পেটের মেদ কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায়

আজকাল অনেকেই পেটের স্থূলতার সমস্যায় ভুগছেন। এ সমস্যা সমাধানে মানুষ নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। কিন্তু অনেকেই অনেক ধরণের পদ্ধতি অবলম্বন করার পরও সঠিক ফল পাচ্ছেন না। তার কারণ হতে পারে তারা ভুল পদ্ধতি ব্যবহার করছে। আজকের আর্টিকেলে আমরা পেটের মেদ কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

কখনও কখনও কিছু ভুল পদ্ধতি অনুসরন করার ফলে খারাপ ফলাফল হতে পারে। যেমন, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং সংক্রমণ। সব পদ্ধতি সবার ক্ষেত্রে সমান ভাবে কাজ করবে না। কারণ প্রতিটি মানুষের শরীরের অবস্থা আলাদা, তাই কোন পদ্ধতি ব্যবহার করার আগে, এটির কী পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং সংক্রমণ রয়েছে সে সম্পর্কেও সচেতন হওয়া উচিত।

আমাদের কথার তাৎপর্য হলো, আপনারা মেদ কমানোর জন্য যদি কোন ঔষধ গ্রহন করতে চান, তার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। তবে কিছু ঘরোয়া উপায় আছে, যেগুলো ঝুঁকি ছাড়াই এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই সেগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে।

পেটের মেদ কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায়

পেটের মেদ কমানো খুবই জরুরী, তা না হলে এই সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকে। পেটের মেদ বাড়ার কারণে অনেক ধরনের রোগও দেখা দিতে পারে। সেজন্য পেটের মেদ কমানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পেটের মেদ কমানোর ১০টি ঘরোয়া উপায় নিচে দেওয়া হল –

১) করলার জুস পেটের মেদ কমাতে খুব ভাল কাজ করে। প্রতিদিন সকালে করলার রস তৈরি করে পান করলে পেটের মেদ দ্রুত কমে যায়। এই করলার জুস একটানা ১৫ দিন পান করুন, তাহলে আপনি আপনার পেটের পার্থক্য বুঝতে পারবেন।

২) প্রতিদিন ব্যায়াম করুন , সকালে উঠে কমপক্ষে 30 মিনিট ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করার ফলে আপনার পেটের চর্বি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।

৩) একসাথে বেশি পরিমাণে খাবার খাবেন না। দিনে ২ বার খাওয়ার পরিবর্তে দিনে ৩ থেকে ৪ বার অল্প অল্প করে খাবার খান। রাতে ডিনার এর পর কিছুক্ষণ এদিক ওদিক হাটুন।

৪) চিনি খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করুন। প্রতিদিন খাবারে দই, বাটারমিল্ক ব্যবহার করুন, চিনি সম্পূর্ণ ভাবে এড়িয়ে চলুন।  

আরও পড়ুনঃ অতিরিক্ত ওজন কমানোর ঘরোয়া উপায়

৫) সময়মতো ঘুমান এবং প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমান, পর্যাপ্ত এবং সময়মত ঘুম না হওয়ার কারণে আমরা স্থূলতার শিকার হই।

৬) গরম পানি পান করা শুরু করুন। সকালে ঘুম থেকে উঠে গরম পানির সাথে লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। লেবু পানি শরীরের মেদ কমাতে অত্যন্ত কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।

৭) সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন রোজা রাখুন অর্থাৎ সারাদিন না খেয়ে থাকুন, যদি ক্ষুধা বেশি অনুভুত হয় তাহলে পানি পান করুন।

৮) খাবার খাওয়ার সাথে সাথে পানি পান করবেন না। খাবার গ্রহন করার কমপক্ষে ৩০ মিনিট পর পানি পান করুন, তৃষ্ণা বেশি লাগলে একটু গরম পানি পান করুন।

৯) তৈলাক্ত বা তেলযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। খাবারে প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি, ফলমূল ইত্যাদি খান। খাবার খাওয়ার পর কাঁচা পেঁপে খান, পেটের মেদ কমাতে পেঁপে খুব উপকারী।

১০) প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে হালকা গরম পানির সাথে মধু মিশিয়ে পান করুন, স্থূলতা কমাতে মধু খুবই উপকারী। তবে ঠান্ডা পানির সাথে মধু মিশিয়ে পান করবেন না। ঠান্ডা পানির সাথে মধু মিশিয়ে পান করলে পেটের মেদ বেড়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ কিভাবে পেট ও কোমরের মেদ কমাবেন

শেষ কথা

পেটের মেদ কমানোর জন্য প্রথমেই ওষুধ গ্রহন না করে ঘরোয়া উপায় গুলো চেষ্টা করে দেখতে পারেন। তবে এই উপায়গুলো ম্যাজিকের মত দ্রুত আপনার পেটের মেদ কমাতে পারবে না। এগুলো অনুসরন করলে ধীরে ধীরে আপনার পেট স্বাভাবিক হয়ে যাবে। যে কোন ওষুধ গ্রহন করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন।

আর একটি বিষয় “৭ দিনে মেদ কমান বা ১৫ দিনে ভুঁড়ি কমান” এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে ওষুধ কিনে গ্রহন করা থেকে সম্পূর্ণ রূপে বিরত থাকুন। এই ধরনের ওষুধের অনেক ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। এর ধরনের ঔষধ গ্রহনের ফলে পরবর্তীতে অনেক ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান।

ধন্যবাদ

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment