব্রিকেন্ট হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ এটি মলকে নরম করে পেট ক্লিয়ার করতে কাজ করে । পেঁপেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রতিষেধক হিসাবে মনে করা হয়, কারণ এর রসে প্যাপাইন নামক একটি উপাদান রয়েছে যা খাবার হজম করতে খুব ভাল কাজ করে । এই উপকারী ফলটি শরীরকে ডিটক্স করতেও সাহায্য করে থাকে ( তথ্যসূত্র ) । এই কারণে, পেঁপেকে কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম প্রতিকার হিসাবে মনে করা হয় ।

দই – আমরা অনেকেই জানি যে, খাবার হজম করতে দই খুব কার্যকরী । বিশেসজ্ঞরা বলেন, দইয়ের মধ্যে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং পেটের বিভিন্ন সমস্যা কমায় । দইয়ের উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের কার্যকলাপ উন্নত করে খাবার হজম করতে সাহায্য করে । ক্যালসিয়াম হাড় শক্তিশালী করা পাশাপাশি পুষ্টিপদার্থের শোষণে সাহায্য করে । তাই নিয়মিত টকদই খেলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা অনেকটা কমে যাবে ।

তিসি বীজ বা ফ্লাক্স সিড – প্রথমে একটি মিক্সারে তিসি বীজ বা ফ্লাক্স সিড দিয়ে গুঁড়ো তৈরি করুন । এরপর ২০ গ্রাম ফ্ল্যাক্সসিড পাউডার ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা রেখে দিন । এরপর সেই মিশ্রণটি ফিল্টার করে পান করুন । ফ্ল্যাক্সসিড বা তিসি বীজ কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য একটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসাবে কাজ করে । এতে দ্রবণীয় ফাইবার রয়েছে, যা অন্ত্র পরিষ্কার করে কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় কার্যকরী ভুমিকা পালন করে । এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার পাশাপাশি কম কার্বোহাইড্রেট থাকে, যার কারণে এটি পাচনতন্ত্রকে ভাল রেখে খাবার হজম করতে সাহায্য করে । এই তিসি বীজে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও পাওয়া যায়, যা শরীরের হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখে । এই কারণে আমরা বলতে পারি যে, ফ্ল্যাক্সসিড বা তিসি বীজ কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য উপকারী ভুমিকা পালন করে ( তথ্যসূত্র )।

বেকিং সোডা ১ গ্লাস হালকা গরম পানিতে হাফ টেবিল চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করুন । কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধ হিসাবে, বেকিং সোডা অর্থাৎ সোডিয়াম বাইকার্বনেট একটি কার্যকর এবং সস্তা প্রতিকার । সোডিয়াম বাইকার্বোনেট হল একটি অ্যাসিড-বিরোধী পদার্থ, যা অ্যাসিডের কারণে অম্বল এবং বদহজম উপশম করতে ইউজ করা হয় । পরিপাকতন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত এই সুবিধাগুলি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে পারে । তবে বেকিং সোডা খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন, কারণ এর অত্যধিক ব্যবহার আপনার জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে ।

আলু বোখারা – নিয়মিত আলু বোখারা খান । আলু বুখারা কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসায় ভাল কাজ করে । এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা পেটের জন্য অত্যন্ত উপকারী । এটি মলের পরিমাণ বাড়িয়ে পেট ক্লিয়ার করে । NCBI (ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন) এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে যে, আলু বুখারা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য উপকারী ( তথ্যসূত্র )।

ত্রিফলা – এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে ২ চামচ ত্রিফলা গুঁড়ো ভালোভাবে মিশিয়ে নিন । এরপর এই মিশ্রণটি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে পান করুন । এটি পান করার পর আর অন্য কিছু খাবেন না । আমলা, হরদ ও বহেরা নামের ৩ টি ফল সমান পরিমাণে মিশিয়ে ত্রিফলা গুঁড়ো প্রস্তুত করা হয় । কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে ত্রিফলা একটি অতি প্রাচীন আয়ুর্বেদিক ওষুধ । ত্রিফলা পেট পরিষ্কার করতে পারে এবং পেট ফাঁপা এবং ফোলাভাবের মতো উপসর্গগুলি থেকে মুক্তি দিতে পারে । তাই ত্রিফলাকে কোষ্ঠকাঠিন্যের প্রতিষেধক হিসেবে গন্য করা হয় ।

ভেষজ চা – এক কাপ গরম পানিতে ১ টি ভেষজ টি ব্যাগ দিয়ে চা তৈরি করে নিয়মিত পান করুন । ভেষজ চা মূলত প্রাকৃতিক রেচক হিসাবে কাজ করে । এটি পান করার ফলে মলত্যাগ স্বাভাবিক হয় ( তথ্যসূত্র )। বাজারে আপনারা অনেক ধরনের ভেষজ চা পেয়ে যাবেন, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসার জন্য খুব ভাল কাজ করে । আপনি নরমাল চা খাওয়ার পরিবর্তে প্রতিদিন এই ভেষজ যা খেতে পারেন ।

অলিভ অয়েল – প্রতিদিন সকালে খালি পেটে ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল পানির সাথে মিশিয়ে পান করা যেতে পারে । এছাড়াও এই তেল রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন । অলিভ অয়েল কোষ্ঠকাঠিন্যের একটি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা । এই তেল মলকে নরম করে, এর ফলে মলত্যাগের সময় কোন চাপ প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না এবং পেট সহজেই পরিষ্কার হয়ে যায় ( তথ্যসূত্র )।

গমের তুষ – প্রথমে গমের ময়দা থেকে বের হওয়া তুষ নিন অথবা বাজার থেকে তুষ কিনে আনুন । এরপর সেই তুষ মিক্সারে দিয়ে ভাল করে গুঁড়ো তৈরি করুন । প্রতিদিন ২০ গ্রাম তুষের পাউডার পানিতে গুলে পান করুন । এছাড়াও এই তুষের গুড়া রুটি বা পুডিং ইত্যাদিতে যোগ করা যেতে পারে । বৈজ্ঞানিক অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ফাইবার সমৃদ্ধ গমের ভুসি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে । এখানে আপনাদের বলে রাখি যে, গমের ভুসি বা তুষ স্থূলতা এবং কিছু গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ প্রতিরোধে সহায়ক । উপরন্তু, এটি ডাইভারটিকুলার রোগ (একটি পাচনতন্ত্রের ব্যাধি), কোষ্ঠকাঠিন্য এবং আইবিএস ( 31 ) সহ অনেক ধরনের পেটের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম । তাই, কোষ্ঠকাঠিন্যের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা হিসেবে তুষ ব্যবহার করা হয় ।

আপেল এবং দুধের মিশ্রণ – প্রথমে আপেল খোসাসহ মিহি টুকরো করে কেটে নিন । এরপর মিক্সারে ১ গ্লাস দুধ দিয়ে ভালোভাবে মিক্স করে নিন । প্রতিদিন সকালের নাস্তায় এই মিশ্রণ পান করুন । প্রতিদিন একটি করে আপেল খোসাসহ খাওয়াও উপকারী । খোসা সহ আপেলে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য উপকারী । অতএব, কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য ভাল বিবেচিত খাবারের মধ্যে আপেল অন্তর্ভুক্ত করা হয় (তথ্যসূত্র) ।

সাইট্রাস ফল – সাইট্রাস ফল যেমন কমলা, লেবু, জাম্বুরা এই সব ফল নিয়মিত খান । অনেকেই মনে করেন যে সাইট্রাস জাতীয় ফল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, কিন্তু তা আসলে নয় । বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বলা হয়েছে যে সাইট্রাস ফলের মধ্যে পেকটিন নামক একটি যৌগ থাকে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে । NCBI ওয়েবসাইটে পাওয়া একটি সমীক্ষা অনুসারে, পেকটিন কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে । এই ভিত্তিতে, এটি বলা যেতে পারে যে সাইট্রাস ফল কোষ্ঠকাঠিন্যের ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে ( তথ্যসূত্র )।

ডাল – যে কোনো ধরনের ডাল ( যেমন- মসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলার ডাল) প্রতিদিন রান্না করে দুপুরের খাবার বা রাতের খাবারে অন্তর্ভুক্ত করুন । ডাল ফাইবার সমৃদ্ধ, তাই ডাল কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে পারে । তবে এগুলি সুষম পরিমাণে খাওয়া উচিত, অর্থাৎ বেশী খাওয়া ঠিক হবে না কারণ খুব বেশি পরিমাণ ফাইবার গ্রহণ করলে গ্যাস এবং পেটে ব্যথা হতে পারে ।

কোষ্ঠকাঠিন্যে কী খাবেন এবং কী খাবেন না – কোষ্ঠকাঠিন্যের ডায়েট

খাদ্যাভ্যাস সুষম হলে যে কোনো ধরনের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে । তাই আপনার প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজড় দেয়া উচিত । আর্টিকেলের এই পর্যায়ে আমরা আপনাদের বলব কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে আপনার ডায়েটে কী কী জিনিস অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ।

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা এড়াতে কী খাবেন

  • মটরশুটি: অন্যান্য সবজির তুলনায় এতে ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে । আপনি এটি খিচুড়ি, তরকারী, স্যুপ ইত্যাদিতে যোগ করে খেতে পারেন আবার আপনি এটি কাঁচাও খেতে পারেন । 
  • ফল: ফল খাওয়া সবদিক থেকেই উপকারী হলেও পেঁপে, কলা, আপেল,ও আঙুর এমনই ফল, যা বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য উপকারী । এই ফলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে । তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ধরনের মিষ্টি ফল খাওয়ার আগে অবশ্যই একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ।
  • শুকনো ফল: শুকনো ফল যেমন কিশমিশ, আখরোট, খেজুর এবং বাদামে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে । এগুলো নিয়মিত সেবন করলে কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে দূরে থাকা যায় ।
  • পপকর্ন: পপকর্নকে ফাইবার এবং ক্যালরির উৎস হিসেবে মনে করা হয় । স্ন্যাকস হিসেবে পপকর্ন খাওয়া কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে । এর জন্য ফ্লেভারড পপকর্নের পরিবর্তে নরমাল পপকর্ন খান ।
  • ওটমিল: ওটসে চর্বির পরিমাণ অনেক কম থাকে, অন্যদিকে বিটা-গ্লুকান একটি বিশেষ ধরনের ফাইবার । এছাড়া ওটসে আয়রন, প্রোটিন এবং ভিটামিন-বি১ থাকে ।
  • তরল: আপনি যদি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থেকে সবসময় দূরে থাকতে চান, তাহলে বেশি বেশি তরল পান করুন । সারাদিনে কমপক্ষে আট থেকে দশ গ্লাস পানি পান করুন । এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল ও সবজির জুস পান করত পারেন । এর ফলে অন্ত্রের খাবার হজমে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না এবং সেই সাথে আপনার শরীর সবসময় হাইড্রেটেড থাকবে ।

কোষ্ঠকাঠিন্যের হলে কি খাবেন না

কিছু খাবার গ্রহন করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ক্ষতি হতে পারে, এই খাবারগুলির মধ্যে রয়েছে –

  • ভাজা খাবার: চিপস এবং বাহিরের ভাজা জাতীয় জিনিস (যেমন- পিয়াজু, সিঙ্গারা, সমুচা) খাওয়ার ফলে পেটের হজমশক্তি খারাপ হতে পারে এবং তা থেকে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হতে পারে ।
  • চিনিযুক্ত পানীয়: চিনি দিয়ে তৈরি ঠান্ডা পানীয় বা সিরাপের কারণে আপনার পেট খারাপ করতে পারে ।
  • চা-কফি: যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য, তাদেরও নরমাল চা-কফি এড়িয়ে চলা বা কম খাওয়া উচিত । তবে আপনারা চাইলে ভেষজ চা খেতে পারেন ।
  • জাঙ্ক ফুড: পাস্তা, ফ্রাই, বার্গার, পিৎজা বা মাইক্রোওয়েভে তৈরি যে কোন ধরণের খাবার এড়িয়ে চলতে হবে । এসব খাবার নিয়মিত খেলে আপনার হজম ব্যাহত হবে এবং তা থেকে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়তে পারে ।
  • অ্যালকোহল এবং ধূমপান: আপনারা নিশ্চই জানেন যে, ধূমপান পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি করে । ধূমপান ছোট এবং ব্রিহদঅন্ত্রের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে, যা কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে ( তথ্যসূত্র )। একই সাথে, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পরিপাকতন্ত্রের ক্ষতি করে থাকে । 

ঘরোয়া প্রতিকার কি দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় করতে পারে ?

NCBI ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণগুলিকে কমাতে সাহায্য করে । তবে শুধুমাত্র খাদ্য এবং ঘরোয়া প্রতিকার, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করতে পারে না । যদি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং উপরের ঘরোয়া প্রতিকারগুলি অবলম্বন করার পরেও মলত্যাগ করতে অসুবিধা হয় । তবে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন । দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের চিকিৎসার জন্য ডাক্তাররা বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সুপারিশ করতে পারেন । 

আরও পড়ুনঃ ওজন বাড়ানোর ঘরোয়া উপায় - মোটা হওয়ার টিপস

কোষ্ঠকাঠিন্যের অসুবিধা – কোষ্ঠকাঠিন্যের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

কোষ্ঠকাঠিন্যকে উপেক্ষা করলে পরবর্তীতে তা অনেক গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে । নিচে তেমন কিছু সমস্যার কথা উল্লেখ করা হল –

  • কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দীর্ঘদিন পুশে রাখলে তা থেকে কোলন ক্যান্সার হতে পারে ।
  • ক্রমাগত কোষ্ঠকাঠিন্য হেমোরয়েডের সমস্যা তৈরি করতে পারে ।
  • কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পেট পরিষ্কার না হওয়ায় ব্রণের সমস্যা হতে পারে ( তথ্যসূত্র )।
  • ক্রমাগত কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে পুরুষদের varicocele হতে পারে । এই সমস্যাটি পুরুষদের উর্বরতা শক্তি হ্রাস করতে পারে ।
  • দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগীদের অনেক সময় মানসিক ব্যাধিও হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে উদ্বেগ, মানসিক চাপ এবং বিষণ্নতা ।

চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক কিভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা যায় ।

কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ – কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের টিপস

নিচে উল্লেখিত বিষয়গুলো মেনে চললে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা সম্ভব –

  • সুশৃঙ্খল রুটিন: প্রতিদিন সকালে নির্দিষ্ট সময়ে (ভোরে) উঠুন এবং রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ( ১১ টার মধ্যে) ঘুমাতে যান । এছাড়াও, তিন বারের খাবারের মধ্যে কমপক্ষে চার থেকে চার ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন এবং রাতে হালকা খাবার খান। এই অভ্যাসের মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকাংশে এড়ানো যায় ।
  • ভ্রমণে গেলে: কোথাও ভ্রমনে গেলে সময় ও নিয়ম অনুযায়ী খাবার খান এবং সম্ভব হলে হালকা ও পরিষ্কার খাবার খান ।
  • সময়মতো মলত্যাগ: আরটিকেলে আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, নিয়মিত মল আটকে থাকার ফলে পাচনতন্ত্র মলত্যাগের সিগন্যাল দেওয়া কমিয়ে দেয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হয় । তাই মলত্যাগের অনুভূতি হওয়া মাত্রই দ্রুত মলত্যাগ করুন ।
  • ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার: আপনার খাদ্যতালিকায় ওটস, ব্রাউন রাইস, মটরশুটি, ফল এবং শাক-সবজি রাখুন । যা থেকে আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণ ফাইবার পেতে পারেন ।
  • নিয়মিত ব্যায়াম: দীর্ঘ সময় বসে বসে কাজ করলেও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা তৈরি হতে পারে । তাই, আপনার ব্যস্ত জীবনের অল্প কিছুটা সময় ব্যায়াম করুন বা জিমে যান । খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ থাকলে ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, লং টেনিস ও ফুটবল খেলতে পারেন । সাইকেল চালানো এবং সাঁতার কাটাও আপনার জন্য ভাল অপশন হতে পারে ।
  • বেড-টি ব্যবহার করবেন না: সকালে ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথে বেড-টি খাওয়ার পরিবর্তে আর্টিকেলে উল্লেখিত লেবু পানি পান করার অভ্যাস করুন । যদি লেবু পানি খেতে সমস্যা মনে করেন তাহলে নরমাল পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন । সকালে চা বা কফির পরিবর্তে হালকা গরম পানি আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে বেশি উপকারী ।

শেষ কথা

আপনার নিশ্চই বুঝতে পেড়েছেন যে, অনেক রোগের মূল কারণ হল কোষ্ঠকাঠিন্য এবং আজকাল অনেক মানুষই এর কারণে বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন । সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এটি আমাদের পুরো শরীরের ক্ষতি করতে পারে । তাই এখানে দেওয়া ঘরোয়া প্রতিকার ও পরামর্শ মেনে এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এই রোগ প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা উচিত । সবসময় ভাল খাদ্য এবং একটি সুশৃঙ্খল রুটিন ফলো করুন । আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান ।

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment