মোবাইল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল বুস্টার কি

প্রযুক্তি আজকের দ্রুতগতির জীবনে নতুন বিপ্লব নিয়ে এসেছে। এটি শুধুমাত্র আমাদের জীবনকে সহজই করে দেয়নি, বরং মোবাইল বিপ্লবের কারণে আমরা পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তের খবর মুহূর্তের মধ্যেই পেয়ে যাই। বড় শহর গুলোতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার আমরা মোটামুটি ভালভাবেই করতে পারি, কিন্তু গ্রামে থাকা মানুষ এখনও নেটওয়ার্কের দুর্বল সিগন্যালের কারণে এই মোবাইল বিপ্লবের পূর্ণ সুবিধা নিতে পারছে না। সুতরাং এমন পরিস্থিতিতে, মোবাইল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল বুস্টার এই প্রযুক্তির পূর্ণ সুবিধা দিতে সক্ষম। কিন্তু আমরা প্রায়ই মানুষের কাছ থেকে অভিযোগ বা প্রশ্ন শুনে থাকি যে, মোবাইল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল বুস্টার কি সত্যিই কাজ করে?

দুর্ভাগ্যবশত, বাজারে পাওয়া অনেক মোবাইল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল বুস্টার বিজ্ঞাপনের মতো কাজ করে না। মনে রাখবেন যে, আপনার বাড়িতে বা অফিসে কল করার জন্য পর্যাপ্ত সংকেত শক্তি থাকলেই সিগন্যাল বুস্টার কাজ করবে। কোন সংকেত ছাড়া, কোন সেলফোন বুস্টার কাজ করতে সক্ষম হবে না।

মোবাইল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল বুস্টার কি

মোবাইল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল বুস্টার মূলত এমন একটি ডিভাইস যা মোবাইল নেটওয়ার্ক সিগন্যালকে বুস্ট করে আপনার কলিং কোয়ালিটি এবং ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধি করে। এটি মোবাইল সিগন্যালকে স্ট্রং করার তৈরি করা ডেডিকেটেড একটি ডিভাইস। এই ডিভাইস নতুন কোন সংকেত বা সিগন্যাল তৈরি করে না বরং মোবাইল টাওয়ার থেকে আসা সিগন্যালকে রিসিভ করে বুস্ট করে, তাই অত্যন্ত শক্তিশালী কমিউনিকেশন সম্ভব হয়।


এই ডিভাইস এর সাথে থাকা এন্টেনা এবং অ্যামপ্লিফায়ার ইউজ করে সিগন্যালকে বুস্ট করে, এর ফলে আপনার মোবাইলে আরো বেশি সিগন্যাল বার শো করে, আর আপনার কল ড্রপ এবং কম ইন্টারনেট স্পিডের সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করবেন।

মোবাইল নেটওয়ার্ক বুস্টার এর কাজ কি

সাধারন ভাষায় বলতে গেলে নেটওয়ার্ক বুস্টারের কাজ হলো যে সকল এরিয়াতে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেই সব এরিয়ার নেটওয়ার্ক সিগন্যাল কে বুস্ট করে শক্তিশালী করা। আরো সহজ কথায় বলতে গেলে মোবাইল নেটওয়ার্ক সিগন্যালকে শক্তিশালী করাই এই ডিভাইসের প্রধান কাজ।

আরও পড়ুনঃ প্রয়োজনীয় এবং অবাক করা ওয়েবসাইট ২০২১

মোবাইল সিগন্যালের শক্তি কমে যায় কেন

সাধারণত, আমরা গ্রামে বা প্রত্যন্ত অঞ্চলে কল ড্রপ এবং কম ইন্টারনেট স্পিডের মতো সমস্যা দেখতে পাই। যার প্রধান কারণ হল এই ধরনের এলাকায় মোবাইল টাওয়ার ঠিক মত পাওয়া যায় না অথবা টাওয়ার অনেক দূরে। অনেক গ্রামে কম জনসংখ্যার কারণে, মোবাইল কোম্পানিগুলি মোবাইল টাওয়ার স্থাপন করে না কারণ এতে তাদের লস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়াও, কিছু পুরনো ভবন প্রায়ই মোবাইল সিগন্যাল ব্লক করে। প্রকৃতপক্ষে, যে সব ভবন তৈরিতে কংক্রিট এবং ধাতু ব্যবহার করা হয়, সেই ভবন গুলো মোবাইল সংকেতকে দুর্বল করে দেয়। এই ঘটনাটি অনেক সময় শহরাঞ্চলেও ঘটে থাকে।

আপনি নিশ্চয় মোবাইল নেটওয়ার্ক ডেড জোন এই শব্দটি অনেক সময় শুনে থাকবেন, এটি বলতে মূলত এমন জায়গা গুলোকে বোঝায় যেখানে আপনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। কারণ সেই জায়গা গুলোতে কোন নেটওয়ার্ক সিগন্যাল থাকে না। সিগন্যাল না থাকার কারণে আপনি কোথাও যোগাযোগ করতে পারবেন না অর্থাৎ কল বা টেক্সট কোন কিছুই করা সম্ভব হবে না। বিশেষ করে আমাদের দেশের গ্রাম এলাকায় ডেড জোন বেশী থাকে, যেখানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক একদমই খুঁজে পাওয়া যায় না।

শহরের উঁচু উঁচু ভবন গুলো অনেকটা সিগন্যাল রিসিভ করে নেয়। আর আপনার বাসা যদি ঘনবসতির মধ্যে হয়, সেক্ষেত্রে বিল্ডিং এর সংখ্যা অনেক বেশি হবে, আর আপনার মোবাইলের সিগন্যালের সমস্যাও অনেক বেড়ে যাবে। মোবাইল সিগন্যাল বুস্টার ৪জি, ৩জি, ২জি- যেকোনো প্রকারের সিগন্যালকে বুস্ট করতে সাহায্য করে।

মোবাইল সিগন্যাল বুস্টার যেভাবে কাজ করে

সুতরাং এটা জানা খুবই ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হবে যে, কিভাবে একটি মোবাইল সিগন্যাল বুস্টার সিগন্যালের শক্তি বৃদ্ধি করে। একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যান্টেনা এবং একটি দ্বিমুখী সিগন্যাল বুস্টার সিস্টেমের সংমিশ্রণ ব্যবহার করে ডেটা এবং কল উভয়ের জন্য সিগন্যাল ক্ষমতা বাড়ানো যেতে পারে।

মোবাইল সিগন্যাল বুস্টার যেভাবে কাজ করে

সিগন্যাল বুস্টারের কাজ বোঝার জন্য, আমরা পুরো প্রক্রিয়াটিকে দুটি ভাগে ভাগ করতে পারি:

এই ব্যবস্থার প্রথম অংশ হল শক্তিশালী সিগন্যাল রিসিভ করা। প্রথমত, উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন অ্যান্টেনা, একটি দূরবর্তী বা দুর্বল সিগন্যাল রিসিভ করে একটি সিগন্যাল বুস্টারে পাঠায়। সিগন্যাল বুস্টার এই সিগন্যালের শক্তি বৃদ্ধি করে এবং মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিভাইস দ্বারা ব্যবহারের জন্য এটি প্রেরণ করে।

এই প্রক্রিয়াটির দ্বিতীয় অংশ হল, শক্তিশালী সংকেতটি আবার মোবাইল টাওয়ারে প্রেরণ করা। একটি সেল ফোনের ট্রান্সমিশন পাওয়ার সীমিত, এটি মূলত মোবাইল যোগাযোগের সবচেয়ে দুর্বল অংশ। এক্ষেত্রে দ্বিমুখী সিগন্যাল বুস্টার ব্যবহার করে, উচ্চ শক্তির সংকেতগুলিকে অনেক দুরের টাওয়ার পর্যন্ত সম্প্রচার করা যায়।

সুতরাং এইভাবে আমরা একটি মোবাইল বুস্টার দিয়ে আমরা মোবাইল নেটওয়ার্কের পূর্ণ সুবিধা নিতে পারি।

আরও পড়ুনঃ কম্পিউটার ভাইরাস কি? কম্পিউটার ভাইরাস প্রতীরোধের উপায়

মোবাইল নেটওয়ার্ক বুস্টার কেনার সময় যেসব বিষয় খেয়াল করবেন

সব সিগন্যাল বুস্টার সকল অপারেটরের ক্ষেত্রে কাজ করে না। অর্থাৎ সিগন্যাল বুস্টার কেনার সময় প্রথমে চেক করে দেখুন, সেটি আপনার নির্দিষ্ট অপারেটরের মোবাইল সিগন্যালকে সাপোর্ট করে কিনা। অনলাইন থেকে যদি নেটওয়ার্ক বুস্টার কেনেন তাহলে তাদের প্রোডাক্ট ডিটেইলসে দেখে নেবেন, যে বুস্টারটি আপনার কাঙ্ক্ষিত অপারেটর সাপোর্ট করে কি না।

বুস্টার কেনার পরে সেটাকে এমন জায়গায় ইন্সটল করতে হবে, যেখানে মোটামুটি ভালো মোবাইল সিগন্যাল টাওয়ার থেকে রিসিভ হয়। আপনার যতটুকু বুস্টেড কভারেজ প্রয়োজন, সেই অনুসারে আপনাকে নেটওয়ার্ক বুস্টার কিনতে হবে।

শেষ কথা

আপনার মোবাইলে বা এরিয়াতে কি নো সিগন্যাল বা দুর্বল নেটওয়ার্ক সিগন্যালের প্রব্লেম রয়েছে ? আপনার বাসা থেকে মোবাইল অপারেটরের টাওয়ার কাছাকাছি হওয়ার পরেও কি ঠিক মত নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন না? আপনার রুমের বাইরে ফোনে Network আছে কিন্তু রুমের ভেতর Network পাচ্ছেন না ? ইন্টারনেট স্পিড একদম কম পাচ্ছেন ? বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ইউজ করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশ বিদেশে অডিও বা ভিডিও কলে কথা বলতে প্রব্লেম হচ্ছে ? তাহলে আপনি মোবাইল নেটওয়ার্ক বুস্টার ব্যবহার করে দেখতে পারেন। আজকের আর্টিকেলে আমরা মোবাইল নেটওয়ার্ক বুস্টার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আর্টিকেলটি নিয়ে যে কোন ধরনের প্রশ্ন বা মন্তব্য থাকলে কমেন্ট সেকশনে জানান। ধন্যবাদ

Share on:

আমি অঞ্জন, এই সাইটটির প্রতিষ্ঠাতা। এই ব্লগে টিপস & ট্রিকস, অনলাইন ইনকাম, কম্পিউটার সমস্যা সমাধান সহ আরো অনেক কিছুর উপর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য দেওয়া হয়।

Leave a Comment